cbn  

বিশেষ প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের কলাতলী বড়ছড়া ও দরিয়ানগর এলাকায় ‘পারভেজ সিন্ডিকেট’র অপরাধ কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় লোকজন। বিভিন্ন কারণে চাঁদা দাবি, অপহরণ করে চাঁদা আদায়, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে এই অপরাধী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। মূলত সিন্ডিকেটের হোতা দরিয়ানগর এলাকার মোশারফ হোসেন পারভেজ নামে একযুবক। পারভেজ নিজেকে সুযোগ বুঝে কখনো জেলা যুবলীগের নেতা আবার কখনো শহর যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে বীরদর্পে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই কারণে ভয়ে এলাকার কেউ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না সহজেই।
অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোশারফ হোসেন পারভেজ যুবলীগের কেউ নয়। এমনকি আওয়ামী লীগের কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাথেও জড়িত নেই।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন, দরিয়ানগর এলাকার মোশারফ হোসেন পারভেজের নেতৃত্বে একটি অপরাধী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই অপরাধী সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন দরিয়ানগর, শুকনাছড়ি ও বড়ছড়া এলাকায় ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শুধু সেখানে নয়, তাদের অপরাধ কর্মকান্ড চলে কলাতলী ও বেলী হ্যাচারি এলাকায়ও। চাঁদা দাবি, অপহরণ করে চাঁদা আদায়, মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে সিন্ডিকেটটি। এই সিন্ডিকেটে আরো রয়েছে দরিয়ানগর এলাকার মাহিম, নয়ন, ছৈয়দ করিম, নাশকতার মামলার আসামী জাগির হোসেন ও পেঠু জয়নাল। এছাড়া নজির, ছোট জয়নাল, নোমান ও আবদু করিমসহ ১৫/২০জন রয়েছে সিন্ডিকেটের তালিকায়।

অভিযোগ মতে, সিন্ডিকেটটি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে টার্গেট করা মানুষকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়। অপহরণ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় দরিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা গাড়িচালক মনছুরকে তার চালিত টাটা গাড়িসহ অপহরণ করে পারভেজ সিন্ডিকেট। পরে তাকে কলাতলীর মোড়ে যুবলীগের এক শীর্ষ নেতার মালিকানাধীন জমির প্লটে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। পরে আশেপাশের লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে এগিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে সেখান থেকে সিএনজি টেক্সী নিয়ে দ্রুত চন্দ্রিমা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানেও তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গাড়িসহ চালককে উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টায় চাঁদা না দেয়ায় শহর মৎস্যজীবি লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীনকে অপহরণের চেষ্টা করে পারভেজ সিন্ডিকেট। কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। এভাবে প্রায় সময় বিভিন্ন লোকজনকে অপহরণ করে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়ে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। অপহরণের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে কলাতলীর একটি প্লট। সেখানে প্রায় সময় বিভিন্ন মানুষকে ধরে রাতের আঁধারে নির্যাতন চালানোর বেশ কয়েকটি ঘটনা অবগত রয়েছে আশেপাশের লোকজন। এছাড়া সম্প্রতি কলাতলীর মোড়ে একটি রেস্তোরায় চাঁদার দাবীতে রেস্তোরা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে ভুক্তভোগিরা ভয়ে মুখ খুলছে না এমন নির্যাতনের ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশ করতে। পুনরায় তারা আতঙ্কে রয়েছে।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগি শহর মৎস্যজীবি লীগের যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দীন কৌশলে ঘটনার বিষয়ে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কিছু ছেলের সাথে তার ধাক্কাধাক্কি হয়েছিল। তবে এখন ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা হওয়ার পথে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারভেজ এলাকার উঠতি যুবকদের কালো টাকা দিয়ে দলে বেড়ান। তারপর তাদেরকে অপহরণ ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধ কর্মকান্ডে ব্যবহার করে। এভাবে উঠতি অনেক যুবককে সে অপরাধী বানিয়েছেন। এতে ওই এলাকায় দিন দিন অপরাধীর সংখ্যা বেড়ে চলছেই। তার সিন্ডিকেটের সদস্যরা প্রায় সময় দরিয়ানগর এলাকায় পর্যটকদের টাকা, মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাইসহ নানা অপরাধ চালাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, পারভেজ এলাকায় নিজেকে যুবলীগের নেতা বলে প্রচার করেন এবং শীর্ষ নেতাদের অত্যন্ত ‘কাছের মানুষ’ বলে জাহির করেন। এই কারণে ভয়ে এলাকার কোনো লোক পারভেজ ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না বলে জানা গেছে। ফলে দিন দিন সেখানে অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে শহর যুবলীগের আহ্বায়ক শোয়েব ইফতেখার চৌধুরী বলেন, আমার জানা মতে পারভেজ নামে কেউ শহর ও ওয়ার্ড যুবলীগে নেই। হয়ত এই নামের কেউ যুবলীগ করার জন্য আগ্রহী।

এব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর বলেন, পারভেজ নামে কলাতলী বা দরিয়ানগর এলাকার কেউ যুবলীগে নেই। হয়ত বিভিন্ন সময় অপকর্ম করে নিজেকে আড়াল করতে যুবলীগের নাম ব্যবহার করে। তবে এবিষয়ে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেয় তাহলে আমরা বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারবো।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, বড়ছড়া এলাকার পারভেজ নামের কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এখনো কেউ অপহরণ বা অন্যকোনো বিষয়ে আমাদের অবগত করেনি। যদি আমরা অভিযোগ পায়; তাহলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •