cbn  

ইমাম খাইর, সিবিএন:
গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিল আল্লাহর দান নামের মাছ ধরার ট্রলার। কিন্তু মাছ নিয়ে ফেরা হলোনা। ঘটে বিপত্তি। জলদস্যুরা সব লুট করে নিয়ে যায়। মাছ ছাড়াই কূলে ফিরে আল্লাহর দান।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়ার বাসিন্দা ও বোট মালিক আবু বকর ছিদ্দিক জানান, এক সপ্তাহ আগে মাছ নিয়ে ফেরার পথে জলদস্যুদের কবলে পড়ে তার বোটটি।
৩৭০০টি ইলিশ মাছসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে সাগরের সংঘবদ্ধ ডাকাতদল।
তিনি জানান, এরকম অনেক মাছ ধরার ট্রলার জলদস্যুদের শিকার হয়েছে। নুনিয়ারছড়ার মোজাম্মেল কোম্পানী, মোহামম্দ সোহেল, নাগু কোম্পানী, টেকনাফের আমির সাহেবের ট্রলার জিম্মি করে মাছসহ মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে সাগরের দস্যু বাহিনী।
বেশ কয়েকজন বোট মালিক অভিযোগ করেছে, জলদস্যুদের সাথে অসাধু কিছু বোট মালিকের সম্পর্ক রয়েছে। তাদের কারণে দস্যুতা থামছেনা। জলদস্যুদের নিয়মিত অর্থ যোগান দিয়েই তারা মাছ ধরতে যায়। অনেক বোট মালিক ও মাছ ব্যবসায়ী লুন্ঠিত মাছ জলদস্যুদের কাছ থেকে ক্রয় করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করে।
সম্প্রতি দস্যুতার শিকার কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারও টাকার বিনিময়ে মুক্ত করে মালিকরা। প্রশাসনের সহায়তা না নিয়ে গোপনে জলদস্যুদের টাকা দেওয়ায় দস্যুতা বন্ধ হচ্ছেনা বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।
বোট মালিকরা জানিয়েছে, গত সপ্তাহে লুণ্ঠিত মাছ চট্টগ্রাম, মহিপুর, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেছে বলে তারা বিভিন্ন সুত্রে খবর পেয়েছে। গত দুই মাসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের শতাধিক ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। যাদের কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে। অপহরণের শিকার হয়েছে ৫ শতাধিক জেলে। এভাবে মুক্তিপণ বাণিজ্য চলার কারণে কক্সবাজার জেলায় মাছ আহরণ ৩০% এ নেমে এসেছে। চরম অর্থ সংকটে ভোগছে হাজারো জেলে পরিবার।

কক্সবাজার ফিশিংবোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ বলেন, জলদস্যুরা খুব বিরক্ত করতেছে। বিভিন্ন বোট মালিককে ফোন করে মুক্তিপণ দাবী করছে। এ রকম দুইটি মোবাইল নাম্বার আমি র‌্যাবকে দিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।
জেলা ফিশিংবোট মালিক সমিতি সুত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ, সেন্টামার্টিন উপকুলে শতাধিক ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়েছে। সাগরের প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলদস্যুরা এ তান্ডব অব্যাহত রয়েছে।
বোট মালিক সমিতি সুত্র জানিয়েছে, টেকনাফ-সেন্টমার্টিন এলাকা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২৩ ফেব্রুয়ারী একদিনে ১৪টি মাছধরার ট্রলারসহ অন্তত ৫৭ জন জেলেকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা। পরে তাদের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনা হয়েছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের দ্বারস্ত হলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না বলে অভিযোগ জেলেদের।
জেলেরা জানায়, জলদস্যুরা অধিকাংশই বয়সে তরুণ। বাহিনীর সদস্যরা মূলত কক্সবাজার সদরের কুতুবদিয়াপাড়া, চট্টগ্রামের বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়ার রাজাখালী, মহেশখালীর শাপলাপুর, ধলঘাটা, মাতারবাড়ি, কালারমারছড়া এলাকার।
কক্সবাজারে নবগঠিত র‌্যাব-১৫ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, সাগরে ডাকাতির খবর পাচ্ছি। সোনাদিয়া থেকে জলদস্যুদের আমরা নির্মূল করেছি। কিন্তু গভীর সাগরে গিয়ে জলদুস্য দমনের অনুমতি পাওয়া গেলে র‌্যাব তাই করবে।
কোস্টগার্ড পুর্বজোনের অপারেশন অফিসার লে. কমান্ডার সাইফুল ইসলাম বলেন, জলদুস্য দমনে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কিছু জলদস্যু বাইরের এলাকা থেকে এসে কক্সবাজার উপকুলে হানা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর পাচ্ছি। এরপর থেকে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান জানান, আত্মসমর্পণের পর কিছু নতুন জলদস্যু সাগরে জেলেদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে শুনেছি। তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের দমন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২০ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপকূলীয় এলাকার ছয়টি জলদস্যু বাহিনীর ৪৩ সদস্য। এ সময় ৯৪টি অস্ত্র ৭ হাজার ৬৩৭টি গোলাবারুদ হস্তান্তর করে তারা। কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও জলদস্যুদের তৎপরতায় উদ্বিগ্ন জেলেরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •