মাদকাসক্তি হচ্ছে অভ্যাসগত চেতনা উদ্রেকারী দ্রব্যের ব্যবহার যা মানসিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত করে এবং সামাজিক ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর ন্যস্ত। কিন্তু তারা যেন অন্ধ হয়ে পড়েছিল। কিন্ত তা দমনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্যোগ নেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা অভিযানে টিকতে না পেরে দেশের মাদকের ঘাঁটি হিসেবে দেশব্যাপি পরিচিত কক্সবাজারের টেকনাফ ভিত্তিক মাদক ব্যবসায়ীদের একটি বিশাল অংশ (ইয়াবা) কারবারিরা বেসরকারী টিভি চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের এক সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় সরকারের কাছে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে ফেব্রুয়ারী মাসের যে কোন দিনে আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হতে দেখা গেছে। তা হলে মাদক সেবন ও ব্যবসা অনেকাংশ কমে আসতে পারে বলে ধারণা করতে পারে সচেতন লোকজন। তার পরেও সন্দিহান “মাদকের অভিশাপ” থেকে এ জাতি মুক্ত হবে কি?

অপরদিকে ১৯৮৯ সালে প্রণীত বাংলাদেশ মাদক  দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদক দ্রব্য বলতে শারীরিক বা মানসিক ভাবে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারীকে বোঝানো হয়েছে। বর্তমানে মাদকাসক্তি আমাদের সমাজে এক সর্বনাষা ব্যধিরূপে বিস্তার লাভ করেছে। এটি দূরারোগ্য ব্যাধির মতোই তরুণ সমাজকে  গ্রাস করেছে। তরুণ যুব শক্তি দেশের প্রাণ,মেরুদন্ড। মাদকের বিষাক্ত ছোবলে সেই মেরুদন্ড আজ ভেঙ্গে পড়ছে। মাদকাসক্তির বড় কারণ হলো মাদকের সহজলভ্যতা। অসাদু বন্ধুমহল,বাবা-মা ও পরিবারের অমনোযোগ সন্তান বা পরিবারের সদস্যদের প্রতি,অতিরিক্ত মানসিকচাপ,জীবনের  প্রতি অনিহা,হতাশা,আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ক্রমশ বেড়ে চলেছে মাদক সেবনের পরিমাণ। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজের মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিস্তর। সারাদেশে প্রতিবছর যত সামাজিক অপরাধ হয়, তার ৮০ শতাংশের কারণ হচ্ছে ‘মাদক’’।

যার কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়ে মাদক বিরোধী আইন করা হয়েছে। মাদক সেবনে যেমন ভাবে ধ্বংস হচ্ছে বহু তরুণ জীবন তেমন ভাবেই ধ্বংস হচ্ছে ভবিষৎ  প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ যার ফলে হুমকির মুখে পড়ছে দেশের উন্নয়ন। বাংলাদেশে প্রণীত আইনগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯৯ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০০১ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বোর্ড বিধিমালা, ২০০২ সালের এলকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ও ২০০৫ সালের বেসরকারী পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শকেন্দ্র,মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র  প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা ইত্যাদি।

এতগুলও সুস্পষ্ট আইন থাকার পরেও কমেনি মাদকের ব্যবহার,পাচার ও জড়িত নানা অপরাধ। মাদকের এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশ ও দেশের জনগণকে বাঁচাতে হলে যেমন প্রয়োজন সকল আইনের সুনিশ্চিত  প্রয়োগ তার সাথেই প্রয়োজন মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও বিভিন্ন শ্রেণীর পেশার মানুষের কার্যকর অবস্থান। মাদকের কুফল সম্পর্কে ও আইনের কঠোর শাস্তি সম্পর্কে জাতি অবগত হলে,মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ কমিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। এই অপরাধের শাস্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০০৪ এর ১৯ ধারায়। মাদক দ্রব্যের সেবনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড অথবা মৃত্যুদন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও বিধান আছে,৩৫ ক,৩৬,৩৭,ও ৪১ ধারায়। ১৯৯৯ সালের নিয়ন্ত্রণ আইনের ৯ ধারার মতে,বাংরাদেশের সরকারের লাইসেন্স ব্যতীত কোন মাদকদ্রব্য বিক্রি করা যাবে না এবং এ্যালকোহল ০.৫% অধিক ছাড়া সকল প্রকার মাদকদ্রব্য সংশ্লিষ্ট যাবতীয় কর্মকান্ডকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলত ৯ম ধারার সঠিক বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে বেড়ে চলেছে মাদক সেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ। উপরোক্ত আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায়,দেশ ও দেশের ভবিষৎকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও জনসচেতনতা দরকার বলে মনে করেন।

লেখক: ১। নাছরিন সোলতানা শিফা। ২। ফাহমিদা কামাল। ৩। নাভিনা তাহরিন। ৩৬তম ব্যাচ প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •