তাজুল ইসলাম পলাশ, চট্টগ্রাম:

ফেইজবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গত চার মাস আগে আশাকে বিয়ে করে শামীম। শামীর এর আগে আরেকটি বিয়ে করেছিলো তার দুটি সন্তানও রয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকে শামীমকে খুনের পরিকল্পনা করে আশা আক্তার। আশা আক্তার আগে কখনও চট্টগ্রাম আসেন নি। গত ১৬ ফেরুয়ারি শামীমের সঙ্গে প্রথম এসেছিলেন। সেদিনই শামীমকে ঘুমের মধ্যে খুন করে বগুড়া পালিয়ে যান। হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা ছুরিটি বগুড়া থেকে কিনে নিয়ে এসেছিলেন আশা আক্তার। বুধবার (২০ ফেরুয়ারি) দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) কুসুম দেওয়ান এমন তথ্য জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-কমিশনার (পশ্চিম) ফারুক উল হক, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার কামরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (পাহাড়তলী জোন) পংকজ বড়–য়া, পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

কুসুম দেওয়ান বলেন, শামীমকে বগুড়াতে স্যাটেল (স্থায়ী) করার জন্য এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক কিনে দিয়েছিলেন আশা আক্তার। কিন্তু শামীম আশা আক্তারকে না বলে চট্টগ্রাম চলে আসায় ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। এর পরই খুনের পরিকল্পনা করে আশা। শামীম ফোনে আশা আক্তারকে চট্টগ্রাম চলে আসার জন্য বললে তিনি রাজি হয়ে যান। পরে শামীম গিয়ে আশা আক্তারকে নিয়ে আসেন এবং ভাড়া বাসায় উঠেন। সেখানে শামীমকে একাই খুন করে আশা আক্তার। বলেন কুসুম দেওয়ান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি ফোন কলের সূত্র ধরে প্রথমে ভিকটিম শামীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। পরে শামীমের সঙ্গে কথোপকথনের সূত্র ধরে শনাক্ত করা হয় আশা আক্তারকে। শামীমের পরিবারের কেউ আশা আক্তারকে চিনতেন না, কখনও দেখেননি। না চিনলেও শামীমের সঙ্গে এক মেয়ের মোবাইল ফোনে কথা হয় এমন তথ্য পুলিশকে দেন শামীমের পরিবার। আশা আক্তারের পরিচয় পেয়ে পুলিশ দুইদিন বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে সদর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুন হওয়ার পর পাহাড়তলী থানাধীন আবদুল আলী নগর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তদন্তের দায়িত্ব পান পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অর্ণব বড়–য়া। তিনি বলেন, বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য বাড়ির মালিকের মেয়ের মোবাইল নাম্বারে কল দিয়েছিলেন শামীম। সেই নাম্বারের সূত্র ধরে শামীম ও আশা আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। বগুড়ায় আশা আক্তারের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকান্ডের ব্যবহার করা ছুরি ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে আশা আক্তারকে আদালতে তোলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় পাহাড়তলী থানার আব্দুল আলী নগর নেছারিয়া মাদ্রাসা এলাকার একটি বাসা থেকে শামীমের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •