সংবাদদাতা:
মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ায় এক যুবককে অপহরণের পর পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে হাতে পায়ে গুলি ও ব্যাপক মারধর করেছে সন্ত্রাসীরা। হামলার শিকার যুবক আবুল হায়াত বাবুল (২৪) মোহাম্মদ শাহ ঘোনার ওবায়দুল হকের পুত্র।
হামলার শিকার যুবকের বড় ভাই আইনজীবী সহকারী আবুল হাসনাত জানিয়েছেন, ৬ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার ছোট ভাই আবুল হায়াত বাবুলকে কালামারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, শাপলাপুর সড়কে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে মহেশখালী হাসপাতালে নিয়ে গেলে আঘাত গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাতুল ইসলাম জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তার হাতে পেটে গুলি করা হয়েছে রয়েছে। এছাড়া ব্যাপক মারধরের কারণে তার হাত পা ভেঙ্গে যায় বলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিফাত জানান।
এদিকে আবুল হাসনাত আরও দাবি করেন, নোনাছড়ির পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোদারপাড়া ব্রীজ এলাকা থেকে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় তার ভাইকে উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি দাবি করেন, নোনাছড়ির সেলিম চৌধুরী ও তার অনুগত সদস্য এরফান, রফিক, জয়নাল, নুনাইয়া, মোহাম্মদ উল্লাহ, জিয়া বাহিনীর মিজান, জাফর আলম, দোয়েল, মানিক, আয়াত উল্লাহসহ অন্যান্য সন্ত্রাসীরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
কালারমারছড়ার ইউপি চেয়ারম্যান তারেক শরীফ জানান, হামলার শিকার আবুল হায়াত বাবুল তার নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে সন্ত্রাসীরা এই হামলা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সেলিম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহাব উদ্দিন পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ায় তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে শক্তি প্রদর্শনের জন্য হামলা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, আমি এই ঘটনা অবহিত হয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আহতের ভাই আবুল হাসনাত প্রশাসনে কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •