শাহীন মাহমুদ রাসেল:

পল্লী বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে কক্সবাজার জেলার লক্ষাধিক গ্রাহকের । নতুন বিল ব্যবস্থাপনার বলি হচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বকেয়া বিল পরিশোধ করা হলেও নতুন মাসের বিলের সাথে পুনরায় চলে আসছে পরিশোধকর্তৃক বিল। জটিল বিল ব্যবস্থাপনা কবলে পড়ে পরিশোধকৃত বিল দ্বিতীয় বার পরিশোধ করছেন অনেকেই।

পরিশোধকৃত বিল কাটচাট করতে টাকা, সময়, শ্রম ব্যায় করে গ্রাহকদের ছুটে আসতে হচ্ছে জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে। দীর্ঘ সময় দেনদরবার করে বের করছেন মূল বিল। একটি কাউন্টারে ঘন্টা সময় লাইনে দাঁড়িয়ে বিল পরিশোধ করতে হয় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা সাধারণ গ্রাহদের।

তাছাড়া পরিশোধকৃত বিল চলে আসার জবাব চাওয়া ও খুচরা টাকা না আনাসহ নানা কারণে স্টাফ কর্তৃক অপযস্থ হচ্ছেন গ্রামের লেখাপড়া না জানা মানুষজন। এতে রীতিমত হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে জানান একাধিক।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, বিল পরিশোধ কাউন্টারে লম্বা লাইন। পাশের একটি টেবিলে ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহকের জটলা। অনেককেই দেখা যায় বিদ্যুৎ বিল নিযে একাধিক অভিযোগ করতে। কেউ বলছেন গত মাসে তিন মাসে বিল পরিশোধ করলাম আবার এই মাসে পরিশোধকৃত বিলসহ চলে আসছে। কেউ বলছেন বিল পরিশোধ করেছি অথচ কারেন্টের লোকেরা মিটার কেটে এসেছে।

কেউ বলছেন ,গুরুত্বপূর্ণ কাজ কাম ফেলে রেখে আসছি। একটি কাউন্টারে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি। টাকা দিয়ে যেনো বিপদ কিনে আনছি। ঘন্টা সময় বসে দেখা যায়, বিল পরিশোধ করেছেন এমন ২০ থেকে ২৫ গ্রাহক এসেছেন যাদের বিলের কাগজে আবার পরিশোধকৃত বিল চলে আসছে। জেলার রামু, মহেশখালী, সদর উপজেলার দূরবর্তী ইউনিয়ন গ্রাম থেকে কাজ ফেলে রেখে অতিরিক্ত বিল আসার কারণ জানতে ও নতুন বিল পরিশোধ করতে এসেছেন তারা।

দুয়েকজনকে দেখা যায়, পরিশোধকৃত পাশের টেবিলে কাটচাট না করেই পরিশোধ করতে। কিছু গ্রাহক এসছেন বিল পরিশোধ করার পরও বিদ্যুৎ মিটার কাটা হয়েছে। নতুন করে সংযোগ নেয়া ও পরিশোধকৃত বিলের যাচাইবাচাই করতে সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করতে দেখা যায় তাদের। এছাড়াও স্বল্প ব্যবহারের পরও বেশি বিদ্যুৎ বিল আসাসহ নানা সমস্যা নিয়ে দেনদরবার করতে দেখা যায় আরো কিছু গ্রাহকদের।

রামু উপজেলা থেকে আসছেন গোলাম রাব্বানী নামে এক গ্রাহক। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিল পরিশোধ করার পরও জানুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিলে পুনরায় চলে আসছে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের বিলও। তাই বাধ্য হয়ে সবজী চাষের কাজকাম ফেলে রেখে জটিলতা ভাঙ্গতে জেলা অফিসে আসছেন তিনি। পাশের টেবিলে বিল কার্টচাট করে বলা হয় শুধু জানুয়ারি মাসের বিল পরিশোধ করতে তাকে।

ভুক্তভূগি গেলাম রাব্বানী বলেন, খেতের কাজ রেখে আসছি। গতমাসে দুই মাসের বিল পরিশোধ করার পরও আবার বিলের কাগজে পরিশোধকৃত বিল চলে আসছে। এ কেমন ব্যবস্থা। টাকা পয়সা খরচ করে আমাদের কষ্ট করে আসতে হয়।

সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়ন থেকে এসেছেন আব্দুল জহির নামে এক গ্রাহক। স্থানীয় ব্যাংককে গত মাসে ৪ মাসের বিল পরিশোধ করেছেন তিনি। ডিসেম্বর মাসের বিলের সাথে পরিশোধকৃত ৪ মাসের বিলও চলে আসছে তার। স্থানীয় ব্যাংককে যোগাযোগ করা হলে তারা তাকে এ জটিলতা ভাঙ্গতে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে পাঠিয়ে দেয়।

আব্দুল জহির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গতমাসে টাকা পরিশোধ করে গেলাম আবার এ মাসের বিলের সাথে চলে আসছে। এটা শুধু আমার না, এলাকার অনেকেরই। বিদ্যুৎ বিলের নামে আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে আরেক গ্রাহক বলেন, গত মাসের শেষের দিকে বিল পরিশোধ করেছি। তারপরও আমার বিদ্যুৎ মিটার কাটা হয়েছে। তাই অফিসে এসেছি বিল যাচাইবাচাই করতে।

বিদ্যুৎ পরিশোধ কাউন্টারের লাইনে দাঁড়ানো সুজন নামে এক গ্রাহক বলেন, একটি কাউন্টারের বিল জমা নেয়া হচ্ছে। এতে লম্বা লাইন হয়ে যায়। তাছাড়া খুচরা টাকা না থাকলে স্টাফরা দূর ব্যবহার করেন। বিলের কাগজে রাজস্ব টিকিট দেয়ার কথা থাকলে ম্যানাজার তা দিচ্ছেন না।

পরিশোধকৃত বিল পুনরায় আসার ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম নুর মোহাম্মদ আজম মজুমদার বলেন, গ্রাহকরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করছেন না। তাই একাধিক মাসের বকেয়া বিল আটকা পড়ে। বকেয়া বিল আটকে যাওয়ার এই সমস্যায় পড়েন গ্রাহকরা। সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করলে এমন সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •