cbn  

সংবাদদাতাঃ
মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু জিততে পারেননি।
তবু হাল ছাড়েননি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নানামুখী ষড়যন্ত্রের মাঝেও অবিচল রয়েছেন। তার পিতা সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মরহুম আহমেদুল হক চৌধুরীর রেখে যাওয়া কাজ আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেননা মাহিন চৌধুরী। এসব বিষয়ে খোলামেলা লিখেছেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে।
পাঠকের কাছে তা হুবহু তুলে ধরা হলো…

প্রিয় রামুবাসী!
আসসালামু আলাইকুম/আদাব/ নমস্কার
আমি আপনাদের মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মনোনীত চেয়ারম্যান পদের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলাম। সেই নির্বাচনে আপনারা আমাকে বিপুল ভোট দেয়া সত্বেও ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচিত হতে পারিনি। আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগের দখলবাজরা। তাতে আমি হারিনি; আপনারা হারেননি, হেরেছে ভোট ডাকাত ও ষড়যন্ত্রকারীরা। তবু সেকাল থেকে একাল পর্যন্ত আমি মাঠে ছিলাম। আছি। থাকবো।
আপনারা আমাকে অনেক সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছেন। চাওয়ার চেয়ে পাওয়া বেশি হয়েছে। আপনাদের ঋণ কোন দিন শোধ করতে পারব না। আজীবন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি রামু উপজেলাবাসীর সেই ভালোবাসা।
প্রিয় উপজেলাবাসী!
বিধাতার চিরাচরিত নিয়মে আমার শ্রদ্ধেয় পিতা সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদুল হক চৌধুরীর মৃত্যুর পরে রাজনীতির মাঠে আমার পদার্পণ। বাবার রেখে যাওয়া স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেষ্টা করে যাচ্ছি। প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মধ্যেও মানুষের দুঃখ-দুর্দশা ও এলাকার উন্নয়নে সব সময় সক্রিয় থেকেছি। সাহায্য-সহযোগিতা দিয়েছি সাধ্যমত।
যেখানে দুর্ভোগ-দুর্যোগ, মানবতার আর্তনাদ -সেখানে ছুটে গিয়েছি,সবার পাশে দাঁড়িয়েছি। সাধ্যমত আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। সরকারি দায়িত্বে না থেকেও চেষ্টা করেছি মানুষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়ার। তাই আপনারা আমাকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন। দোয়া করেন। আমি আজীবন আপনাদের সেবক হিসেবে থাকতে চাই।
প্রিয় এলাকাবাসী!
আপনাদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও সমর্থন থাকার পরও আসন্ন উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আমি অংশগ্রহণ করতে পারছিনা। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নাই। নির্বাচন না করার খবরে অনেকে আমার সাথে রাগ করেছেন -তা আমি জানি। দুঃখিত, আমি দুঃখিত। বাকশাল, ফ্যাসিবাদ ও জালেম সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সিদ্ধান্ত মতে নির্বাচন করতে পারছি না। মাঠে আমার নিজের অবস্থান ভালো থাকলেও নির্বাচনের পরিবেশ নেই। চলছে দলীয় তন্ত্র। কবর রচিত হয়েছে গণতন্ত্রের। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজ প্রতিবাদের ভাষা রুদ্ধ। গণমাধ্যম হারিয়েছে তার সঠিক সংবাদ প্রবাহের স্বাধীনতা। বাকশালী সরকারের অধীনে নির্বাচনকে মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। ইতোমধ্যে তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই এই দখলবাজ সরকারের পাতানো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তই সঠিক ও যথোপযুক্ত।
সর্বস্তরের জনগণ!
যখনই আমি মানুষের পাশে থাকতে চেয়েছি তখনই ষড়যন্ত্র কারীরা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। চলার পথে পুঁতে রেখেছে অসংখ্য ষড়যন্ত্রের ফাঁদ। মিথ্যা মামলা দিয়ে জর্জরিত করেছে। তবু আমার পথ চলা থেমে থাকেনি। চলছি সম্মুখ পানে।
আমি কথা দিচ্ছি, নির্বাচন না করলেও আমি আপনাদের পাশে আগের মতোই থাকবো। যে কোনো প্রয়োজনে আমাকে পাবেন। আমৃত্যু আপনাদের ভালোবাসা বুকে আগলে রাখতে চাই।
পরিশেষে, আমার দলের মাননীয় চেয়ারপারসন সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী কারান্তরীণ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তারুণ্যের আইকন তারেক রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলসহ জাতীয়তাবাদী পরিবারের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম ও শুভেচ্ছা রইলো।

মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী
সাধারণ সম্পাদক
রামু উপজেলা বিএনপি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •