ডাকসু নির্বাচনের মূল্যায়ন ও চাকসুসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া

আব্দুল্লাহ আল নোমান
গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো মিনি পার্লামেন্ট নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হওয়া এই ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনগণ ও গণমাধ্যমের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি ছিল না। পাশাপাশি দেশের অন্য সব  বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোও থাকিয়ে ছিল ডাকসু নির্বাচনের দিকে। পত্র-পত্রিকা, টেলিভিশনের টকশো থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গাতেই ডাকসু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। প্রায় সব আলোচনাতেই একটা প্রশ্ন সবার মাঝে ঘুরেফিরে এসেছে ডাকসু নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে কিংবা আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা। অবশেষে ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল, তবে আমাদের সবার মনে প্রশ্ন জেগেছে আসলে ডাকসু আমাদের কি শিক্ষা দিল? ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যে আশার আলো টিমটিম করে জ্বলছিল সেই আশার প্রদীপটিও এবার নিবে গেল!!!!
এখানে বলা বাহুল্য জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং ডাকসু নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মাঝে একটা বিরাট তফাৎ আছে। ডাকসুতে যারা ভোটার ছিলেন তারা সবাই সচেতন, শিক্ষিত ও মার্জিত রুচির অধিকারী। অপরপক্ষে ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা দেশের মেধাবী ছাত্রদের অভিভাবক সমতুল্য শিক্ষক। মাত্র তেতাল্লিশ হাজারের কিছু বেশি ভোটার নিয়ে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে এবং কোনোরকম ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করা তেমন কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল না। শিক্ষকরা যে দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী হোন না কেন (কারণ শিক্ষকের কাছে সব ছাত্রছাত্রী সমান) শিক্ষকদের উচিত ছিল তাদের দিকে যেন কোনো অভিযোগের আঙুল তেড়ে না আসে সেদিকে আগে থেকেই নজর দেয়া। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি, রাতে হলে হলে ব্যালেট পেপার নিয়ে যাওয়া,অস্বচ্ছ ব্যালট, ও সিল মেরে রাখার অভিযোগে কুয়েত-মৈত্রী হলে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় সহ-উপাচার্য ও প্রক্টর মহোদয়কে। এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে স্বয়ং দেশের শিক্ষক সমাজ বিব্রতবোধ করছেন। বিশিষ্ট কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনিভাবে ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমরা যে উচ্চ নৈতিকতার কথা বলতাম সেটি আর থাকল না।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। লেখার মূল কারণ হলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অতীতে যোগ্য, ত্যাগী ও আদর্শ নেতৃত্ব পেয়েছি। দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার ফলে আমাদের দেশ যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পত্রিকায় অনেককে লিখতে দেখেছি যে তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগটা এভাবেই নষ্ট হয়েছে।
গত নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য বেশি। তরুণেরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আসতে পারছে না বলে এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কিন্তু নেতৃত্ব তৈরির সর্বশেষ যে আশার আলো ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আশা করেছিলাম তা আবারো ব্যাপক কারচুপি, মারামারি ও ভোটের আগেই ব্যালট ভর্তি করে রাখার মতো নানান অভিযোগ ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করার মধ্য দিয়ে হতাশা করল দেশের সব নাগরিককে। এই ডাকসু নির্বাচনের প্রক্রিয়া,চাকসু নির্বাচনসহ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে আলাদা কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা তা ভাবতে হবে নতুন করে।।
যে ডাকসু হার মানেনি বায়ান্ন, উনোসত্তর, একাত্তরে কিংবা আশির দশকে। আইয়ুব, ইয়াহিয়া কিংবা সামরিক জান্তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে খেলার দুঃসাহস দেখান নি। ভিসি সহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগীতায় সেই ডাকসুতে জয় হলো ভোট লুঠেরাদের। জয় হলো এক কলঙ্কময় ইতিহাসের।।
এখন কথা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি সহ ডাকসুর নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ন্যায় চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত ভিসি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা চাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে সেই কলঙ্কময় ইতিহাসের সাক্ষী হবেন নাকি ক্যাম্পাসে সকল ছাত্র-সংগঠনের সহ অবস্থান নিশ্বিত করে কোনোরকম ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করবেন?সেইটা এখন দেখার বিষয়।।
আব্দুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।।

সর্বশেষ সংবাদ

ভারুয়াখালীর শফিক চেয়ারম্যানের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

শ্রীলঙ্কায় নিহত বেড়ে ৩৫৯

তারেকের বন্ধু মামুনের ৭ বছরের কারাদণ্ড

এসময়-অসময়

ইয়াবাবাজদের ‘আজরাইল’ ওসি প্রদীপ নিজ জেলাতেও সেরা হয়েছেন

চলে গেলেন সফল পিতা মনির আহমদ

ডা: আব্দুন নুর বুলবুলের স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল

হায়রে জীবন-কোথাই মানবাধিকার!

ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে মৃত ভেবে ফেলে গেলো ছিনতাইকারীরা

আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিচ্ছে কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শাকিলা ইয়াসমিন

মাদকদ্রব্য পাচার রোধে বিশেষ উদ্যোগ

দুর্ঘটনায় সংজ্ঞাহীন নারী জেগে উঠলেন ২৭ বছর পর

রানা প্লাজা: ৬ বছরেও কূল-কিনারা হয়নি মামলার

সৌদিতে একদিনে ৩৭ জনের শিরশ্ছেদ

মিয়ানমারে কাদায় তলিয়ে নিহত ৫০

নেই দৃশ্যমান ব্যবসা, তবু কোটিপতি!

টেকনাফে ফুটপাত জবরদখল

সমবায় কর্মকর্তা জহির আহমেদ আর নেই

কাউয়ারখোপের মনির মেম্বার আর নেই : বুধবার আড়াইটায় জানাজা

মেরিনড্রাইভে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত