cbn  

শাহিদ মোস্তফা শাহিদ,সদর

উদ্ধারের দুইদিন পরও সন্ধান মেলেনি ইসলামাবাদ থেকে উদ্ধার হওয়া এসিডদগ্ধ যুবকের লাশের সন্ধান! ময়না তদন্ত শেষে আঞ্জুমনে আল ইত্তেহাদের মাধ্যমে দাফন সম্পন্ন করেছে পুলিশ। এদিকে সঠিক সন্ধান না পেয়ে উদ্ধার করা একটি হাতের বৃদ্ধ আঙ্গুল নিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচ্ছে পুলিশ। ২৫ ফেব্রুয়ারী দুপুরে উদ্ধার করা লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে না পরে ময়না তদন্ত শেষে গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারী দাফন সম্পন্ন করেছে বলেছে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক।সূত্রে জানা যায়, অজ্ঞাত নামা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সনজিত চন্দ্র নাথ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।ঐ মামলার সূত্র ধরে তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মোহাম্মদ আবু ছিদ্দিক ঘটনার ক্লো উদঘাটনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় সেদিন উদ্ধার করা আলামত নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা যায় কি না সে পথে হাটছে পুলিশ। উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারী দুপুরে কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হরিপুরের পশ্চিমে ৬নং ওয়ার্ড পুর্ব ইউছুপের খীল এলাকার খুইল্যা মিয়া হাজীর পুরাতন বসত ভিটার সংলগ্ন একটি নির্জন পাহাড় থেকে এসিডদগ্ধ অজ্ঞাত নামা এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ও পিবিআই। সেদিন দুপুর ১ টার দিকে স্থানীয় লোকজন মারফত সংবাদ পেয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে এসআই সনজিত চন্দ্র নাথ,শাহাজ উদ্দিন, এএসআই লিটনুর রহমান জয়সহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে লাশের বিবস্ত্র ও শরীরে এসিড দগ্ধের চিহ্ন দেখতে পেয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন তারা।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সদর-রামু সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম,থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দীন খন্দকার, পুলিশ পরিদর্শক আরিফুল ইসলাম। তারা এসেও লাশের অবস্থা লোমহর্ষক দেখে খবর দেওয়া হয় পিবিআইকে।বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন কক্সবাজার অফিসের পুলিশ পরিদর্শক পুলক বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক নাজমুল হক,পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আবু জাফরসহ সঙ্গীয় পিবিআইয়ের একদল ফোর্স এসে লাশটি উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বোরকা,বোতলের ডাকনা, নগদ ৩শ টাকা, লাশের আঙ্গুলের দুটি অংশসহ পুড়ে যাওয়া কয়েকটি চামড়া, একটি জুতা,এসিড ব্যবহারের একটি বোতল উদ্ধার করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়,ঘটনাস্থলের পাহাড়টি ডাকাত,অপহরণকারী ও মাদকসেবীদের আস্তানা হিসাবে পরিচিত। সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ধরে এনে নিরবে মুক্তিপন আদায় করে ছেড়ে দিত স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র।এর ধারাবাহিকতায় হয়ত অজ্ঞাতনামা এ যুবককে ভিন্ন এলাকা থেকে ধরে এনে মুক্তিপন আদায়ে ব্যর্থ হয়ে খুন করেছে বলে ধারণা করেন ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। তারা আরো বলেন, ঐ চক্রের সদস্যরাই এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটাতে পারে। কারন সে পাহাড়ে একতরফা প্রভাব বিস্তার কাদের ছিল তা সবাই জানে।এ চক্রের সদস্যদের আটক করতে পারলে মুল রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন এলাকার লোকজন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •