তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। দেশের প্রথম টানেল চট্টগ্রামে। এই টানেলের মধ্য দিয়ে আরো একধাপ এগিয়ে গোলো বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এক সময় নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল বাংলাদেশ। সেই থেকে মনে মনে শপত নিয়েছিলাম কখনো যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই তাহলে দেশকে এমনভাবে গড়ে তুলব যেন সারা বিশ্ব বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে বাংলাদেশের দিকে।

রোববার (২৪ ফেরুয়ারি) দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের বোরিং কার্যক্রম এবং লালখানবাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং প্রকল্পের ফলক উন্মোচন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনা প্রথমবার চট্টগ্রামে এসেছেন।

প্রধাম মন্ত্রী বলেন, এ দেশের কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটি মানুষ শিক্ষা পাবে। এটা বাবা চাইতেন। আমরা রক্ত দিয়ে দেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে বাঁচবে এ দশের মানুষ। দুর্ভিক্ষের দেশ বলে বদনাম ছিল। ৩০ লাখ শহীদের জীবনের বিনিময়ে এ স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মানুষ জানতে পারছে। এ টানেলের মাধ্যমে চট্টগ্রামের গোটা অঞ্চল সমৃদ্ধশালী হবে। জিডিপিতে আরও অনেক অর্জন যোগ হবে। ডাবল ডিজিটে নিয়ে যাবো।

শেখ হাসিনা বলেন, চীন বাংলাদেশের জন্য এ প্রকল্পে শতভাগ ঋণ সহায়তা দিয়েছে। ২০১০ সালে এ টানেল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এ টানেলের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এ টানেল আনোয়ারা উপজেলাকে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে যুক্ত করবে। ১০ কিলোমিটার সড়ক করা গেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার চার লেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।

চট্টগ্রামের প্রতি আন্তরিকতা আছে জানিয়ে প্রধান মন্ত্রী বলেন, আমার বাবা চট্টগ্রামকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। বাবার স্বপ্নগুলো আমি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সত্যিকার অর্থে চট্টগ্রাম হবে দেশের দ্বিতীয় রাজধানী। তিনি বলেন, চট্টগ্রামে প্রথম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। আরেকটি কাজ করে দিচ্ছি লালখান বাজার থেকে বিমান বন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু এ জায়গা থেকে হয়। চট্টগ্রামে বিশাল আকারে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। শহরে যানজট কমানোর জন্য বাইপাস করে দিচ্ছি। টানেল নির্মাণ হলে চট্টগ্রামে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন হবে। কক্সবাজার পর্যটন শহর। যাতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠে সে লক্ষ্যে আলাদা কর্তৃপক্ষ করে দিয়েছি। যোগ করেন প্রধান মন্ত্রী।

পদ্ধা সেতুর প্রসঙ্গ তুলে এনে প্রধান মন্ত্রী বলেন, আজ পদ্ধা সেতু দৃশ্যমান হচ্ছে। এই সেতু নিয়ে কতো কিছুনা সয্য করতে হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পদ্মা সেতুর নাম রাখতে চেয়েছিলেন ‘শেখ হাসিনা সেতু’। আমি তা নাকচ করে দিয়েছি, “পদ্মা সেতু নিয়ে যেহেতু এতকিছু হয়ে গেছে, এটা ‘পদ্মা সেতুই’ থাকবে। এটার সঙ্গে আর কোনো নতুন নাম যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন নাই। আমাদের দেশের লোক আমাদের বদনাম করে। একজন হলেন চট্টগ্রামের সুদখোর নোবেল জয়ী ও তার সাথে দুজন স্বনামধন্য পত্রিকার এডিটর প্লাস মালিক রেয়ছে। আর হিলারি ক্লিনটনের (সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) কাছে ইমেইল পাঠিয়ে নানাভাবে যোগাযোগ করে। কাজেই পদ্মা সেতুকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছিলাম। পদ্মা সেতুতে অর্থায়নে বিশ্ব ব্যাংক চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে পিছু হটেছিল। এ নিয়ে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর সরকার নিজস্ব অর্থায়নে এই সেতু নির্মাণের পথে এগিয়ে যায়। আজ ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে পদ্ধা সেতু।

তিনি বলেন, আমার সম্পদের প্রয়োজন নেই। আমার দেশের মানুষের মুখের হাসি আমার বড় সম্পদ। আমি দিনরাত পরিশ্রম করি। ঠিক মতো ঘুমাইনা। মাত্র কয়েক ঘন্টা ঘুমাই। শুধু দেশের উন্নয়নের চিন্তা।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হোসেন চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে সচিব সাজ্জাদুল হাসান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়–য়া এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •