রিয়াজ উদ্দিন ,পেকুয়া :

পেকুয়ায় ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের হেভিওয়েট প্রার্থীরা অবস্থান করছেন ঢাকায়। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে এ সব প্রার্থীরা গত কয়েক মাস ধরে পেকুয়ায় গণসংযোগ করেছেন। ভোটার ও জনগনকে নিয়ে প্রার্থীদের সক্ষমতা তৈরী করেছে। প্রচার প্রচারনায় এ সব প্রার্থীরা পেকুয়ায় ভোটের মাঠে শ্িক্তশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তারা প্রার্থী হচ্ছেন এ পূর্বাভাস জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জানিয়ে দেয়। ২০১৯ সালে অনুষ্টিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে পেকুয়ায় আ’লীগের প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশী উৎফুল্ল ও সরব। তারা প্রচার প্রচারনায় এগিয়ে। নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবেন কিনা সেটি এখনও অমিমাংসিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিয়েছিল। সারা দেশে বিএনপি ও এদের মিত্র শক্তির প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি হয়। এতে করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম শক্তিধর দল বিএনপির মধ্যে হতাশা ও অস্তিত্বসংকট দেখা দেয়। জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি তৃণমুল পর্যায়ে এ দলে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। হতাশা ও নির্জীব অবস্থায় দলটির কর্মী সমর্থকরা শহীদ জিয়ার আদর্শচ্যুত হচ্ছেন। তারা দলছুট অবস্থায় আ’লীগে যোগদানের মহোৎসব চলছে। বিএনপি থেকে কর্মী সমর্থকরা আ’লীগে যোগদানের হিড়িক চলছে। উপজেলা পেকুয়ায় এ চিত্র আরও অধিক স্পষ্ট হয়েছে। পেকুয়ায় বিএনপির শক্তিশালী অবস্থান। নবাগত এ প্রশাসনিক উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় নির্বাচনে এ দলটির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। উপজেলার ৭ ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিরাও সংখ্যায় বেশী তারা। ৯১ পর থেকে পেকুয়ায় আওয়ামী রাজনীতির দুর্গে ধ্বস নামে। জাতীয় সংসদের তিনবার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়। পেকুয়ায় বিএনপির জাতীয় নেতার অবস্থান। জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন পেকুয়ার সন্তান সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। এতে তার গতিশীল নেতৃত্বে দলটির অবস্থান পেকুয়ায় সর্বাধিক শক্তিশালী হয়। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে এ দুর্গ চুরমার হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে। পেকুয়ায় তার প্রাপ্তভোট ৩০ হাজারেরও কম। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী এ উপজেলা থেকে ৫৬ হাজারেরও বেশী ভোট পেয়েছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও সংসদ নির্বাচনের এ প্রভাব পড়বে এমন বিশ^াস ভোটারদের মাঝে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনটি পদে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় ডজন। চেয়ারম্যান পদে হেভিওয়েট প্রার্থীর ছড়াছড়ি এ পেকুয়ায়। পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারনায় কারও চেয়ে কেউ কম নয়। প্রচার প্রচারনায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থীরা আরও এগিয়ে। তবে ভোটের মাঠে দেখা যায় এর ভিন্ন চিত্র। বাস্তব প্রতিফলন হচ্ছে জনগন। সাধারন ভোটার কাকে চান এখন এ প্রশ্ন। পেকুয়া থেকে তিনজন প্রার্থীর চুড়ান্ত তালিকা জেলা আ’লীগ বরাবর পৌছে। দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনী থেকে এ তিনজনের নাম চুড়ান্ত করে। এদের মধ্যে সর্বাধিক মুল্যায়িত হন উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক আবুল কাসেম। তাকে প্রার্থী তালিকায় ১ নং স্থান অধিষ্টিত করে। চুড়ান্ত প্রার্থী নিশ্চিত করবে আ’লীগের মনোনয়ন বোর্ড। সুত্র জানায়, জেলা আ’লীগ পেকুয়াসহ উপজেলা পরিষদে জেলার সব কটি উপজেলার প্রার্থী তালিকা রাজধানী ঢাকায় প্রেরন করে। পেকুয়ায় ভোটারদের দৃষ্টি ঢাকার দিকে। কে হবে নৌকার মাঝি এখন এ প্রত্যাশা ভোটারদের। রাজধানী ঢাকায় সব প্রার্থী অবস্থান নিয়েছে। তারা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছেন আবুল কাসেম। জনগন ও ভোট মাঠে তিনি শক্তিশালী প্রার্থী। জনগন চায় তিনি প্রার্থী হউক। সংগ্রাম ও ত্যাগ তাকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে গণ্য করা হচ্ছে। সবচেয়ে নির্যাতিত ত্যাগী হিসেবে মূল্যায়ন করলে এ মুহুর্তে তার বিকল্প খোঁজে পাওয়া দুষ্কর।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •