cbn  

সিবিএন ডেস্ক:
সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফায় ‘শক্তি-সামর্থ্য দেখানোর’ পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। এতে ভারতের নেতৃত্বকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি হয়ে ওঠা ভারতকে সতর্ক করে ইমরান খান বলেন, যে অস্ত্র আপনাদের আছে, সে অস্ত্র আমাদেরও আছে। যুদ্ধ বেঁধে গেলে কিন্তু পরিস্থিতি কারোরই নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।

বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতির উদ্দেশে এ ভাষণ দেন ইমরান খান। এদিন সকালে নয়াদিল্লি দাবি করে, তারা পাকিস্তানের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। আর ইসলামাবাদ দাবি করে, তারা ভারতের দু’টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। আটক করেছে দুই পাইলটকেও। তারও আগে সীমান্তের আশপাশে কয়েক দফায় হামলা চালিয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলায় ভারতের বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) গাড়িবহরে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ৪৪ জওয়ান নিহত হন।

জঙ্গিদের মদত দেওয়ার জন্য ইসলামাবাদকে অভিযুক্ত করে এর মোক্ষম জবাব দিতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে পাকিস্তানের বালাকোট শহরে জঙ্গি গোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদের আস্তানায় হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী। হামলায় প্রায় ৩০০ জঙ্গি নিহত হয় বলে দাবি করে ভারত। এর একদিন পরই ভারতের দু’টি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত ও দু’জন পাইলট আটক করার দাবি করে পাকিস্তান।

ইমরান খান পাকিস্তানিদের আশ্বস্ত করে বলেন, গতকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যা ঘটছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমি জাতিকে আত্মপ্রত্যয়ী রাখতে চাই।

তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে বলেন, কাশ্মীরের পুলওয়ামায় যে ঘটনা ঘটেছে সেজন্য ভারতের প্রতি আমাদের সংহতি আছে। যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের স্বজনদের বেদনা আমরা বুঝি। সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে (পাকিস্তানে) হাসপাতাল ঘুরেছি। আমি বুঝি এর যন্ত্রণা, কারণ আমরাও ৭০ হাজার মানুষকে হারিয়েছি (সহিংসতায়)।

‘সেজন্য আমরা ভারতকে সহযোগিতার কথা বলছি। পাকিস্তানের ভূখণ্ডকে সন্ত্রাসবাদে ব্যবহারে আমাদের কোনো লাভ নেই, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তারপরও আমি শঙ্কিত যে ভারত (সহযোগিতার প্রস্তাব ফিরিয়ে) তাদের অ্যাকশন চালিয়ে যায় কি-না, এবং সেজন্যই আমি ভারতকে যেকোনো ধরনের আগ্রাসী তৎপরতা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করছি। কারণ আমরাও এর জবাব দিতে বাধ্য, কারণ কোনো সার্ভভৌম রাষ্ট্রই এ ধরনের তৎপরতা (সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন) মেনে নেবে না।’

ভারতের হামলা ও এর পরবর্তী নিজের তৎপরতা তুলে ধরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যখন ভারত মঙ্গলবার সকালে হামলা চালালো, আমি এবং আমাদের সেনাপ্রধান কথা বললাম। আমরা তাড়াহুড়ো করে কোনো জবাব দিইনি- কারণ তখনো আমাদের কাছে ক্ষয়ক্ষতির যথার্থ কোনো রিপোর্ট ছিল না। কিন্তু এটা এমন প্রেক্ষাপট, যখন জবাব না দিলে নিজেদের কাছে আমি দায়িত্বহীন হয়ে পড়তাম, অন্যদিকে ক্ষয়ক্ষতি হতো। যখন আমরা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করলাম, তখন আমরা অ্যাকশনের জন্য প্রস্তুত হলাম।’

‘আজ যে অ্যাকশন (প্লেন ভূপাতিত করা ও সীমান্তে হামলা) আমরা নিয়েছি, তার নিখাদ উদ্দেশ্য হলো যে এটা বোঝানো- তোমরা যদি আমাদের দেশে ঢুকে পড়ো, আমরাও কিন্তু মোক্ষম কাজটা করতে পারি। আমরা যা করেছি (প্লেন ভূপাতিত করা ও সীমান্তে হামলা) তার উদ্দেশ্য এটাই ছিল। এই অবস্থা থেকে আমরা কোন দিকে যাচ্ছি তা (বোঝা) গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেদের মাথা ও প্রজ্ঞা দিয়ে কাজ করছি, যা অপরিহার্য।’

অতীতের যুদ্ধগুলো বেঁধে যাওয়ার পেছনে অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তকে দায়ী করে ইমরান খান বলেন, সব যুদ্ধই হয়েছে ভুলভাল অনুমানের কারণে। কেউই জানতো না, পরিণতি কী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এক সপ্তাহেই শেষ হওয়ার কথা ছিল, ছয় বছর লেগেছিল। যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ভাবেনি তাদের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ১৭ বছর ধরে চলবে।

‘সেজন্য আমি ভারতকে বলতে চাই, যে অস্ত্র আপনাদের আছে, সে অস্ত্র আমাদেরও আছে। আমরা কি এমন কোনো ভুল আর করতে পারি? যদি যুদ্ধটা ছড়িয়ে যায়, পরিস্থিতি কিন্তু আমার নিয়ন্ত্রণেও থাকবে না, (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) নরেন্দ্র মোদীর নিয়ন্ত্রণেও থাকবে না।’

‘আমি আবারও আপনাদের বলছি: আমরা প্রস্তুত। পুলওয়ামায় ভারত যে আঘাত পেয়েছে, সে বেদনা আমরা বুঝি। তাই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের সংলাপে বসতে আমরা প্রস্তুত। আমি জোর দিয়ে বলছি। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। আসুন একসঙ্গে বসি এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করি।’- বলেন ইমরান খান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •