অধ্যাপক শফিউল্লাহ একজন চেইঞ্জ মেকার

হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী :
একটি দেশের সার্বিক ও সুষম উন্নয়ন তখনই ঘটে যখন দেশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলের উন্নয়নে উদ্ভাবনী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। স্থানীয় সরকারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপজেলা পরিষদ সেই কাজ সঠিকভাবে করতে সক্ষম হবে বলে আমরা মনে করি। পৃথিবীর অন্যসব উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্যই- দেশের সকল উপজেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসছে আগামী ১৮ মার্চ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই উপজেলায় বিশেষ করে নাইক্ষ্যংছড়ির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত চেয়ারম্যান হাজি ছালেহ আহমদের সুযোগ্য ছেলে অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ “চলো এবার বদলে দেই নাইক্ষ্যংছড়ি” স্লোগানে নাইক্ষ্যংছড়িবাসীর হৃদয়ে স্বপ্নের জাল বুনে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। এই পাহাড়ী কণ্যার সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যববহার করে বাংলার আপমর জনসাধারণকে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। ঠিক তেমনিভাবে এবার নাইক্ষ্যংছড়িতে অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ “চলো এবার বদলে দেই নাইক্ষ্যংছড়ি” স্লোগান ব্যবহার করে ইতোমধ্যে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

মহাগ্রন্থ পবিত্র আল-কোরআনের সূরা আস-সাবা’র ১৫-১৯ নং আয়াতে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ তায়ালা বিশুদ্ধ এলাকা, শান্তির এলাকা এবং দীপ্তিমান এলাকা প্রতিষ্ঠার কথা ব্যক্ত করেছেন। সেই ইতিহাসের সাথে যদি তুলনা নাও করি তবে, সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্লেষকগণ বিশুদ্ধ এলাকা বলতে, যে এলাকা মশক, ছারপোকা, বৃশ্চিক জাতীয় পোকা মাকড়ের ঝামেলা থেকে এলাকাবাসী মুক্ত থাকবে তাকে বুঝিয়েছেন। অন্যদিকে দীপ্তিমান এলাকা বলতে, ব্যবসা বাণিজ্যের উপযুক্ত, বাসপোযোগি এলাকা, পরিচ্ছন্ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা নির্দেশ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনের এই আয়াত থেকে মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষের জন্য উত্তম এলাকার কথা বর্ণনা করেছেন যাতে মানুষ কৃতজ্ঞ হয়। শান্তির, বিশুদ্ধ এবং দীপ্তিমান এই অঞ্চলগুলো এমন হবে, যা হবে ধনী গরিবের সম্মিলিত সুখের, রং বে-রংঙের বৃক্ষ, সুস্বাদু ফল, ফুল ও ছায়া সুনিবিড় বৈষম্যহীন অঞ্চল, সৎ, যোগ্য ও ধর্ম ও নৈতিক আদর্শের বলে বলীয়ান নেতার আদেশে পরিচালিত প্রশংসিত এলাকা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের সরকার দলীয় (নৌকা) চেয়ারম্যান প্রার্থী- উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের থেকে একটু ব্যাপক পরিসরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। আসলে জনাব অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ উপজেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুধু ভোটভিত্তিক কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন না। তিনি এবং তাঁর পরিবারের তিন প্রজন্মের সকল নেতৃবৃন্দ নাইক্ষ্যংছড়ি ও এর মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন বহু বছর ধরে।

একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা, উন্নত, সুখি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে রাষ্ট্র নায়কগণ অতীতে যেমন শ্রম দিয়েছেন আজ অবধি নানামাত্রিক সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে তাঁরা উন্নয়ন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে হাজির হচ্ছেন। এই বিষয়ে কতিপয় উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, যেমন, সম্প্রতি মালোশিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে নাজিব রাজ্জাক তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার স্লোগান রেখেছিলেন “Rebuild the country”। ওই নির্বাচনে বিজয়ী নেতা মাহাথির মোহাম্মাদ তাঁর দলের নির্বাচনী প্রচারণায় স্লোগান রেখেছিলেন “Make the country greater”। মালোশিয়ার মহান ও দূরদর্শী রাজনৈতিক নেতা মাহাথির মোহাম্মাদের রাজনীতি থেকে দীর্ঘ বিরতীর পর আবারো তিনি দেশটির মানুষকে ঘুষ দুর্নীতি হতে মুক্ত করতে রাজনীতির মাঠে নেমে পড়েন। তাঁর এই স্লোগান মালেশিয়ার মানুষ মনে প্রাণে গ্রহন করে। দেশটির জনগণ আধুনিক মালেশিয়ার রূপকার এবং রাজনীতির এই মহানায়ককে ব্যাপক সমর্থন প্রদান করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন। এ থেকে বুঝা যায় মানুষ শান্তি প্রত্যাশী।

এরকমভাবে যুগে যুগে পৃথিবীর নানা দেশে যেমন ২০১০ সালে বৃটেনের নির্বাচনে কনজার্ভেটিভ পার্টির স্লোগান ছিলো “Vote For Change”। ২০১৭ সালে বৃটেনের নির্বাচনে লেবার পার্টির নেতা জেরমি করবিন নির্বাচনী স্লোগান রেখেছিলেন “For the many, not the few”। অন্যদিকে থেরেসা মে তাঁর দলের স্লোগান রেখেছিলেন “Strong, stable leadership in the national interest”। এই নির্বাচনে বৃটেনের নেতারা কোথাও কোথাও “People before profit” অর্থাৎ “মুনাফার চেয়ে মানুষ বড়’ এরকম নানারকম দূরদর্শী মানব হৃদয়স্পর্শী স্লোগান ব্যবহার করেন। সেই নির্বাচনে কনজারেভেটিব পার্টি বিজয়ও লাভ করে। ২০১৬ সালের আমেরকিার সাধারণ নির্বচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ছিলো “Make America Great Again!” এবং তিনি বিজয়ও লাভ করেন। হিলারি ক্লিন্টন তাঁর প্রচারণায় ব্যবহার করেন “Stronger Together” স্লোগানটি।

নির্বাচনে স্লোগান ব্যবহারের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে বুঝা যাবে রাজনৈতিক দলের নেতারা তাঁদের জনগণের মাঝে স্বপ্ন জাগাতে নানামাত্রিক উদ্ভাবনী স্লোগান ব্যবহার করেন। যেমন ১৮৪৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হেনরি ক্লেন ও ফ্রেনিংগুসেন ব্যবহার করেন “Hurrah!Hurrah! The Country’s Rising, for Henry and Freilinghuysen”। ১৯১২ সালে উড্রো উইলসন ব্যবহার করেন “Vote for 8 hour Wilson”। ২০০০ সালে আল গোর ব্যবহার করেন “Leadership for new Millennium”। ২০০৮ সালে বারাক ওবামা ব্যবহার করেন “Yes We Can” ও “Change We Need”। অস্ট্রেলিয়ার জন হাউয়ার্ড ২০০৭ সালে অর্থনীনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করেন “Go For Growth”। এক সময় ভারতীয় কংগ্রেসের অংশগ্রহনমূলক উন্নয়ন ও সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক স্লোাগান ছিলো “Power In Every Hand: Progress For Everyone”। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনী স্লোগান ছিলো দারিদ্রতা হটাও অর্থাৎ “Go For Growth”।

এই স্লোগানের পর ইন্ডিয়ার দুঃসময়ের অর্থনীতিতেও দেশের গরীব মানুষের মধ্যে আশা জাগায় ও সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটে। ২০১১ সালের নির্বাচনে ভারতের তৃনমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা ব্যানর্জির নির্বাচনী স্লোগাল ছিলো “মা, মাটি ও মানুষ”। মমতা তাঁর এই স্লোগান ব্যবহার করে ক্ষমতায়ও অধিষ্ঠিত হোন।

বিশ্ববিখ্যাত এসব নেতাদের রাজনৈতিক দর্শনের সাথে মিল রয়েছে শুধু নাইক্ষ্যংছড়ির প্রাণের নেতা অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহর। তাই এবারে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাচনে শফিউল্লাহ তথা নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষের প্রাণের স্লোগান “চলো এবার বদলে দেই নাইক্ষ্যংছড়ি” এই স্লোগান ১৮ মার্চ সারাদিন মানুষের ব্যাপক সমর্থনে জয়যুক্ত হবে ইনশাল্লাহ। অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহ হবেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান! মানুষ পাবে শান্তি। স্বপ্নের উপজেলায় তাঁরা শান্তিতে বাস করতে পারবেন। জীবনমান হবে উন্নত। উপজেলার মানুষ মাদকের কালো থাবা থেকে মুক্তি লাভ করবে। সন্ত্রাসমুক্ত পাহাড়ী কণ্যা পাবে মানুষ। অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহর সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান নাইক্ষ্যংছড়ির মানুষের জীবনের উন্নয়নে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবেন। সময় ও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তিনি করবেন বজায়যোগ্য উন্নয়ন। এই স্বপ্নের উপজেলার জন্যই আমরা যেমন উপজেলা চেয়ারম্যান চাই, তেমনি অধ্যাপক মো.শফিউল্লাহকে চাই, চেইঞ্জ মেকার হিসেবে। অন্য কাউকেও নয়!!!

লেখক: হাফিজুল ইসলাম চৌধুরী
প্রচার ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাব।
মোবাইল, ০১৮২৬-৫১৪৯১৬।

তথ্য সূত্র: ইন্টারনেট।

সর্বশেষ সংবাদ

উখিয়া-নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত ছড়া ব্রিজ নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

আজ সৃজিত-মিথিলার বিয়ে

নতুন অফিস ব্লাড ডোনার’স সোসাইটি ফুটবল টুর্ণামেন্টের ১ম সেমিফাইনাল সম্পন্ন

দেশ ভিত্তিক মসজিদের সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশ স্থান তৃতীয়

মুজিববর্ষের কর্মসূচি

র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় বুয়েটের আরও ৮ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার

সৌদি সরকারের ৫ম বর্ষে পদার্পণ, দি কক্স স্টার সোসাইটির অভিনন্দন

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

চুরি হওয়া ৪৯ মোবাইল ফেরত পেতে পুলিশের সাথে যোগাযোগের অনুরোধ

ভারতে ধর্ষণের পর হত্যা, অভিযুক্ত ৪ জনই পুলিশের গুলিতে নিহত

দুই বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ দেশ থকে আসলো আরো ৩ হাজার টন পেঁয়াজ

চকরিয়ায় শহীদ দৌলত দিবস পালিত

চকরিয়ায় প্রথম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ

চট্টগ্রামের ইপিজেডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহত ৬

লম্বরী মলকাবানু হাইস্কুলের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী অপহৃত

ইয়াবার প্যাকেটে ‘ডাল’

মিয়ানমার সফরে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলোচনা

ব্যারিস্টার হলেন খালেদা জিয়ার নাতনী জাইমা

আমি কি একটু বিষণ্ণও হতে পারবোনা?