মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান)

বান্দরবানের লামায় কোরাল লীফ নামে এক প্রভাবশালী কোম্পানীর বিরুদ্ধে মামলা করে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ করেছে ৪ বারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মো. শফিউল আলম। শফিউল আলম লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ও হায়দারনাশী এলাকার মৃত আলী আহাম্মদ এর ছেলে। সে জানায় মামলা প্রত্যাহার করে না নিলে তাকে ও তার পরিবারের লোকজনকে প্রাণনাশ, অপহরণ ও মামলা দিয়ে হয়রাণী করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে ওই প্রভাবশালীরা।
এই ঘটনায় স্থানীয় মিমাংসা হওয়ার আশংকা করতে করতে নিরুপায় হয়ে অবশেষে ঘটনার ১৫দিন পর ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ইং লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হামলাকারী ও সহযোগী সাইফুল, কামরুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, সুলতান, সোহরাব, জয়নাল আবেদীন সহ অজ্ঞাতনামা ২০/৩০ জনকে বিবাদী করে সিআর মামলা ৪০/১৯ রুজু করে ক্ষতিগ্রস্থ শফিউল আলম।
সিআর মামলা ৪০/১৯ সূত্রে জানা যায়, শফিউল আলম লামা উপজেলার ২৮৬নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ক্রয়সূত্রে আর/১১৩৭ হোল্ডিং মূলে ৩ একর, আর/৫২ হোল্ডিং মূলে ৪ একর, আর/৯৬৯ হোল্ডিং মূলে ৪ একর, বন্দোবস্তি মোকদ্দমা মূলে আর/৭ হোল্ডিং এর ২ একর সর্বমোট ১৩ একর জায়গার মালিক। দীর্ঘকাল ধরে উক্ত জায়গায় মাছের প্রজেক্ট ও গাছের বাগান সৃজন করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে আছেন। পার্শ্ববর্তী প্রভাবশালী গ্রুপ কোরাল লীফের তার জায়গার উপর কু-দৃষ্টি পড়ে। তারা লোভের বশবর্তী হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গত ২৯ জানুয়ারী ২০১৯ইং দুপুরে তার খামারে লম্বা বন্দুক, রিভলবার, দা, কিরিচ, ছুরি, রড ও লাঠি সহ ২০/৩০ জন বহিরাগত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে লুটপাট ও জায়গা দখলের জন্য হামলা চালায়।
এসময় সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে তার জেকেটের পকেট হতে নগদ ১ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয়। খামারের ৫০ হাজার টাকার জিনিসপত্র ভাংচুর, ১০ হাজার জাল ছিনতাই, ৫০ হাজার টাকার মূল্যের সৌর বিদ্যুৎ নিয়ে যায়। এছাড়া তারা পেট্রোল দিয়ে খামার ঘরটি পুড়িয়ে দিয়ে তার ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি করে। সন্ত্রাসীরা মো. শফিউল আলমের ৬টি মাছের প্রজেক্টের বাঁধ কেটে পানি সরিয়ে হতে ১০ লক্ষ টাকার ১৭০ মণ চিংড়ি, কাতাল, রুই, তেলাপিয়া ও পাংগাস প্রজাতির মাছ ধরে নিয়ে যায়। হামলাকারী ও কোরাল লীফের লোকজন অস্ত্রের মূখে জিম্মি করে শফিউল আলমকে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে ১শত টাকা মূল্যের ৩টি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে যায়।
শফিউল আলম বলেন, মামলা করে আজ আমি অসহায়। আসামীদের সবার জামিন হয়ে যাওয়ায় তারা এখন আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। অচেনা বেশ কিছু লোকজন সবসময় আমার বাড়ির আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে। আমি ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে লামা বাজারে থাকি। আমার পরিবারের কোন নিরাপত্তা নেই। কোরাল লীফের কাগজ পত্রের থেকে কয়েকগুণ বেশী জায়গা দখলে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। তাদের বাগানের ভিতরে রাতের বেলায় গুলির শব্দ শুনা যায়। কোরাল লীফের সকল অবৈধ কাজের কথা উল্লেখ করে সবাইকে অবগত করতে আমি প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের সব জায়গায় স্মারকলিপি দিয়েছি।
এবিষয়ে কোরাল লীপ প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানাজার কামরান দিদার বলেন, শফিউল আলমের অভিযোগ গুলো মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জায়গা দিচ্ছেনা। আমরাও বিষয়টি আইনীভাবে মোকাবেলা করব।
লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, ঘটনার পর কয়েকবার আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। বিষয়টি সমাধানের আগেই সে আদালত মামলা করে। যেহেতু কোর্টে মামলা হয়েছে তাই বিষয়টি মহামান্য আদালত সিদ্ধান্ত দিবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •