সংবাদদাতা:
কক্সবাজার পৌরসভার লাইট হাউজ, ফাতেরঘোনার উচ্ছেদকৃত জনগণ ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমেদ বাবুর বাসভবনে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। তিনি প্রায় ১ ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলেন। পরে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত থাকার আহবান জানিয়ে নিরাপদে সরে যান কাউন্সিলর বাবু।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে উচ্ছেদ হওয়া বাড়ির লোকজন ঘরের বিভিন্ন সরঞ্জাম হাতে নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। শিশু, কিশোর, আবাল-বৃদ্ধ বণিতার সেই বিক্ষোভ পুরো এলাকায় হৃদয় বিদারক অবস্থার অবতারণা করে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ফতেরঘোনা এলাকার মানুষের আশ্রয়স্থল ছাউনিবিহীন মাটির বিছানা। প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করায় মানুষগুলো কিনারাহীন হয়ে পড়েছে। মথা গুজার ঠাঁই নেই। কনকনে শীতে কচিকাচা বাচ্চাদের নিয়ে মানবেতর সময় পার করছে সেখানকার মানুষগুলো।
ক্ষতিগ্রস্তরা দুঃখ করে জানায়, দেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় হয়েছে। তাদের খাবার, রসদ দিয়ে সহায়তা করছে সরকার। আর বাংলাদেশের ভূমিহীন মানুষগুলোর শেষ আশ্রয়স্থলটুকু কেড়ে নিয়ে সর্বহারা করা হচ্ছে। ১২ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় হলেও স্বাধীন দেশের জনগণ পরাধীনের মতো। নিঃস্ব মানুষদের ভাষা শোনার কেউ নেই। উচ্ছেদ নয়, প্রতিবাদ নয়, পুনর্বাসন চায় ক্ষতিগ্রস্তরা।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী মোরশেদ আহমেদ বাবু জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। তাতে কোন রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধির হাত নেই।
এরপরও এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল, জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সাথে আলাপ আলোচনা করে কিছু করা যায় কিনা দেখবেন বলে জানান কাউন্সিলর বাবু।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •