আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকার প্রার্ন্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের মাঝে প্রকাশ্যে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছে জেলায় পরিচালিত ১১টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকার ‘‘আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন স্কীম” এর আওতায়

এসব তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের প্রতিষ্ঠানের দশ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক গ্রাহকদের মাঝে এই ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় রাঙামাটি শহরের পর্যটন কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঋণ বিতরণ করা হয়।

মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের এসভিপি ও আঞ্চলিক প্রধান জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক বজলার রহমান মোল্যা। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধান কার্যালয় মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জাকির হোসাইন, কৃষি ব্যাংক রাঙামাটির শাখার এজিএম সৃজন ধর, স্থানীয় সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার এজিএম অলিউল নবীসহ স্থানীয় শাখা ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপকবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যে প্রধান অতিথি বলেন, ব্যাংক হিসাবগুলো সচল রাখার লক্ষ্যে গত চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে ২০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককের মাধ্যমে দেশের ৩২টি ব্যাংক এই তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে কৃষি ঋণ বিতরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এসব ব্যাংক তহবিলটির ১৩৯ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য দিয়েছে। এরমধ্যে ৩১টি ব্যাংক এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিও করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রাঙামাটিতে আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের মাধ্যমে দশ টাকার হিসাবধারী প্রান্তিক গ্রাহকদের মাঝে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এই তহবিলটি আমরা তৈরি করেছি প্রান্তিক, ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের জন্য। আমি আশা করি, স্থানীয় ব্যাংকগুলো সহজে ও আরো কম সুদে গ্রাহকেকে ঋণ দিয়ে সহায়তা করবে। আলোচনা সভা শেষে, ১১টি শাখা ব্যাংকের সর্বমোট ৩৯জন প্রান্তিক, ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষক গ্রাহকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে রাঙামাটিতে পরিচালনারত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, পূবালী, কৃষি ব্যাংক, ট্রাষ্ট ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণ করে তাদের সর্বমোট ৩৯জন গ্রাহককে প্রতিজনকে ৫০ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা করে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •