cbn  

ইমাম খাইর, সিবিএন:
দাতা সংস্থার অনুদান বন্ধ ও ডাক্তার সংকটের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) ও করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)। চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ এই দুইটি বিভাগ বন্ধ হওয়ার সংবাদে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরী হয়েছে।
জাপানের জাইকার অর্থায়নে ২০১৬ সালের ২৪ মে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় স্থাপিত হয় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) বা নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। ৪০ জন প্রয়োজনীয় জনবলের স্থলে মাত্র ২ জন চিকিৎসক এবং ৪ নার্স দিয়ে কোন রকম চলছিল ৬ শয্যার আইসিইউ। কিন্তু যাত্রার মাত্র দুই মাসের মাথায় ডাক্তার ও নার্স সংকটে থমকে দাঁড়ায় কার্যক্রম। বন্ধ থাকে রোগি ভর্তি। তবু এতদিন নামেমাত্র ছিল জেলার ২৪ লাখ জনগণের এই হাসপাতালের আইসিইউ।
একইভাবে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবী, প্রত্যাশা ও কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতায় ২০১৮ সালের ২৭ আগষ্ট চালু হয় ৪ বেডের করোনারী কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ)। হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিকভাবে সিসিইউতে ৩ জন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ৪ জন মেডিকেল অফিসার এবং ৮ জন সেবিকা (নার্স) নিয়োগ দেয়া হয়। বিকিৎসক ও অর্থ সংকটে যাত্রার ৬ মাসের মাথায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে কাঙ্খিত সিসিইউ।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোহাম্মদ শহীন আবদুর রহমান চৌধুরী কক্সবাজার নিউজ ডটকম (সিবিএন)কে জানান, জাপানের জাইকার অর্থায়নে আইসিইউ ও সিসিইউ স্থাপিত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও সৌদি সরকারের সহায়তায় ২৫ জন চিকিৎসক, ৪১ জন নার্স এবং ২১ জন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারী থেকে সিসিইউ-এর সেবা কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। তবু কর্মরতরা গত এক সপ্তাহ ধরে বিনা বেতনে সেবা দিয়ে আসছে।
তিনি জানান, আর্থিক সহায়তা না পেলে আগামী সপ্তাহে সিসিইউ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানানো হয়েছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) ডা. সোলতান আহমদ সিরাজী সিবিএনকে জানান, অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আইসিইউ-সিসিইউতে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮৬ জন কর্মহীন হয়ে পড়বে। ডাক্তার সংকটের কারণে বিশেষ করে জরুরী বিভাগে মারাত্নক প্রভাব পড়বে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •