শাহেদ মিজান, সিবিএন:

মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ায় এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ইউনুছখালী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী ওই এলাকার এক গাড়ি চালকের মেয়ে এবং ইউনুছখালী নাসির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি ধামচাপা দিতে ধর্ষিতার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে ধর্ষকেরা। হুমকিতে বর্তমানে এলাকাছাড়া হয়ে গেছে ধর্ষিতার পরিবার।

ধর্ষিতার উদ্ধৃতি দিয়ে তার মা জানান, ২৮ জানুয়ারি ইউনুছখালী নাসির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ছিলো। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়ি আসার পথে ইউনুছ এলাকার ইসমাঈলের পুত্র আবু হানিফ (২৬) এর নেতৃত্বে একই এলাকার মোঃ হোসেনের পুত্র ইসমাঈল হোসেন (২০), কালামিয়ার পুত্র আবদু সালাম (৩৮), মাহমুদুল হকের পুত্র এহছান (১৮), মোঃ ইউসুফের পুত্র আবুল কাসেম (৩৫), আবদুর রহমানের পুত্র ইকবাল ফারুক (৩২), রফিক উদ্দীনের পুত্র আজগর মিলে ওই স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে পাশের তাদের একটি আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে সবাই তাকে ধর্ষণ করে।

ধর্ষিতার মা জানান, অনেক রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় তারা মেয়েকে খুঁজতে বের হন। বিষয়টি এলাকাবাসীকেও জানানো হয়। সবাই মিলে ওই স্কুলছাত্রীকে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে পশ্চিম ইউনুছখালীর ধর্ষকদের আস্তানা থেকে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে বর্তমানে হাসপাতালের ওয়ান স্টপক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ধর্ষিতার বাবা জানান, ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে একটি মহল জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মীমাংসার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে চাপ দিচ্ছে। ধর্ষকদের পক্ষ হয়ে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহজাহানও ঘটনাটি মীমাংসের জন্য চাপ দিচ্ছে। এতে রাজি না হওয়ায় ধর্ষকেরা ধর্ষিতার পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকি দেয়া দিচ্ছে। হুমকিতে আতঙ্কিত পরিবারের লোকজন বাড়ি ছেড়ে কক্সবাজার শহরে এক আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে যোগাযোগ করা হলেও মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহাজাহানের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ‘এই ঘটনার খবর আমি শুনিনি। কেউ কোনো অভিযোগ নিয়েও আসেনি। অভিযোগে পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •