মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু, নাইক্ষ্যংছড়ি
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় অংশগ্রহণ করছেন ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী। যাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছাড়াও রয়েছে আরও ৩ প্রার্থীর মধ্যে একজন প্রচারনায় নামেননি। তিন প্রার্থী চালিয়ে যাচ্ছে প্রচারণা।

নাইক্ষ্যংছড়ির ৪ প্রার্থীর আয়ে শীর্ষে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অধ্যপক মো. শফিউল্লাহ। সম্পদে এগিয়ে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. ফরিদ।

৪ চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যে হলফনামা জমা দিয়েছেন সেখান থেকে পাওয়া গেছে তাদের সম্পদের পরিমান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাসহ আয় ব্যয়ের তথ্য।

অধ্যাপক মো. শফিউল্লাহ:
তাঁর হলফনামা থেকে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর। পেশা কৃষি ও ব্যবসা। বাৎসরিক আয় ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪শ’ ৮টাকা।
শেয়ারের পরিমাণ রয়েছে (ফিল প্রা: লি: ৫ লাখ টাকা) ও (সিক গ্লোবাল এসো: ৫ লাখ টাকা)। নগদ টাকা রয়েছে ৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮শ’ ৪২ টাকা তবে ব্যাংকে কোন সঞ্চয়পত্রে তিনি এবং পরিবারের নামে কোন জমা টাকা নেই। মনোনয়ন দাখিলের তারিখে তাঁর কোন পরিবহণ নেই। স্ত্রী নামে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার আছে। ইলেক্সট্রনিক সামগ্রী রয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার এবং আসবাবপত্র রয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে মোট ৬ একর ৮০ শতক জমি। স্ত্রীর নামে কোন সম্পদ নেই। দালান, আবাসিক, বানিজ্যিক বা বাড়ি ও এপার্টমেন্ট নেই। ইসলামী ব্যাংকে গাড়ির ঋণের বাবদ রয়েছে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৮শ’ ৪২ টাকা। মামলার সংখ্যা ২টি। যার মধ্যে একটি মামলা খারিজ ও অপর একটি মামলা চার্জ গঠণের জন্য রয়েছে।

অধ্যাপক মো. ফরিদ:
শিক্ষাগত যোগ্যতায় এমএ পাশ। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করেছেন। এই পেশা থেকে তিনি বাছরে আয় করেন ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। চিংড়ি ঘের থেকে আয় করেন ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নিজ নামে ১ লাখ ও স্ত্রী নামে রয়েছে নগদ ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংকে নিজ ও স্ত্রী নামে রয়েছে ৫০ হাজার করে ১ লাখ টাকা। ইলেক্সট্রনিক্স সামগী রয়েছে ১ লাখ টাকার। আসবাবপত্র ১ লাখ টাকা ও অন্যান/বিবাহ উপহার রয়েছে ২ লাখ টাকার।
কৃষি জমি হিসেবে পৈত্রিক জমি রয়েছে ১০ কানি। দালান বা বাড়ি এপার্টমেন্ট নেই তাঁর। স্ত্রীর নামে ৩০ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে।

আবু তাহের কোম্পানী :
হলফনামা থেকে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাশ। পেশা ব্যবসায়ী। কৃষিখাত থেকে বাৎসরিক আয় ১ লাখ টাকা এবং ব্যবসা থেকে বাৎসরিক আয় ৩০ হাজার ৫শ’ টাকা। নগদ রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ টাকা। নিজ নামে কোন স্বর্ণলংকার নেই। স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৬ হাজার টাকার স্বর্ণ। স্থাবর সম্পদের মধ্যে অকৃষি জমি ও অর্জণকালীন সময়ে ২০ হাজার টাকার সম্পদ উল্লেখ করেছেন তিনি। এছাড়া স্থাবর-অস্থাবর কিছুই নেই তাঁর। দ্বায়-দেনার মধ্যে ব্যাংকে লোন রয়েছে ২০ লাখ টাকা। তিনি কখনো মামলার আসামী হননি।

চোচু মং মার্মা:
শিক্ষাগত যোগ্যতায় এইচএসসি পাশ। পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। এই খাত থেকে বছরে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা আয় করেন। নগদ টাকা রয়েছে ২০ হাজার টাকা। ব্যাংকে জমা রয়েছে ৬০ হাজার টাকা। একটি মোটরসাইকেল রয়েছে যার মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার রয়েছে। টিভি ফ্রিজ ৮০ হাজার ও ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। যৌথ মালিকায় ১০ শতক অকৃষি জমি রয়েছে। মৎস্য খামার রয়েছে ৫একর।

তবে এই পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে ভোট প্রার্থনা করে চষে বেড়াচ্ছেন শফিউল্লাহ, তাহের, ফরিদ প্রচার-প্রচারনায় নেই চুচু মং মার্মা তিনি পোষ্টারও ছাপাননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •