cbn  

বলরাম দাশ অনুপম:

কলাগাছ। এমনিতে এই গাছের তেমন কোন দাম না থাকলেও বর্তমানে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এই গাছটি। সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, এই নির্বাচনগুলো দলীয় প্রতীকে হওয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের তালিকা স্বাভাবিক ভাবেই দীর্ঘ হয়। বিশেষ করে প্রথমবারের মত দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ তথা নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশি অনেকেই। আর যারা মনোনয়ন বঞ্চিত হন তাদের মধ্যে কারো কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন জায়গায় কলাগাছ লাগানোর মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানান।

সর্বশেষ শনিবার রাতে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো: আলীর নাম ঘোষণা হওয়ায় মনোনয়ন বঞ্চিত উপজেলা যুবলীগ সভাপতি নুরুল আলমের কর্মী-সমর্থকেরা কলা গাছ লাগিয়ে প্রতিবাদ জানাই। এসময় নুরুল আলম ও কলা গাছ, কলা গাছ বলে শ্লোগান দিয়ে মিছিলও বের করেন। শনিবার রাত ১১টার দিকে টেকনাফ পৌর শহরের প্রধান সড়কে সারিবদ্ধভাবে কলা গাছ লাগান তারা এবং কলা গাছ, কলা গাছ বলে মিছিল করেন। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রধান সড়কেও কলা গাছ রোপন করে নুরুল আলমের সমর্থকরা প্রতিবাদ করেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারী চকরিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার পর ওইদিন রাতেই মনোনয়ন বঞ্চিত আওয়ামীলীগ নেতা ফজলুল করিম সাঈদীর সমর্থকেরা কলাগাছে চেয়ে দেয় চকরিয়া পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

শুধু উপজেলা নির্বাচন সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও কলাগাছ বাদ যায়নি। সেসময় কক্সবাজার সদর-রামু আসনে সাইমুম সরওয়ার কমলকে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার গুঞ্জনে কক্সবাজার শহরসহ সদর-রামুর বিভিন্ন স্থানে কলাগাছ রোপন করে প্রতিবাদ জানান কমলের কর্মী-সমর্থকরা। সংসদ কিংবা উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতদের কর্মী-সর্মথকেরা কলাগাছ লাগানোর মাধ্যমে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ক্ষোভ আর হতাশা জানালেও ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের। পরিবেশবিদদের মতে-যে পরিমাণে কলাগাছ কেটে সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয় সেই কলাগাছগুলো যদি ঠিকমত পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে বড় হত তাহলে সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট চাষীরা লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করতে পারতো। তাই ভবিষ্যতে কলাগাছ রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেছেন পরিবেশবিদরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •