cbn  

মোঃ আবছার কবির আকাশঃ
আমার শখের একটি হলো ঘুরে বেড়ানো। দেশের ভেতর পর্যটন স্পটে যেখানে সুযোগ হয়, সেখানেই দৌঁড়াই। লাইফে যত জায়গায় গেছি তারমধ্যে সব থেকে বেশি আতংক ও ভীত হলাম বর্তমান সেন্টমার্টিন ভ্রমনে। আমার এই ভ্রমনটা ছিল অন্য ভ্রমনের তুলনায় আলাদা ছিল। ভ্রমনটা শখের ছিলনা ডাক্তারের পরামর্শে নিজেকে রিফ্রেশমেন্ট করতে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী বাড়ি থেকে রওনা হলাম সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে।
২৫ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮ টায় ফ্রেশ হয়ে বের হয়ে নাস্তা ছেড়ে গেলাম জেটি ঘাঁটে উদ্দেশ্য ছেঁড়া দ্বীপে রওনা হওয়া। ৯টার দিকে পৌছলাম ছেড়াঁদ্বীপে। নেমেই ভাল লাগল দ্বীপটা। কারণ ওখানেই ছিলনা কোন ঘর-বাড়ি। ছিল শুধু পাথর আর আর খেয়া গাছের বাগান।
নেমেই নিজেকে কয়েকটা ফ্রেম বন্ধি করলাম পাথর আর খেয়া গাছের সাথে। একটু পর নেমে আসল আমাদের জন্য দুঃসংবাদ। আবহাওয়া ভাল নাই তাই সব জাহাজ বোটকে নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। হঠাৎ ধমকা হওয়া এসে শুরু হল কাল বৈশাখী ঝড়। আমরা প্রায় হাজার খানেক পর্যটক আশ্রয় নিলাম খেয়া বাগানের ভেতর। সেখানে প্রচুর চিৎকার ও কান্নাকাটি আল্লাহ আল্লাহ শব্দে পুরো ছেড়াদ্বীপের পরিবেশ ভারী হয়ে গেল। একটু পরে থেমে গেল কাল বৈশাখী ঝড় | কান্নাকাটির শব্দও থামলো। ছেঁড়াদ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন ঘাটে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম সবাই যারযার বোটের পাশে। প্রায় ঘন্টাখানেক অপেক্ষা করার পরও কোন বোট যাবার জন্য রাজ্বি হয়না কারন সাগর উত্তাল। সবাই যারযার মত করে হেটে রওনা দিল ছেড়া দ্বীপ থেকে। আমিও তাদের সবার মত হাটা শুরু করি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে। খেয়া গাছের বাগান ও সমুদ্রের পাড় বেয়ে হেটে যেতে হচ্ছে।
কোনো কোনো জায়গায় পাথরের উপরের দিয়ে আবার কোনো কোনো জায়গায় ছড়ার মত এক হাটু পরিমান পানির মধ্যে দিয়ে আবার খেয়া গাছের মাঝখান দিয়ে যেতে হচ্ছে। মনের ভেতর ভয়, আতংক নিয়ে হেটে চলা জটিল এক অভিজ্ঞতা। দুই পাশের দৃশগুলো দেখে মনে হচ্ছে- কোনো শিল্পী যেন তার আপন মনে এঁকেছে। এক কথায় অসাধারণ। ভীত মন নিয়ে হেটে চলা ও পায়ের ব্যাথায় আবার অপরুপ দৃশ্য দেখে দেখে আসার মধ্যে রয়েছে এক অন্য রকম অনূভুতি। আর পর্যটকদের দেখলাম ক্লান্তি। কেউ কেউ প্রিয় মানুষদের কাঁধে তুলে হাটতেছে। সবার মনে আতংক আশ্রয় নিয়েছে কিভাবে যাব বাকি পথ? এই সব দেখে আমার মনে পড়ে গেল মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার দৃশ্য। ঠিক এইভাবে তারা জীবন রক্ষার জন্য মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসেছিল। শুধু এখানে একটুই ভিন্ন দৃশ্যপট ছিল সেইটা হল রোহিঙ্গারা আসার সময় বাংলাদেশীরা তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তাদের আশ্রয় ও এগিয়ে নিয়ে আসতে সবাই সীমান্তে অপেক্ষ করে বসে ছিল। এর এইখানে এত পর্যটক সাগর উত্তাল তাই জীবন রক্ষা করার জন্য হেটে চলে আসতেছে শুনে কোন স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ প্রশাসন তাদের কে এগিয়ে আনতে যেতে কাউকে দেখতে পাইলাম না৷ এই দূর্দশা থেকে মুক্ত হলাম দীর্ঘ সাড়ে ৩ ঘন্টা পর পৌঁছলাম সেন্টমার্টিন হোটেলে ৷ ঐখানে পৌঁছেও পর্যটকদের খোঁজ-খবর নিতে নজর পরলনা কোন প্রশাসনের বা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। এই অবস্থা দেখে নিজেদের খুব অসহায় মনে হল৷

মোঃ আবছার কবির আকাশ
মানবাধিকার ও সংবাদকর্মী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •