মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আসসালামু আলাইকুম।

আমি কক্সবাজার শহর জাতীয় পাটি সাবেক সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা জাতীয়পার্টির সাবেক সহ-সভাপতি প্রয়াত কামাল উদ্দিন কামালের পুত্র। আমি কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।
মাননীয় মমতাময়ী মা,
আমার শ্রদ্ধেয় পিতা কামাল উদ্দিন গত ১৯ নভেম্বর দুরারোগ্য ব্যাধিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না..রাজেউন)।
আমার পিতা সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। নিজে না খেয়ে, গরীব, অসহায় ও অভুক্ত মানুষকে খাওয়াতেন। আব্বুর সহায় সম্পত্তি টাকাপয়সা যা ছিল, সব মানুষের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন।
আমার পিতার অতিমাত্রায় উদারতা ও টাকা খরচ নিয়ে আমার মা কখনো কখনো আপত্তি করলে মাকে বকাঝকা করতেন। বলতেন, তোমাদের আল্লাহ দেখবেন।
আমার পিতা তার যৌবনের শ্রেষ্ট সময়গুলো মানুষের উপকার করে কাটিয়েছেন। নিজের জন্য কিছুই করেননি। আমাদের জন্য কিছুই রেখে যাননি। এমনকি কোন ব্যাংক ব্যালেন্সও নেই। বরং আব্বার চিকিৎসাকালীন সময়ে দশ লাখ টাকার উপরে ধার দেনা হয়েছে। বর্তমানে আমরা চার ভাই বোন নিয়ে আমার মা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমাদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি ঠিকমতো তিন বেলা খাবার খাওয়াও আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
আব্বুর জীবদ্দশায় যাদের পাশে দেখতাম তারাও আজ পাশে নেই। যে সংগঠনের জন্য দীর্ঘ দু’যুগেরও বেশী সময় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সে সংগঠনের কোন সিনিয়র নেতাও আমাদের কোন খোঁজখবর নিচ্ছেন না। আব্বুর জানাজার মাঠে কক্সবাজার সদর রামু আসনের এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তাক আহম্মদ চৌধুরীসহ অনেক বিশিষ্ট নাগরিক আমার পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাদেরও কোন সহযোগিতা আজ পর্যন্ত আমরা পাইনি।
মাননীয় জননেত্রী,
আপনি বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালবাসার সর্বশেষ ঠিকানা। অসহায়, ভাগ্যবিড়ম্বিত ও আশ্রয়হীন মানুষের আশ্রয়স্থল।
আপনি ২০১০ নিমতলী ট্র্যাজেডির ঘটনায় তিন অসহায় মেয়েকে কুড়িয়ে নিয়ে নিজের মেয়ে হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে মানবতার অনন্য নজির স্থাপন করেছিলেন। তারা আজ আপনার পরিচয়ে দেশবিদেশে পরিচিত।
শুধু তাই নয়, আপনি প্রায় ১১লাখ রোহিঙ্গাকে এদেশে আশ্রয় দিয়ে সারা বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন। এরকম হাজার হাজার দৃষ্টান্ত রয়েছে। আপনার মহানুভবতার কথা লিখে শেষ করা যাবে না।
মাননীয় জননেত্রী,
আজ আমরা নিমতলীর ৩ এতিম কন্যার মতোই অসহায়। আমাদের দুর্দিনে কেউ আমাদের পাশে নেই। আপনি ছাড়া আমাদের কষ্ট বুঝারও কেউ নেই। আমরা চরম অসহায় হয়ে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি।
প্লিজ, আপনি আমাদের পাশে দাঁড়ান। আপনার একটু সাহায্য পেলে আমাদের কষ্ট ঘুচে যাবে। অকালে পিতা হারানোর কষ্ট কিছুটা হলেও লাগব হবে। একটি পরিবারে নিদারুণ কষ্ট, গ্লানি ও অসহায়ত্বের বদলে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসবে।

বিনীত নিবেদক
ইমতিয়াজ উদ্দিন সামি
মরহুমের দ্বিতীয় সন্তান
০১৮১৯৬৩৬৩১৩

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •