ইমাম খাইর, সিবিএনঃ
৯০ শতাংশ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল মতিন।
তিনি বলেন, অন্ধত্বের হার কমানো ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে প্রতি বছর জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কর্মসূচি গ্রহণ করে।
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বিকালে সাংবাদিক অবহিতকরণ সভায় সিভিল সার্জন এসব তথ্য জানান।
জেলা ইপিআই সেন্টারে আয়োজিত সভায় সিভিল সার্জন আরো বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়।
এ বছর দুই কোটিরও বেশি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলার সব শিশুকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। টকা পাওয়ার উপযুক্ত অন্তত ৯০ শতাংশ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
তার মতে, ভিটামিন এ ঘাটতি পূরণ করার মাধ্যমে শিশু মৃত্যুর হার ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে সিভিল সার্জন বলেন, ৪ মাস আগে যারা ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেয়েছে এবং মারাত্মক অসুস্থ এমন কোন শিশুকে ক্যাপসুল দেওয়া হবে না।
কক্সবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ অবহিতকরণ সভা আয়োজন করে। এতে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আলমগীরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল ইসলাম সবুজের সঞ্চালনায় সাংবাদিক অবহিতকরণ সভায় মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করেন জেলা সিভিল সার্জন অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়ক ডাক্তার এসএম জামশেদুল হক।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্যমতে,
কক্সবাজার জেলায় ৬-১১ মাস বয়সী ৫৪ হাজার ১৮৪ জন শিশু ‘নীল রঙ’ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ৯১ হাজার ৬৩০ জন শিশুকে ‘লাল রঙ’ এর ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
মারাত্মক অসুস্থ ছাড়া ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী যে কোনো শিশু ভিটামিন এ ক্যাপসুল খেতে পারবে। শিশুদের ভরপেটে ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
কক্সবাজার জেলায় স্থায়ী ৯টি, অস্থায়ী ১৮৪০টি, ভ্রাম্যমান ২৭টি ও অতিরিক্ত ৭৫ টি টিকাদানকেন্দ্র রয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৯৫২টি কেন্দ্রে ২৩৫ জন স্বাস্থ্য সহকারী কাজ করবে।
এছাড়াও ২১১ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী, ৫৪০৭ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ২১৯ জন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •