মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

বৃষ্টি সাধারণত বর্ষা মওসুমেই বেশী হয়। তবে অন্যান্য মওসুমেরও যেকোন সময় বৃষ্টি হতে পারে। এখন চলছে ফুলেল মওসুম বসন্ত। বেরসিক বৃষ্টি যখন এ অসময়ে হঠাৎ ঝরতে থাকে, তখন সেটা হয় কারো জন্য আশীর্বাদ, আবার কারো জন্য অভিশাপ। মঙ্গলবার ৫ মার্চ দুপুর থেকে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি কক্সবাজারের বোরো ক্ষেত, মৎস্য খামার, আমের মুকুল সহ অনেক ক্ষেত্রে আশীর্বাদ হলেও লবণ মাঠ, ইট ভাটা ইত্যাদির জন্য হয়েছে অনেকটা অভিশাপ। তার চেয়েও যারা বেশী সংকটে পড়ে গেছে তারা হলো-ফুটপাত ও ভাসমান ব্যবসায়ীরা, ক্ষুদে ফেরিওয়ালা, ফুটপাত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বারান্দা কিংবা কার্নিশের নীচে অথবা খোলা আকাশের নীচে ক্লান্ত হয়ে যারা ঘুমায়, সেসব বাসস্থানবিহীন ছিন্নমূল অসহায় লোকগুলো। অসময়ের বৃষ্টি তাদের ভাসমান থাকা এবং ফুটপাত ও ফেরীওয়ালাদের জীবন জীবিকাকে অনেকটা থামিয়ে দেয়। রুদ্ধ করে দেয়, তাদের জবীন যাত্রার প্রায় সব পথ। সীমা থাকেনা তাদের দুঃখ ও দূদর্শার। মানব নামক সবসময় নিগ্রহে থাকা এই মানুষগুলো দিনে যা উপার্জন করে তা দিয়েই কোনরকমে একবেলা চলে। জীবিকা বন্ধ থাকলেই ননেমে আডে হাহাকার। আর এভাবে টানা কয়কদিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি সহ দমকা হাওয়া বইতে থাকে-তখন তো তাদের কষ্টের আর সীমা থাকেনা। কক্সবাজার জেলা শহরে এরকম করুন অবস্থা দেখা গেছে ছিন্নমূল লোকজন, ফুটপাত ও ফেরীকরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মঙ্গলবার বিকেল থেকেই। অসময়ের নিষ্টুর (!) বৃষ্টি যাদের দু’মুঠো অন্ন যোগাড় করার প্রায় সব পথ রুদ্ধ করা ছাড়াও মাথা গুজার স্থান গুলোও বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে গেছে। নিরূপায় দুঃস্থ এ মানবগোষ্ঠীর মঙ্গলবার রাত্রে কক্সবাজার শহরের বিভিন্নস্থানে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হওয়ার মতো অসহায় করুন দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
  •  
  •