cbn  

নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত ২১ ফেব্রুয়ারী কুতুপালং লম্বাশিয়া এলাকায় উগ্র কতিপয় রোহিঙ্গাদের দ্বারা জার্মান সাংবাদিকদের মারধর ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারন রোহিঙ্গারা। বিদেশী সাংবাদিকদের উপর বর্বরোচিৎ এ হামলায় বহির্বিশ্বে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নেতিবাচক জনমত তৈরি হওয়ার আশংকাও করছেন তারা।
রোহিঙ্গা আবদুল আমিন বলেন, মায়ানমারে যুগ যুগ ধরে জাতিগত নীপিড়নের শিকার হয়েছে রোহিঙ্গারা। দমন-পীড়নে নিষ্পেষিত রোহিঙ্গারা শিক্ষা, অধিকার ও চাকরিবঞ্চিত হলেও এতদিন মাটি কামড়ে মাতৃভূমিতেই পড়েছিল। এরা ৯০% অশিক্ষিত।
কিন্তু সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগষ্ট-সেপ্টেম্বর মাসে সেনা অভিযান শুরু হলে হত্যা-লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগ থেকে বাঁচতে দলে দলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা।
অপর রোহিঙ্গা তৈয়ুব বলেন, এমন সংকটাপন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, মানবতা দেখিয়েছে৷ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগন খাদ্য, বস্ত্র ও জীবন রক্ষাকারী ঔষধ দিয়ে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সহানুভূতি ও মানবতার এ দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে বিরল।
রোহিঙ্গা বংশোদ্ভূত শিক্ষাবিদ ডঃ দীন মোহাম্মদ বিন মৌলানা ছৈয়দুল আমিন বলেন, বাংলাদেশের জনগন ও সরকারের মানবিক দৃষ্টান্ত সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠে কতিপয় দুর্বৃত্ত। সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে মহেশখালী ও অন্যান্য এলাকা থেকে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ৷
তিনি আরো বলেন, মানবপাচারের এসব খবরে পাচার আতংকে ছিল ক্যাম্পে শরনার্থী ক্যাম্পে অবস্হানরত সাধারন রোহিঙ্গারা।
ডঃ দীন মোহাম্মদ বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারী জার্মান সাংবাদিকরা মানবিক মনোভাব দেখিয়ে কাপড় কিনে দেয়ার জন্য কয়েকজন রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে গাড়ীতে তুলে নিলে পাচারকারী সন্দেহে হামলা করে উগ্র ও সন্ত্রাসী কতিপয় রোহিঙ্গারা।
এর ফলশ্রুতিতেই উক্ত দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এর জন্য সর্বস্তরের শান্তিবিদেপ্রিয় রোহিঙ্গারা ক্ষমাপ্রার্থী বলেও জানান ডঃ দীন মোহাম্মদ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •