প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ
বাংলাদেশের “মিনি পার্লামেন্ট ” খ্যাত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ( ডাকসু) নির্বাচনে জিএস পদে মনোনয়ন পত্র নিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক জালাল আহমদ।বুূধ বার বিকেল ৩ টায় তিনি ঢাবির হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের প্রভোস্ট প্রফেসর নিজামুল হক ভুঁইয়ার কাছ থেকে জি এস পদে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান,” দীর্ঘদিন ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি । ২০১৮ সালে আলোচিত “কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়ক চাই ” আন্দোলনে রাজপথে সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। আগামীতেও ছাত্রসমাজের অধিকার আদায়ের জন্য এবারের ডাকসু নির্বাচনে লড়তে চায়”। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু আমি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক, আমি সংগঠন থেকে জি এস পদে মনোনয়ন চাইব। যদি মনোনয়ন না দেয়, তাহলে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবো”। কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সন্তান জালাল আহমদ শিল খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় ২০০৬ সালে পেকুয়া উপজেলার সর্ব প্রথম পত্রিকা “পাক্ষিক পেকুয়া” পত্রিকায় সংবাদ কর্মী হিসেবে কাজ করেন। ২০০৯ সালে শিল খালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ – ৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে এস.এস.সি পাশ করেন। তিনি এর আগে শিল খালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সরকারি প্রাথমিক বৃত্তি এবং শিল খালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন।২০০৯ সালে এস.এস.সি পাশের পর কক্সবাজার সরকারি কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। কলেজ জীবনে তিনি কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত “দৈনিক হিমছড়ি” কলামিস্ট হিসেবে লেখালেখি করতেন।ফলে ২০১০ সালে কলেজের আধিপত্যবাদী প্রতিক্রিয়াশীল মহলের হামলার শিকার হন। হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে তিনি কক্সবাজারের আদালতে মামলা করলে পুরো দেশ জুড়ে মিডিয়ার আলোচনায় আসেন। ফলে কক্সবাজার সরকারি কলেজের হোস্টেল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এইচ.এস. সি পরীক্ষার রুটিন পরিবর্তনের দাবিতে কক্সবাজারের রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন।২০১২ সালের আগস্ট মাসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় “দেশের মেডিক্যাল কলেজ গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে এস.এস.সি এবং এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ এর ভিত্তিতে ভর্তি করানো হবে ” এমন নিয়ম জারি করলে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে জিইসি মোড় অবরোধ করেন।ফলে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ দমন করতে সরকার জালাল, নাজিমসহ সামনের কাতারের ৮ জন নেতাদের আটক করে। পরে মানবাধিকার সংগঠনের আইনী সহায়তায় জামিনে মুক্তি লাভ করে।২০১৩ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে একজন হিসেবে কর্মী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন আইনী লড়াই শেষে ২০১৪ সালের ৭ এপ্রিল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের ছাত্র হিসেবে ভর্তি হন। ২০১৮ সালে আলোচিত কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে তিনি সংগঠক ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •