cbn  

আহসান সুমন :

“আমার সৌভাগ্য আমি জীবনের বেশিরভাগ সময় বঙ্গবন্ধু’র সেবা করেছি, তাঁর গোলাম ছিলাম, আর আমার দুর্ভাগ্য হলো আমি ১৯৭৫ এ বঙ্গবন্ধু’র সাথে মরতে পারিনি”। আবেগঘন এই কথাগুলো স্মৃতিচারন করতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন মহিউদ্দিন নামে ৭৭ বছর বয়সী একজন মানুষ। যিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনের সময় ঠিক পেছনে দাঁড়ানো ছিলেন। তখন তিনি ২৮ বছরের টগবগে যুবক। বর্তমানে তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। সাবেক সংসদ সদস্যও ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট এই সহচর। সেদিনের কালজয়ী জীবন্ত সাক্ষী তরুণ মহিউদ্দিন আজ বয়সের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়তে চলেছেন। তবুও বজ্রকন্ঠে ধ্বনিত জাতির পিতার সেই স্বাধীনতার ঘোষনা নিজ মুখে স্মৃতিচারণ করেন ৭ই মার্চের জীবন্ত সাক্ষি। বললেন, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম-জয় বাংলা।” মহিউদ্দিন আরো বলেন, কারাগারেই প্রথম বঙ্গবন্ধুর সাথে আমার পরিচয়। সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি আমাকে সন্তানের মতো বুকে আগলে নেন। আমি জাতির পিতার পায়ের নিচে জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছি। আমি তাঁর গোলাম ছিলাম। খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে এই মহামানবকে। যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতোনা। যার জন্ম না হলে বাঙ্গালী জাতি নামে একটি নাম সৃষ্টি হতোনা। আমি তাঁর সাথে বিভিন্ন দেশ সফর করেছি। দেখেছি-দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য বঙ্গবন্ধু কতোটা ভাবেন। ওনার মতো মানুষ পৃথিবীর অন্য কোথাও আছে কিনা আমি জানিনা। কান্না করতে করতে মহিউদ্দিন আরো বলেন, আজ আমি অভাগা এ জন্যই কাঁদছি কেন আমি বঙ্গবন্ধু’র সাথে মরতে পারলাম না। তাঁর সাথে মরতে পারলে আমি ধন্য হতাম আমার জীবন সার্থক হতো। ৭ই মার্চ রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরীর শহীদ দৌলত ময়দানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত অনুষ্ঠানের নান্দনিক উপস্থাপনায় ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সাংবাদিক জাহেদ সরওয়ার সোহেল। এসময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মেয়র মুজিবুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, অধ্যাপক সমশে^র চক্রবর্তী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম।

এছাড়া কক্সবাজার সফররত কয়েকজন বিদেশী অতিথিও ৭ই মার্চের উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •