cbn  

বিশেষ প্রতিবেদক :

কক্সবাজার জেলা শহরে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের নামে সড়কগুলোর ফলক মুছে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার জোরালো প্রস্তাব উঠেছে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়। এছাড়া সভায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের অব্যবস্থাপনাও নিয়ন্ত্রনর লক্ষ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহন করার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পায়। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এসব সিদ্ধান্তসহ আরো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার শহরের অলিগলিতে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের নামে নামকরণ হওয়া সড়ক-উপসড়কগুলোর নাম মুছে মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করার দাবী উঠে সভার শুরুতে। পাশাপাশি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের নানা অব্যস্থাপনা ও অনিয়মের আলোচনাও উঠেছে আছে আইনশৃঙ্খলা কমিটির এই সভায়। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্ণীতি হচ্ছে বলেও জানানো হয় সভায়। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার শুরুতে স্বাধীনতার মাস উপলক্ষে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে হাসপাতালের অব্যস্থাপনা ও রাজাকারারের নামে থাকা সড়কের নাম পরিবর্তন করে মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের নামে করণের বিষয়ে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি করা হয়।

এছাড়া সভায় জনসাধারণ চলাচলের সুবিধার জন্য শহরে প্রধান সড়কের দু’পাশে অবৈধভাবে দখলকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার সিন্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার আগে পৌরসভার পক্ষ থেকে কয়েকদিন মাইকিং করে সড়কের দু’পাশে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দখলকারীদের নিজ দায়িত্ব সরিয়ে যেতে বলার নির্দেশনা দেয়ার কথাও বলা হয়। পাশাপাশি শহরে চলাচলরত টমটম (ইজিবাইক) এর রঙ করণ ও চালকদের পরিচয়পত্র প্রদানসহ কাজের মান অগ্রগতি হওয়ায় মেয়রকে ধন্যবাদও জানানো হয়েছে সভা স্থল থেকে।

সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা, যানজট সমস্যা সমাধান, রোহিঙ্গা সমস্যার কারনে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জন্মনিবন্ধন খুলে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক, মানবপাচার, পরিবেশ সংরক্ষণসহ ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •