cbn  

তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে ছিনতাইয়ের কবলে পড়া ময়ুরপঙ্খী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের পথে রওনা দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের প্রায় বিশ ঘন্টা পর দুপুর দেড়টার দিকে বিমানের আরেকটি প্লেনে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছেন শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার সারওয়ার-ই-জামান। তিনি বলেন, গত রোববার জরুরি অবতরনের পর যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়।

বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের স্টেশন ম্যানেজার মাহফুজুল আলম জানান, আটকা পড়া ১৪৭ জন যাত্রীকে রোববার বিভিন্ন হোটেলে রাখা হয়। সোমবার দুপুরে তারা অন্য একটি ফ্লাইটে রওনা হয়ে যান।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য জানা যায়, বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে যে যুবক কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়েছেন, তার আঙুলের ছাপ ক্রিমিনাল ডাটাবেইজে থাকা এক অপরাধীর সঙ্গে মিলে গেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান আজ সোমবার (২৫ ফেরুয়ারি) বলেন, তাদের ডাটাবেইজের তথ্য অনুযায়ী ওই যুবকের নাম মো. পলাশ আহমেদ। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের দুধঘাটা এলাকার পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে তিনি।

রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কমান্ডো অভিযানের পর সেনা ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা শুধু বলেছিলেন, নিহত ব্যক্তির নাম ‘মাহাদী’, তার বয়স ২৬/২৭ বছর।

তার বিস্তারিত পরিচয় বা তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কোনো তথ্য সে সময় তারা জানাতে পারেননি। তার কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে সেটি একটি ‘খেলনা পিস্তল’ বলে চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুবর রহমান রবিবার রাতে জানিয়েছিলেন।

বিমানের প্যাসেঞ্জার লিস্টের বরাত দিয়ে র‌্যাব বলছে, নিহত ওই যুবক ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বিমানে চড়েন চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য। চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার কথা ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭ উড়োজাহাজটির।

মুফতি মাহমুদ খান বলছেন, প্যাসেঞ্জার লিস্টে ওই যাত্রীর নাম ছিল AHMED/MD POLASH, সিট নম্বর 17A

তবে ঠিক কী ধরনের অপরাধের জন্য পলাশ আহমেদের নাম র‌্যাবের ক্রিমিনাল ডাটাবেইজে যুক্ত করা হয়েছিল সেই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক।

এদিকে যে বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় বইছে তিনি নাকি চিত্র নায়িকা সিমলা’র প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এই ঘটনা ঘটাতে চেয়েছিলেন এমন গুঞ্জনও শুনা যাচ্ছে। নিহত বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী মাহমুদ পলাশ বিয়েও করেছিলেন বলে পলাশের বাবা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেরুয়ারি বিকেলে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বেড়াজাল ডিঙিয়ে অস্ত্র নিয়ে রোববার বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী ফ্লাইটে উঠে পড়েছিলেন ওই যুবক। তিনি পাইলটের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে তার ‘পারিবারিক সমস্যা’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা ঘিরে ফেলে। এর কিছুক্ষণ পর নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডোর অভিযানে পলাশ নিহত হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •