শাহেদ মিজান, সিবিএন:

মহেশখালীতে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাফর আলম বেশ আলোচনায় এসেছেন। যোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি দিনে দিনে ভোটার মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতেও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে বেশি যোগ্য মনে করছেন। সব মিলে পুরো উপজেলাজুড়ে জাফর আলমের ব্যাপক জন সমর্থন তৈরি হয়েছে। মনোনয়ন পেলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার অনেক বেশি বলে মনে করছেন ভোটাররা।

জানা গেছে, জাফর আলম খাঁটি আওয়ামী লীগ পরিবারের একজন সন্তান। নিজেও আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত খাঁটি ও নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মী। তাঁর রক্তশিরায় বহমান বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং আধুনিক উন্নয়ন যাত্রার বাংলাদেশের নির্মাতা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য অপূরন্ত ভালোবাসা। আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে দলের জন্য অনেক ত্যাগ ও অবদান রয়েছে জাফর আলমের। দলের যেকোনো দুঃসময় এবং প্রয়োজনে কখনো পিছপা হননি তিনি। সবসময় দল এবং দলের কর্মীদের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে বর্তমান আওয়ামী লীগের রাজনীতি পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হয়েছেন। এসব পদে থেকে তিনি নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টার মাধ্যমে দলকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করেন।

এবার তিনি মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশী। মহেশখালীর তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁকে দেখতে চায়। সেই লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত তাঁকে মাঠে দেখা যাচ্ছে। মাঠে থেকে গণসংযোগসহ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ভোটাররা রাজনীতির মাঠের পরীক্ষিত নেতা জাফর আলমকে পেয়ে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

রাজনীতিকে মানবসেবার ব্রত হিসেবে মনে করেন জাফর জাফর আলম। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের সেবার জন্যই রাজনীতি। তাই তিনি দলের কর্মী ছাড়াও নিজ এলাকা মহেশখালীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের অসহায় মানুষের সহযোগিতায় সবসময় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চেষ্টা করেন। মানুষের পারিবারিক ও সামাজিকসহ নানা সমস্যা সমাধানের অগ্রণী হয়ে কাজ করেন জাফর আলম। এই প্রচেষ্টাকে আরো প্রসারিত করতে তিনি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি জনপ্রতিনিধিত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন অনেক পোক্তভাবে। ২০০৮ সালের উপজেলা নির্বাচনে মহেশখালীতে তিনি ভাইসচেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়টা তার ঘরে তোলা হয়নি। তবে তিনি মাঠ ছেড়ে যাননি। সেই থেকে সবসময় থেকেছেন জনগণের কাতারে। ২০১৫ সালের উপজেলা নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধানকে সম্মান দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী আনোয়ার পাশাকে সমর্থন করে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। এবার তাঁকেই যোগ্য প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি উঠেছে সর্বত্র।

জানা গেছে, ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন জাফর আলম। ছাত্রজীবনের বর্ণাঢ্য ছাত্র রাজনীতি করেছেন। ওই রঙিন সময়েই দেশ বাঁচাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ডাকে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদ বিরোধী তুমুল আন্দোলনের একজন সক্রিয় আন্দোলন করেছেন। একইভাবে ১৯৯৬, ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালের ৪ দলীয় জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন। ২০০৭ সালের ১/১১ এর তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিরোধী আন্দোলন। ২০১৩, ২০১৪ সালে বিএনপি জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের বিরুদ্ধে এবং দেশের কঠিন সময়ে প্রতিটি আন্দোলনে সামনের সারিতে অংশ গ্রহন করেছিলেন।

রাজনৈতিক জীবন: এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী জাফর আলম। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের বিভিন্ন পদ অলংকিত করেছেন। ১৯৮৮-৯০ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কক্সবাজার সরকারী কলেজ শাখার যুগ্ন সম্পাদক, ১৯৯১- ৯৩ পর্যন্ত সভাপতি, ১৯৯৪- ৯৮ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৪- ৯৮ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহেশখালী উপজেলা শাখার স্টিয়ারিং কমিটির প্রধান, ১৯৯৮-২০০১ পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য, ২০০২-২০০৪ পর্যন্ত আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগ কক্সবাজার শহর শাখার আহবায়ক ও ২০০৪- ২০০৬ পর্যন্ত সভাপতি, ২০০৮-২০১০ ইংরেজি যুবলীগ মহেশখালী উপজেলা শাখার আহবায়ক, ২০০৬- ২০১৮ পর্যন্ত যুবলীগ কক্সবাজার জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে মহেশখালী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদকদের দায়িত্ব পালন করছেন।

পারিবারিক প্রেক্ষাপট: মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের হামিদুর রহমান পাড়ায় জন্ম নেয়া জাফর আলম পারিবারিক প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত বর্ণাঢ্য পরিচয়ের অধিকারী। মহেশখালীর উপজেলার অন্যতম আলোচিত আওয়ামী লীগ পরিবার তাদের। তাদের পুরো বংশ আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর পাগল। পিতা মরহুম হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। বড়ভাই মরহুম আলী আহমদ বি.কম একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা। তিনি হোয়ানক ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন এবং মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্ব পদে জীবনে শেষদিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। মেজভাই এডভোকেট আবুল কাশেম (এপিপি) বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ কক্সবাজার শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। সেজভাই নাছির আহমদ হোয়ানক ইউনিয়ন শাখার সভাপতি দায়িত্বে রয়েছেন। এরছোট ভাই বশির আহমদ বিডিএস(ডেন্টাল সার্জন) কক্সবাজার জেলার একজন নামকরা সরকারি চিকিৎসক। ভাইপুত্র শওকত আলী মানিক জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ভাইপুত্র ওয়াজেদ আলী মুরাদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ মহেশখালী উপজেলা শাখার আহবায়কের পদ থেকে সদস্য অবসর নিয়েছেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় জাফর আলম বলেন, আমার নিজস্ব কোন চাওয়া-পাওয়া নেই। মানুষের একজন সেবক হয়ে কাজ করতে পারলেই তৃপ্ত থাকবো। মানব সেবাই পরম ধর্ম আর আমি সেটা করতেই ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি এবং মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত থাকবো ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ৩০টি বছর আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কক্সবাজার সরকারী কলেজে প্রতিটি মুহুর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ শাহ আলমকে শিবিরের ক্যাডারেরা রক্তাক্ত জখম করে মৃত্যু ভেবে ফেলে গিয়েছিল। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কক্সবাজার জেলার অন্যতম নেতা জাসদ ছাত্রলীগের মোঃ হোসেন মাসুদকে শিবির ক্যাডারেরা হত্যার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার সরকারী কলেজে ছুরিকাঘাত করেছিল। তারা প্রগতিশীল কোন ছাত্র সংগঠনকে সরকারী কলেজ ক্যাম্পাসে সভা সমাবেশ তো দুরের কথা ছাত্র লীগের দু’চার জন নেতাদের একত্রিত হয়ে কথা বলতে পারতো না। সেই ভয়াবহ সময়ে ছাত্রলীগের দায়িত্ব নিয়ে রাজনীতি করা জীবনের অত্যন্ত ঝুঁকি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছি।’

মহেশখালীর তৃণমুলের নেতাকর্মীরা বলছেন, জাফর আলম নিঃসন্দেহে একজন পরীক্ষিত নেতা। তাকে মূল্যায়ন করার এখনই সময়। উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করে তাঁকে মূল্যায়ন করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। খাঁটি আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, দলের দুঃসময়ে একজন কান্ডারি এবং যোগ্য নেতা হিসেবে তাঁকে মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দিতেই হবে। জাফর আলমের মত নেতারা যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তাহলে তৃণমুলের আদর্শবান বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের মুল্যায়ন হবে বলে।

এ ব্যাপারে মহেশখালী উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জাফর আলম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন গর্বিত সন্তান হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করি। তাই বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে বঙ্গবন্ধুকে আর্দশ হিসেবে নিয়ে জীবনচলা শুরু করেছি। তার আদর্শকে ধারণ করে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছি। সেই থেকে জীবনের দীর্ঘপথে অনেক বাধা-বিপত্তি, দুঃসময় ও কষ্ট সহ্য করেও আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হয়নি। এখন সময় এসেছে দল থেকে মূল্যায়িত হওয়ার। সব কিছু বিবেচনায় আমি নিশ্চয়ই মনোনয়ন পাওয়া যোগ্য দাবিদার। আশা করি প্রিয়নেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আমাকে মূল্যায়ন করে মনোয়ন দেবেন।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •