cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজলা পরিষদ নির্বাচনে সোমবার ১৮ মার্চ ভোট গ্রহন করা হবে। চকরিয়া উপজেলায় আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল করিম সাঈদী আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহনের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বলে রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের ষ্টাফ অফিসার শিমুল শর্মা সিবিএন-কে জানিয়েছেন। চকারিয়া উপজেলায় মোট ১৮ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্র রয়েছে ৯৯ টি। ভোট কক্ষ রয়েছে ৬৩৪ টি। ভোটার রয়েছে মোট ২৮৪৫৫৫ জন। তারমধ্যে পুরূষ ভোটার ১৪৮৯০৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১৩৫৬৫০ জন। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রের জন্য একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ১৫ জন অতিরিক্ত প্রিজাইডিং অফিসারকে যেকোন সময় দায়িত্বপালনের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে স্টেনবাই রাখা হয়েছে।সোমবার সকাল ৮ টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত প্রত্যেক কেন্দ্রে ভোট গ্রহন করা হবে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মোহাম্মদ মোজাফফর জানান ইতিমধ্যে ব্যালট পেপার, ভোট বাক্স, সীল, অমোচনীয় কালি, কলম, স্টাম্প প্যাড, বিভিন্ন ফরম, ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার যানবাহন সহ ভোট গ্রহনের জন্য আনুসঙ্গিক সকল দ্রব্য সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে কেন্দ্রভিত্তিক বন্ঠন পূর্বক মজুদ করে রাখা হয়েছে। রোববার সকাল ১০ টা থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের দায়িত্বে স্ব স্ব ভোট কেন্দ্রের জন্য মালামাল সরবরাহ দেয়া হবে। কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শিমুল শর্মা জানান-উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ মোট ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দায়িত্বপালনের জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চকরিয়া চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেবকে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নির্বাচনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে নির্বাচনী অপরাধ ও অভিযোগ সমুহ আমলে নিয়ে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে দোষী প্রার্থীদের জরিমানাও করেছেন। নির্বাচনে পুলিশের পাশাপাশি ২০ প্লাটুন বিজিবি ও দুই প্লাটুন র‍্যাব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোববার সকাল থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করবেন। শনিবার রাত থেকেই চকরিয়ার সর্বত্র মোটর সাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে অত্যাবশ্যকীয় যানবাহন ছাড়া অন্য সকল প্রকার যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখা হবে। পাশ পাওয়া গণমাধ্যম কর্মী, পর্যবেক্ষক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যান্যরা ভোট কেন্দ্র এলাকায় যেতে পারবেননা। কক্সবাজার, লামা, আলীকদমে বেড়াতে আসা পর্যটকদের রোববার রাত থেকে সোমবার পর্যন্ত যতদূর সম্ভব চকরিয়া উপজেলার ভৌগলিক এলাকা এড়িয়ে যেতে নির্বাচন কমিশন থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নির্বাচন গ্রহনের দিন সোমবার চকরিয়া উপজেলায় সাধারণ ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে। এ দিন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ও অত্যাবশ্যকীয় অফিস ছাড়া সকল সরকারী, বেসরকারি, আধাসরকারী, স্বায়তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এদিকে নির্বচনে কোন ধরনের গোলযোগ সৃষ্টির চেষ্টা, সন্ত্রাস, পরিবেশকে অশান্ত করতে চাইলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে উল্লেখ করে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান-নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী কোন পক্ষকে বিন্দু পরিমাণ প্রভাব বিস্তার করতে সুযোগ দেয়া হবেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন-অত্যন্ত শান্তিপুর্ণ, ভীতিমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট গ্রহন করা হবে ইনশাল্লাহ। চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল আহমেদ জানান-চকরিয়া উপজেলার সর্বত্র শনিবার সন্ধ্যা থেকেই নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •