cbn  

শাহেদ মিজান, সিবিএন:

তৃতীয় ধাপের পরিষদ নির্বাচনের আওতায় আগামী ২৪ মার্চ মহেশখালী উপজেলা পরিষদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। অন্য উপজেলার মতো এই উপজেলাতেও চেয়ারম্যান পদে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার কেউ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের তিনজন। আরো এক প্রার্থী থাকলেও তাকে মাঠেই দেখা যাচ্ছে না।

আওয়ামী লীগ ঘরানার তিনজনের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহিম দলের মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী। উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শরীফ বাদশা ও উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাজেদুল করিম এখন ভোটের মাঠে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে এই তিনজনের মধ্যে পিছিয়ে রয়েছে সাজেদুর করিম। হোসাইন ইব্রাহিম ও শরীফ বাদশা রয়েছেন মূল লড়াইয়ে। উপজেলা জুড়েই এই দুইজনকে নিয়ে চলছে ভোটের সমীকরণ!

সমীকরণ মতে, হোসাইন ইব্রাহিম আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে তার একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তার সাথে উত্তর মহেশখালীর একমাত্র প্রার্থী তিনি। ভোটের ‘আঞ্চলিকতা’ হিসেব করলেও তিনি দু’ভাবেই এগিয়ে। উপজেলার হোয়ানক, শাপলাপুর, নিজের এলাকা কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি ও ধলঘাটা ইউনিয়ন হোসাইন ইব্রাহিমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবুও তিনি উপজেলার জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে শরীফ বাদশা ও সাজেদুল করিম; দুজনই বড়মহেশখালীর বাসিন্দা। সেখানে দক্ষিণ মহেশখালীর পৌরসভা ও তিন ইউনিয়ন নিয়েই হচ্ছে তাদের ভোটের সমীকরণ। সে হিসাবে শরীফ বাদশা নিয়ে অন্য চিত্র দেখছেন ভোটাররা। অনেক ভোটারের দাবি, শরীফ বাদশা পুরো উপজেলা থেকে ভোট টানতে পারবেন। তা হলেই কিন্তু হোসাইন ইব্রাহিমের লড়াই করতে পারবেন। তবে সেটা এখনো তেমন স্পষ্ট হয়নি। এখনো ভোটের পাল্লা হোসাইন ইব্রাহিমের দিকেই ভারি দেখা যাচ্ছে।

মাঠের জনশ্রুতি মতে, হোসাইন ইব্রাহিম আপাদামস্তক একজন সৎ ও সহজ-সরল মানুষ। তিনি বিগত পাঁচটি বছর অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনোভাবেই কারো ক্ষতি করেননি। মানুষকে শান্তিতে রাখতে চেষ্টা করেছেন। যতটুকু পেরেছেন উন্নয়ন করেছেন। যদিও উন্নয়নকে অনেকে অপ্রতুল দাবি করছেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে হোসাইন ইব্র্রাহিমের এই সরলতাকে ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা।

খবর নিয়ে জানা গেছে, শরীফ বাদশা নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলছেন, হোসাইন ইব্রাহিম অনেক ভালো মানুষ। নামাজ-কালামসহ ইবাদত করেই কাটে অধিকাংশ সময়। কিন্তু তাকে উপর অর্পিত দায়িত্বওতো পালন করতে হবে। কিন্তু বিগত পাঁচটি বছর কোনো দায়িত্বই পালন করেননি। শুধু উপজেলায় এসেছেন আর গেছেন। মানুষ তার গাড়ি দেখেছে কিন্তু তার দেখা পায়নি। এমন ‘ভালো মানুষ দিয়ে মসজিদের ইমামতি হয়, জনপ্রতিনিধিত্ব হয় না’। এমন মানুষকে আর ক্ষমতায় চায় না মহেশখালীর মানুষ।

হোসাইন ইব্রাহিম বলছেন, তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ ‘মনভোলানো’ কথা। তিনি গত পাঁচ বছরে নানাভাবে পুরো উপজেলায় বিভিন্ন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করেছেন। সব দিক বিবেচনায় মহেশখালীর মানুষ আবারো আমাকে ভোট দেবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •