সংবাদদাতা
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে কাজ করছে এমন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ পদে কক্সবাজার জেলার স্থানীয় অধিবাসীরাই চাকুরীরত;
এনজিও প্লাটফর্মের সমীক্ষা অনুযায়ী, মোট চাকুরীরত কর্মীর মধ্যে ১১,৪১৮ (৬৬%) জনই স্থানীয়।
কক্সবাজার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৯- বাংলাদেশ রোহিঙ্গা রেসপন্স এনজিও প্লাটফর্ম দ্বারা পরিচালিত নতুন একটি জরিপে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে কাজ করছে এমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত অধিকাংশ কর্মী কক্সবাজার জেলার অধিবাসী।
১০২ টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (৪৬ স্থানীয়/জাতীয় এবং ৫৬ আর্ন্তজাতিক) অংশগ্রহনে তৈরি এ জরিপে দেখা গেছে যে, মোট ১৭,২৭৫ টি পদে বাংলাদেশী (৯৭.৫%) কর্মীরা কাজ করছেন, যার মধ্যে ১১,৪১৮ (৬৬%) জন কক্সবাজার জেলার অধিবাসী। বাকি এক-তৃতীয়াংশ কর্মী (৩৪%) এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ১৭,৭১৮ টি পদের মধ্যে ৪৪৩ টি (২.৫%) পদে বিদেশী কর্মী বহাল আছেন বলে জরিপে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও সংস্থার-স্বল্প মেয়াদী সাধারণ কর্মীর বাইরেও মোট ৫,২৪৮ জন হোস্ট কমিউনিটির স্বেচ্ছাসেবক এসব প্রকল্পে কাজ করছেন।
জাতিসংঘের বভিন্নি এজেন্সিসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো কক্সবাজারের হাজার হাজার অধিবাসীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে রোহিঙ্গা এবং হোস্ট সম্প্রদায়গুলিতে পণ্য ও পরিসেবা সরবরাহ করছে।
এনজিও প্লাটফর্ম সদস্যরা বলেন যে, নতুনভাবে অর্থায়নের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে তারা নতুন প্রকল্পগুলিতে উপযুক্ত স্থানীয় প্রার্থী নিয়োগ দানে আশাবাদী। এছাড়াও স্থানীয় উপযুক্ত কর্মী নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় সংবাদপত্র, অনলাইন এবং অফিসের নোটিশ বোর্ডগুলিতে নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান।
এনজিও প্ল্যাটফর্ম সদস্যরা বলেন, এনজিওগুলি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং পক্ষপাতহীন নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণে সচেষ্ট। এনজিও কিভাবে কাজ করে তা জানা জরুরী। প্রকল্প শুরু এবং শেষ হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা থাকে । এসব পরিচালনার জন্য অধিকাংশ অর্থ আসে বিদেশী সরকার এবং সংস্থাসমূহ থেকে। একটি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে কর্মীর সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হয়। অধিকাংশ সংস্থাই যোগ্য কর্মীদের অন্যান্য নতুন বা চলমান প্রকল্পে পুনঃনিয়োগের চেষ্টা করে। তবে সবসময়ই তা সম্ভব হয়ে উঠে না।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এসব এনজিওগুলোর প্রকল্প শেষ/ অথবা অর্থায়নের অভাবের কারণে ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ মোট কর্মীর ৩.১% ভাগ কর্মীর সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে। এরূপ অনকে প্রকল্প বন্ধের কারণ হলো এদের কার্যক্রম স্থানীয়/জাতীয় সহযোগী সংগঠনগুলোর কাছে হস্তান্তর। যেমন স্বাস্থ্য পরিসেবা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
দাতার অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া, কার্যক্রম/অনুদান শেষ হওয়া অথবা প্রকল্পের কর্মকা- পরিচালনার ক্ষেত্র কমিয়ে আনার প্রয়োজনে, এমনকি ব্যক্তির শৃংখলাভঙ্গ/আচরণগত সমস্যার কারণেও কর্মীর চুক্তি বাতিল হতে পারে। এনজিওগুলো সর্বদা কর্মীদের সঙ্গে সম্মানপূর্বক আচরণ করতে সচেষ্ট, এমনকি তার সঙ্গে চুক্তি শেষ অথবা কোন কারণে তার চুক্তি বাতিল করা হলেও।
জরিপে দেখা যায় যে এনজিওগুলো যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির নিয়োগে এবং তাদের হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনেক প্রাক্তন এনজিও কর্মীরা নতুন নতুন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং বাংলাদেশে অন্য প্রতিষ্ঠানে এমনকি দেশের বাইরেও কাজ করছেন। উল্লেখ্য বাংলাদেশ রোহিঙ্গা রেসপন্স এনজিও প্লাটফম হলো শতাধিক স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তজার্তিক সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি ফোরাম।
আরো তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন- এনজিও প্লাটফর্ম এর এই ঠিকানায়- ngo.platform.bgd@gmail.com

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •