বিশেষ প্রতিবেদকঃ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন এনজিওতে চাকরির দাবিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর ও হামলার অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ৬০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
উখিয়া থানার এএসআই মোরশেদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছে। যার মামলা নং- ৭/১৯। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
সোমবার (৪ মার্চ) সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার চৌরাস্তায় অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে চাকরি দাবিকারীরা।
এদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর প্রায় ১২টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পমূখী গাড়ি যাতায়াত বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিবাদের মুখে গাড়িগুলো উল্টো গন্তব্যে ফিরে যায়।
এসময় উখিয়া থানার পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।
‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’ নামক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে কর্মসূচিতে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার চৌরাস্তায় মাথায় কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেয় শত শত বেকার যুবক। তাদের সমর্থনে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
কর্মসূচি পালনকালে রাস্তার দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়। এতে পুলিশ বাঁধা দিলে অবরোধকারীরা  চড়াও হয়। এতে উখিয়া থানার পুলিশ মাসুদ মিয়া ও শফিকুল ইসলাম আহত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে অবরোধকারীদের অন্ততঃ ১৪ জন আহত হয় বলে জানা গেছে।
অবরোধকারীদের দাবী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইএনজিও ও এনজিওরা রোহিঙ্গাদের চাকুরী দিতে পারলেও স্থানীয়দের কেন চাকুরী দিবেনা? আর এনজিওরা বিনা বিজ্ঞাপনে তাদের আত্মীয় স্বজনদেরকে ডেকে এনে উচ্চ বেতনের চাকুরী দেয়। স্থানীয় আবেদনকারীদের পাত্তা দেয় না।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওদের স্থানীয়দের চাকরিতে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলেন। কিন্তু ওই এনজিওগুলো বিভিন্ন অজুহাত দেখাচ্ছে। তারা গুরুত্বারোপ না করে ঢালাওভাবে স্থানীয় ছেলে মেয়েদের চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে থাকে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনে নেমেছে চাকরি প্রার্থীরা। আগামীতে আন্দোলন আরও তীব্র হলে সব দায়ভার এনজিওগুলোকে নিতে হবে বলে বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, সোমবার অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে কোর্টবাজারে উশৃংখল যুবকেরা পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত ৬০০ জনের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত তার অনুসন্ধান চলছে। আন্দোলনের নামে কোন ধরণের বিশৃংখলা বরদাশত করা হবে না।

এদিকে, ৪ মার্চ বিকেলে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ‘বাই নেমে’ মামলা করতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। সেইসাথে ঘটনাটি খুব গুরুত্বের সাথেও নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •