এমএ সাত্তার:
ছনখোলা মালিপাড়া, কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর ২নং ওয়ার্ড। সদর উপজেলা পিআইও কার্যালয়ের অধীন একটি প্রকল্প এলাকার নাম। সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ইউনুচ ঘোনার পশ্চিমে দাশের খালের উপর প্রায় বিশ লক্ষ টাকার ব্রীজ নির্মাণ কাজ চলছে। যা বাস্তবায়ন করছে সদর উপজেলার পিআইও অফিস।
এলাকাবাসীর অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু নজরদারী না থাকায় ব্রীজ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে।
অভিযোগে জানা যায়, উক্ত ব্রীজ নির্মাণে যথাযত লোড টেষ্ট হয়নি, ফাইলিং’য়ের কাস্টিং কাদামাটির ভিতরে নির্দিষ্ট পরিমাণ গভীরতায় হয়নি, কাষ্টিং’য়ে পাথর-সিমেন্ট-বালুর পরিমাণ সঠিক নিয়ম না মেনে, স্থানীয় বালু ব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়মের মধ্যদিয়ে তড়িগড়ি ভাবে স্থানীয় মিস্ত্রির তদারকিতে ব্রীজের কাজ শেষ করতে চলছে। যার কারণে ব্রীজটির স্থায়ীত্ব নিয়ে জনমনে সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে, বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী জানান, গতকয়েকদিন আগে অনিয়মের কারণে ব্রীজের কাজ বন্ধ রাখছিল প্রকৌশল অফিসের এক কর্মকর্তা। কোন কর্মকর্তা পরিদর্শন করেছিলেন পরিচয় জানতে চাইলে কৌশলে এড়িয়ে যান।
এবিষয়ে কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মনিরুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে বলেন তিনি বা তাঁহার অফিসের কেউ পরিদর্শনে গেছেন কিনা জানা নেই তাঁর। এলাকার নাম প্রকল্পের নাম মনে করিয়ে দিয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প সম্পর্কে ফাইল না দেখে বলতে পারবেন না বলে প্রতিবেদককে জানান।
একটি সূত্র থেকে জানাযায়, সদর উপজেলা পিআইও অফিস কেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট এই ব্রীজটি মুল ঠিকাদার মোঃ ইকবালের কাছ থেকে সাব কন্ডাকে ২ নং ইউপি সদস্য রমজানকে পাইয়ে দিতে সহায়তা করছে। এবং তিনিই স্থানীয় মিস্ত্রি দিয়ে ব্রীজের নির্মাণ কাজ করছেন।
কিন্তু ইউপি সদস্য রমজান আলী তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ উল্লেখ করে এই ব্রীজের কাজে সম্পৃক্ত নয় বলে জানান। প্রকল্প এলাকা ২নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার হওয়ার পর প্রকল্প সম্পর্কে জানা নেই তার এমন দাবী।
অপরদিকে মুল ঠিকাদার পেকুয়ার বাসিন্দা মোঃ ইকবালও ব্রীজের ঠিকাদার নয় বলে জানান ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিদেককে।
সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেইছ কাষ্টিং (ঢালাই প্রস্তুতি) হয়ে গেছে গত সপ্তাহে। তড়িগড়ি ব্রীজের উপর অংশ ঢালাই সম্পন্ন করার একপ্রকার প্রবণতাও লক্ষ করা গেছে মিস্ত্রিদের মাঝে।
প্রকল্পের ঠিকাদার এবং বর্তমান সরজমিন চিত্র নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শফিউল আলম সাকিব এর নিকট জানতে চাইলে বিরক্তিকর কন্ঠে বলেন, আমরা কি গরু চরাই? কোন অনিয়ম হলে আমাকে, ইউএনওকে অভিযোগ করবে। তোমাকে কেন বলবে?
পিএমখালী দাশের খালের ব্রীজের চলমান প্রকল্পের অনিয়মের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএইচএম মাহফুজুর রহমান জানান, বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসী মনে করছে, প্রশাসনের দুর্বল তদারকির কারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্রীজটি অনিয়মের মধ্যে ঠিকাদার ও মিস্ত্রী তড়িগড়ি করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যা ভবিষ্যতে ভোগান্তি পোহাতে হবে এলাকার মানুষের। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবী যথাযথ তদারকির মাধ্যমে অনিয়ম দূর করে সঠিক সিডিউল মতে প্রকল্প বাস্তাবায়ন হউক।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •