cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, সমুদ্র বিজয়ের পর সমুদ্র উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের গবেষণার মাধ্যমে এ সম্পদের ব্যবহার, ও পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশের গড়ার প্রত্যয় সহ নানা বিষয় নিয়ে কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ উদ্ভিদ বিজ্ঞান সমিতির বার্ষিক সম্মেলন। গতকাল শনিবার (১৬ মার্চ) কলাতলী ওয়ার্ল্ড বীচ রিসোর্টে আয়োজিত এই সম্মেলনে গবেষনাধর্মী প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছেন কক্সবাজারের কৃতি সন্তান আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. আনসারুল করিম। এছাড়াও তিনি এই সম্মেলনের প্রধান নীতি-নির্ধারকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এসময় প্রফেসর ড. আনসারুল করিম বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু উদ্ভিদের উন্নয়নে সে হারে আগানো সম্ভব হয়নি। আশঙ্কজনক হলেও সত্য যে, বাংলাদেশে এখনো বনভূমির পরিমাণ অতি নগণ্য। কিন্তু উন্নয়নতো হচ্ছে না উপরস্তু আরো বনভূমি ধ্বংস করা হচ্ছে। এই মাত্রা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই সুষ্ঠু ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের উদ্ভিদ বিজ্ঞানের উন্নতি করতে হবে।


অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর সচিব এন.এম জিয়াউল আলম বাংলাদেশের পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় চ্যানেল আই এর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। গবেষণার সাথে তথ্য প্রযুক্তি একটি প্রয়োজনীয় বিষয়। গবেষণার সাথে তথ্য প্রযুক্তি সংমিশ্রণে এগিয়ে যাবে দেশ এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

স্বাগত বক্তব্যে বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান জানান, বাংলাদেশ ৬ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, এর মধ্যে ৩০০ প্রজাতি বিদেশ থেকে আনা হয়েছে। ৮ টি প্রজাতি একান্তভাবেই বাংলাদেশের স্থানীয়। সম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সমুদ্র বিজয় বড় অর্জন। সমুদ্র উদ্ভিদ বিজ্ঞানীগণ তাদের গবেষণা কর্মকা-ের মাধ্যমে এ বিশাল সমুদ্র সম্পর্কে দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে বলে সম্মেলন থেকে আশা প্রকাশ করা হয়।

উদ্ভিদ এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা দেশের সম্পদ আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠাানের বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিএলামনাই এসোসিয়েশন এর জীবন সদস্য নুরুল হক চৌধুরী বলেন, কৃষিতে অনেক বড় সাফল্য এসেছে। আজ যে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে তা উদ্ভিদ বিজ্ঞানীদের অবদান।


অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, গাছ পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় পরিবার থেকে শিক্ষা দিতে হবে। আমাদের চারপাশের যে পরিবেশ প্রকৃতি আছে তা রক্ষায় সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।
একদিনের এই সম্মেলনে ৮৪ টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এসব গবেষণায় নানা বিষয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়গুলো উত্থাপন করা হয়।

গবেষণা আর প্রযুক্তির সংমিশ্রণে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশ বোটানিক্যাল সোসাইটির সভাপতি ড, এম, এ, গফুর বলেন, ৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ৭৪ খাদ্য সংকট হয়েছে। কিন্তু আজ দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, কমেছে জমির পরিমান, আজ খাদ্যের কোন সংকেট নেই। এর এক মাত্র কারন এ দেশের উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ১৫০ জন উদ্ভিদ বিজ্ঞানী তাদের নানা দিক তুলে ধরেন সম্মেলনে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •