নিজস্ব প্রতিনিধি:

লবণ মাঠের বিরোধের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের হামলায় পিতা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড উত্তর আলিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় ২জনকে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩১ জানুয়ারী দুপুরে আব্দুস শুক্কুরের ছেলে নুর আলম প্রকাশ ইয়াবা আলম ও তার ছেলে নুর মোহাম্মদের নেতৃত্বে দিনদুপুরে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালায়। মৃত আব্দুর রহমান ও মৃত আয়েশা খাতুনের পুত্র মকবুল আহমদ (৬০) এবং তার মেয়ে রাশেদা বেগম (১৮) গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা ঘটনাটি প্রশাসনকে অবহিত করলে টেকনাফ মডেল থানার ওসি (অপারেশন) শরিফুলের নেতৃত্বে এসআই মসিউর রহমান, বোরহান উদ্দিন, আমির ফোর্সসহ এবং সেনাবাহিনীর টীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আহতদেরকে উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে টেকনাফ হাসপাতাল থেকে কক্সবাজার প্রেরণ করা হয়। পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একদিন চিকিৎসা দেয়ার পরেও অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়। হামলায় বৃদ্ধ মকবুল আহমদের (৬০) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যৌথ অভিযান চালিয়ে পুলিশ নুর আলম প্রকাশ ইয়াবা আলমকে পালানোর কারণে ধরতে না পারলেও তার ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৯) এবং স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমকে (৪২) আটক করে নিয়ে যায়। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকার লোকজন জানান-গুরুতর আহত মকবুল আহমদ এর পরিবারকে তারা দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। এমনকি তাদের এক ছেলেকে প্রকাশ্যে উল্লাস করে হত্যা করেছে। এলাকায় তারা কারও বিচার মানেনা। শুনেনা কারও কথা। সম্প্রতি এ ঘটনায় থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী অনেক চেষ্টা করেছে মিমাংসা করার জন্য। কিন্তু ইয়াবা আলম বাহিনী সেই বিচার মানেনা।

উল্লেখ্য-২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট দিনদুপুরে আহত মকবুল আহমদের পুত্র নুরুল ইসলাম কে পিটিয়ে হত্যা করে এই চিহ্নিত ইয়াবা সিন্ডিকেট ও সন্ত্রাসী ইয়াবা আলম বাহিনী। ইয়াবা ব্যবসায়ী আলম সেই হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামী এবং তারা একাধিক ইয়াবা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় নুরুল আলম প্রকাশ গুটি আলম ও শামশুল আলম প্রকাশ আটা ভাই এজাহারভুক্ত আসামি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •