ফরিদুল আলম দেওয়ান, মহেশখালী:

মহেশখালীতে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ফিসিং ট্রলারের এক যুবক খুন হয়েছে। আঘাতের বেশ কিছু চিহ্নসহ রক্তাক্ত ওই যুবকের লাশ স্থানীয় প্রশাসনকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে দাফন করা হয়েছে।

নিহত যুবকেরর নাম রুবেল (৩৫)। সে উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের অফিস পাড়া গ্রামের মৃত বাদশার পুত্র।  ঘটনাটি ঘটেছে ১১ মার্চ সোমবার বিকাল ৫ টায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ জানাজার নামাজের পর পর ৩ লাখ টাকার বিনিময়ে উক্ত ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার জন্য নিহতের পরিবারকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে নিয়ে উভয়পক্ষ থেকে কাগজে সই নিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় চলছে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া।

ঘটনা বিবরণে জানা যায়, কালারমারছড়া ইউনিয়ের নুনাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম প্রকাশ কালাইন্যা বহদ্দারের মালিকানাধীন একটি মাছ ধরার ট্রলারে অফিস পাড়া গ্রামের বাদশা মিয়ার পুত্র রুবেল ও ট্রলার মালিকসহ ১৬ জন জেলে গত ৮ দিন পূর্বে সাগরে মাছ ধরতে যায়। সাগরে মাছ ধরা অবস্থায় মাছ চুরি করে বিক্রি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রলারের মালিক সহ অন্যান্যরা রুবেলকে ব্যাপক মারধর করে। মারধরে রুবেলের মৃত্যু ঘটে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান।

গত ১১ মার্চ সকালে ট্রলার মালিক রুবেলে লাশটি তার নিজ বাড়ীতে  নিয়ে গিয়ে সে ডায়রিয়ায় মারা গেছে বলে প্রকাশ করে। কিন্তু তার শরীরের অবস্থা দেখে এলাকার নারী-পুরুষরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নিহতের শরীরে বেশ কিছু অাঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং নাকে মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এ নিয়ে এলাকায় চলছে টান টান উত্তেজনা সহ ট্রলার মালিকের বিরুদ্ধে সমালোচনা। নিহতের বাবা মারা গেছে অনেক পূর্বে।

তার মা এবং স্ত্রী রয়েছে। স্থানীরা জানান, অসহায় এ পরিবারটির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানী প্রভাবশালী লোকজনের সহায়তায় টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়া হয়েছে। এদিকে ট্রলারের মালিক আবুল কালাম প্রকাশ কালইন্যা ও মাঝি অাবছারের নিকট থেকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা মোবাইল বার বার কেটে দেয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয় নি। প্রতিবেশীরা জানান, ট্রলার মালিক নিহতের স্ত্রী ও মাকে থানায় না যেতে জিম্মী করে রেখেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •