অদিতি খান্না, (বাংলা ট্রিবিউন) যুক্তরাজ্য:
একটি ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত করার মাধ্যমে পরিচয় বদল করা হচ্ছে ইউরোপীয় দেশের পতাকাবাহী মেয়াদোত্তীর্ণ দূষিত জাহাজের। আর তারপর সেগুলো পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আইনি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এমন কৌশল অবলম্বনের তথ্য পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ফাইন্যান্স আনকাভার্ডের’ অনুসন্ধানে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফাইন্যান্স আনকাভার্ড’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ বিষাক্ত বর্জ্যযুক্ত জাহাজ ভাঙার জন্য যেসব দেশে পাঠানো হয় সেসব দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ। জাহাজ ভাঙা শিল্পে কাজ করা দরিদ্র শ্রমিকরা কার্যকর কোনও কোনও সুরক্ষাব্যবস্থা ছাড়াই খালি হাতে কাজ করেন। জাহাজ ভাঙতে গিয়ে যেমন দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে, তেমনি বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে তাদের দেখা দেয় গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা। ভাঙার জন্য অ্যাসবেস্টাস, আর্সেনিক এবং পারদের মতো পদার্থ থাকা ডজন ডজন জাহাজ আনা হয়েছে চট্টগ্রামে।

২০১৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নতুন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পতাকাবাহী দূষিত পদার্থযুক্ত মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ দক্ষিণ এশিয়ায় পাঠানো নিষিদ্ধ। নির্ধারণ করা হয়েছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ইউরোপীয় জাহাজ অনুমোদিত সুনির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভেঙে ফেলতে হবে। কিন্তু এর জন্য জাহাজ মালিকদের দিতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি। অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়াভুক্ত দেশগুলোতে এসব জাহাজ ভাঙার জন্য পাঠালে লাভ অনেক বেশি। জাহাজ ভাঙা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ এক একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য এক কোটি ডলার পর্যন্ত মূল্য দিতে প্রস্তুত। আর তাই ইউরোপীয় আইন পাশ কাটিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় এসব জাহাজ পাঠানোর জন্য গ্রহণ করা হয়েছে নতুন কৌশল।

সংশ্লিষ্ট জাহাজ মালিকরা মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ কোন দেশের সে তথ্য পরিবর্তনের জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্ক্যানরেগের সহায়তা নেয়। পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ডে অবস্থিত স্ক্যানরেগ এসব জাহাজ ‘সেইন্ট ক্রিস্টোফার অ্যান্ড নেভিস ইন্টারন্যাশনাল শিপ রেজিস্ট্রি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে হস্তান্তর করে। এই প্রতিষ্ঠানটি ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অবস্থিত করস্বর্গ ‘সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস’ দ্বীপপুঞ্জে নিবন্ধিত।

এর মাধ্যমে জাহাজটি কোন দেশের সে তথ্যের পরিবর্তন ঘটে। পরে জাহাজ পাঠিয়ে দেওয়া হয় বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ এশিয়াভুক্ত দেশগুলোতে। স্ক্যানরেগের প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্যতম একজন মালিক নাইজেল স্মিথ এমন কৌশলের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘এটা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বাণিজ্যিক লেনদেনের একটি বিষয়।’ কিন্তু যুক্তরাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

‘ফাইন্যান্স আনকাভার্ড’ লন্ডনভিত্তিক একটি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাভিত্তিক সংস্থা। ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠাতা করা হয় অর্থ পাচার, কর ফাঁকি ও দুর্নীতি বিষয়ক তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে। সংস্থাটিকে অর্থায়ন করে ন্যাশনাল এনডৌনমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি, ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন এবং উইলিয়াম অ্যান্ড ফ্লোরা হিউলেট ফাউন্ডেশনের মতো সংস্থা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •