আপনার সন্তানকে এই ১০ ধরণের কথা বলা থেকে বিরত থাকুন

‘মা যেমন মেয়ে তেমন।’ সন্তান কেমন ধরণের হবে তা নির্ভর করে পিতামাতার আচরণের উপর ভিত্তি করে। বাবা-মা যেমন আচরণ করবে সন্তানের সাথে, ঠিক তেমন মানসিকতার তৈরি হবে সন্তান। আসলে, আমাদের সমাজে সন্তান পালনের বেশিরভাগ দায়িত্বগুলো মায়েদের পালন করতে হয়। তবে বাবার আচরণও সন্তানের উপর প্রভাব পড়ে। আর সন্তানের কিছু প্রকৃতিগত আচরণ তো বাবা-মায়ের জেনেটিক কারণেই পেয়ে থাকে। প্রতিটি সন্তানকে ভীষণ যত্নের সহিত লালন-পালন করতে হয়। সন্তান সঠিকভাবে লালন-পালন করা খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিছু ভুল করে ফেলি আমরা তাদের লালন পালনের ক্ষেত্রে, যা পরবর্তীতে খুব একটা ভালো প্রভাব পড়ে না সন্তানের উপর। চলুন, আজ জেনে নিই কমন কিছু ভুল যা আমরা সন্তান পালনের ক্ষেত্রে করে থাকি।

সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে বলি, সবসময় বড়দের কথা শুনতে হয়। এই কথাটি আসলে সন্তানকে বলা উচিত না। এই কথাটির ফলে বাচ্চারা অনেক সময় না বুঝেই অপরিচিত কারো কথাও মেনে নিতে পারে, যা বাচ্চাটির ক্ষতির কারণও হতে পারে। আজকাল বাচ্চা কিডন্যাপ তো খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এমন কেউ তাকে কোথাও নিয়ে যেতে চায় খুব সহজেই সে রাজি হয়ে যাবে। কারণ আপনি বলেছেন, বড়দের কথা শুনতে হয়। ভাবুন তো, কত বড় বিপদ হতে পারে এই কথাটি সন্তানকে বলার ফলে! তাই এভাবে না বলে বলুন, বাবা-মায়ের কথা সবসময় শুনতে হয়।

কান্না বন্ধ করো

বাচ্চারা অনেকসময় কান্নাকাটি করে থাকে। আমরা তার কথা না শুনেই ঝাড়ি দিয়ে বলি, ‘কান্না বন্ধ করো’। এভাবে না বলে আমরা তার কাছে গিয়ে আদরের সহিত বলতে পারি, কী সমস্যা তোমার, আমাকে বলো। যদি কোনো ভুল করেও থাকে, তবুও সে আপনাকে বলতে দ্বিধা করবে না। সন্তানের কাছে নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তাকে বিশ্বাস করাতে হবে- যাই হোক না কেন, তুমি নির্দ্বিধায় আমাকে বলতে পারো। যদি আপনি ধমক দিয়ে কান্না বন্ধ করতে বলেন, সে হয়তো চুপ হয়ে যাবে। কিন্তু নিজের ভেতর সে নিজেকে গুটিয়ে নিবে। আর এভাবে হয়তো কোনো বড় ধরণের সমস্যাও আপনার অজানাই থেকে যাবে। তাই সন্তানের কান্নার কারণ জানতে চেষ্টা করুন।

অন্যের সাথে তুলনা

বাবা-মায়ের সবচেয়ে কমন ভুল হলো, ‘তুলনা করা’। আমরা আমাদের সন্তানকে সবসময় অন্যের সাথে তুলনা করে থাকি। ‘দেখো, ও কতো নাম্বার পেয়েছে আর তুমি কতো নাম্বার পেয়েছো’; ‘ওর আচরণ কতো ভালো আর তোমার আচরণ মোটেও ভালো না’। এমন কথাগুলো আমরা প্রায়ই সন্তানকে বলি। আসলে কখনো কারো সাথে তুলনা করা উচিত নয়। এই তুলনা করার ফলে বাচ্চার হিংসাত্মক মনোভাব তৈরি হয়ে যায়। সে অপরজনকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করে। এতে করে সে পরবর্তী সময়ে নিজের প্রতি আস্থা ও ধীরে ধীরে শেষ আত্মবিশ্বাসটুকুও হারিয়ে ফেলে। তাই আপনার সন্তানের প্রতিভা সম্পর্কে জানুন, আর সেই অনুযায়ী তাকে মোটিভেট করুন সামনে এগিয়ে যেতে। অন্যের সাথে তুলনা করে নয়।

কর্তৃত্ব খাটানো

আমরা আমাদের সন্তানের কর্তৃত্ব নিজের কাছে রেখে দেই। তার সব বিষয়ের যত সিদ্ধান্ত আমরা বাবা-মা নিয়ে থাকি। তার মতামতের কোনো মূল্য দেই না। তাকে আমাদের সিদ্ধান্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য করি। আমরা ভাবি, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। আসলে এটা ভুল ধারণা। ওদের কাছে জিজ্ঞেস করে আমরা যদি সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে সে খুব সহজেই সেটা মেনে নিবে। তাকে যদি বলি, ‘আমরা তোমার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তটা নিতে চাচ্ছি, তুমি কী বলো?’ সে তখন এটার ব্যাপারে আরো কিছু নতুন  আইডিয়া যোগও করতে পারে অনায়াসেই।

প্রশংসা না করা

সন্তানের ভালো কাজের প্রশংসা করতে হবে পিতামাতার। প্রতিটি বাচ্চাই আলাদা আলাদা গুণের অধিকারী, তাদের সবধরনের ভালো কাজগুলোর প্রশংসা করতে হবে। এতে করে সে আরো বেশি বেশি ভালো কাজ করার জন্য নিজেকে তৈরি করবে। কিন্তু আমরা গার্ডিয়ানরা ভাবি, তার প্রশংসা করলে সে আর ভালো কাজ করবে না বা তার সামনাসামনি প্রশংসা করা ঠিক না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বরং প্রশংসা করলে সে আরো ভালো কাজ করার প্রতি অনুপ্রেরণা পাবে।

কে শিখিয়েছে এসব

অনেক সময় বাচ্চারা খারাপ কিছু বললে বা করলে আমরা বলি, ‘এটা তোমাকে কে শিখিয়েছে?’ এমন কথা বাচ্চাদের মোটেও বলা উচিত নয়। এমন কথা বললে বাচ্চার মনে এটা ধারণা জন্মাবে যে, খারাপ কাজের দোষ অন্যের উপর চাপানো যায়। এরপর থেকে সে ভুল করলে, খুব সহজেই নিজের দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দিবে। তাই এমনটা বলা থেকে বিরত থাকুন।

নিরপেক্ষতা বজায় না রাখা

বাচ্চারা যখন বাহিরে খেলাধুলা করে, প্রায় সময়ই তারা মারামারি করে থাকে। আর বিচার তো নিয়ে আসবেই কান্না করতে করতে। এক্ষেত্রে আপনাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। আপনি আপনার সন্তানের দোষ না হলেও তাকে বকবেন না। আবার আপনার সন্তানের দোষ থাকা স্বত্বেও আপনি অন্যের সন্তানকে বকবেন না। আপনি নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে এতে করে আপনার সন্তানের উপর খারাপ প্রভাব পড়বে।

অনেক বেশি নিরাপত্তামূলক

আমরা সবাই আমাদের সন্তানকে ভালোবাসি। তাকে কোনো অবস্থাতেই কষ্ট দিতে চাই না। যার ফলে বাবা-মা অনেক বেশি প্রটেক্টিভ হয়ে যায় নিজের সন্তানের ক্ষেত্রে। এটা ঠিক নয়। অতিরিক্ত কেয়ার তাকে অলস করে দিবে, সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিখবে না। সন্তানকে মাঝে মাঝে নিজেই স্কুলে বা খেলতে যেতে দেওয়া উচিত। এতে করে সে বাহিরের কঠিন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নিতে শিখবে।

ভয় দেখানো

আমরা বাচ্চাদের নিয়ে যখনই আত্মীয় স্বজনের বাড়ি বা কোথাও বেড়াতে যাই, সেখানে বাচ্চা কোনো ভুল করলে তাকে বলি, ‘চলো বাসায়, আজকে তোমার খবর আছে’। এমন কথা বলা উচিত নয়। এতে করে সে বাড়িটাকে খুব একটা পছন্দ করবে না। সে ভয়ে ভয়ে থাকবে সবসময় যে, বাড়িতে গেলেই তো বকাঝকা শুনতে হবে। তাই ভুলেও বাচ্চাদের এমন কথা বলা ঠিক নয়।

প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া

বাচ্চারা ভীষণ কৌতূহলী স্বভাবের থাকে। প্রায় সময়ই নানান কিছু জানতে চায় বাবা-মায়ের কাছ থেকে। আমাদের তাদেরকে ধমক না দিয়ে, প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া উচিত। আর যদি তার প্রশ্নের উত্তর না জানা থাকে, তাহলে তাকে পরে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করুন। ধমক দিয়ে হতাশ করবেন না। এটা বলা যাবে না যে, তুমি তো ছোট, বড় হলে জেনে নিও। এমনটা না বলে বলতে হবে, চলো একসাথে দেখি বা জানি।

এই ভুলগুলো আমরা সচরাচর করে থাকি সন্তান পালনের ক্ষেত্রে। আসলে এই ভুলগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। চলুন, আজ থেকে নিজের সন্তান পালনের ক্ষেত্রে আরো বেশি সচেতন হই।

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালনে কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশন সচিবের সংগে মতবিনিময় করলেন ঢাকাস্থ রামু সমিতি

বঙ্গবন্ধু বাংলার সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কথা ভাবতেন : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় কুমিল্লার শাহজালাল চ্যাম্পিয়ন

বাংলাদেশ কমিউনিটি মেটস প্রবাসীদের ১লা বৈশাখ উদযাপন

চকরিয়ায় পাওনা টাকা দাবির জেরে বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর, আহত ৬

ইউজিপি-থ্রি প্রকল্প পরিচালকের কলাতলী – মেরিন ড্রাইভ চলমান কাজ পরিদর্শন

দারুল আরক্বম তাহফীযুল কুরআন মাদরাসার সবিনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আলোকিত উখিয়ায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

আদালতের আদেশনামা গোপন করে শপথ নিয়েছে জমিরী- রফিক উদ্দীন

জেরায় বিমর্ষ সোনাগাজী থানার সেই ওসি মোয়াজ্জেম

পেকুয়ায় শরতঘোনা পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন

পেকুয়ায় মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে হত্যাচেষ্টা

চকরিয়ায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থদের উপজেলা প্রশাসনের আর্থিক সহায়তা

কিশলয় বালিকা স্কুলে দুর্নীতি বিরোধী বির্তক প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা

প্রবাসীদের আত্মকথা

সৈকত আবাসিক এলাকার প্লট অ-আবাসিক/বাণিজ্যিক অনুমতি নীতিমালা প্রণয়ন সভা

প্রচন্ড দাবদাহে জনজীবনে নাভিশ্বাস

কক্সবাজারে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ

রামুতে পালিত হয়েছে বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস