cbn  

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসার সৃষ্ট জটিলতা নিয়ে আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস (কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড) কক্সবাজার জেলা সভাপতি আল্লামা মোখতার আহমদ ও সেক্রেটারী আল্লামা মুফতি কেফায়েতুল্লাহ শফিক ও অন্যান্য দায়িত্বশলীবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, কক্সবাজার দারুল উলুম লাইট হাউস মাদ্রাসাটি আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস এর নিবন্ধিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যার রেজি: নং ১৫৮। মাদ্রাসার বৈধ মুহতামিম (পরিচালক) মাওলানা মোহাম্মদ আলী যিনি বিগত ২১-০৮-২০১৫ ইং থেকে অত্যন্ত সুনাম ও খ্যাতির সাথে মাদ্রাসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জরাজীর্ণ নামমাত্র মাদ্রাসাটির শিক্ষা ও অবকাঠামোগত ঈর্ষনীয় উন্নয়ন হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কারিকুলাম এবং আবাসনের উন্নয়নের কারণে মাদ্রাসাটির সুনাম জেলা ও দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।
তাহার সুন্দর সুদক্ষ পরিচালনা ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানের সুন্দর পথচলা ও শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ করে মাওলানা মোহাম্মদ আলীকে পরিচালনা থেকে সরানোর জন্য ভূয়া অডিট ও গায়েবী শুরা অধিবেশনের মাধ্যমে আঞ্জমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস থেকে বের হয়ে মাদ্রাসাকে বেফাকুল মাদারিসের অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত ও আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: কে প্রধান পরিচালক নিয়োগ করে এবং বিতর্কিত অডিট রিপোর্টকে কেন্দ্র করে বর্তমান মুহতামিমকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। প্রকৃতপক্ষে বোর্ডের অন্তর্ভূক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইত্তেহাদের সংবিধান মোতাবেক অনুমোদিত শুরা কমিটি হচেছ সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম। মাদ্রাসার মুহতামিম নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, অপসারণ, অডিট কমিটি গঠন সহ মাদ্রাসার প্রশাসন সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত দানের জন্য শুরা কমিটি কতৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত। কিন্ত বিগত কিছু দিন যাবৎ সাবেক কমিটির কয়েকজন সদস্য নিজেদের হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অনুমোদিত শুরা কমিটিকে পাশ কাটিয়ে দেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন শাইখুল ইসলাম আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: এর শরানাপন্ন হয়ে বর্তমান মুহতামিম সম্পর্কে তার নিকট ভূল তথ্য উপস্থাপন করে তাকে (আল্লামা আহমদ শফি) মুহতামিম ঘোষণা দেন এবং কথিত বিতর্কিত অডিট রিপোর্টের বাহানা দিয়ে বর্তমান মুহতামিম (মাও: মোহাম্মদ আলী) কে অব্যাহতি পত্র প্রদান করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আল্লামা আহমদ শফি সাহেবকে মুহতামিম নিয়োগ এবং বর্তমান মুহতামিমকে অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও ভিত্তিহীন। কোন বিধি ও ক্ষমতাবলে এ নিয়োগ-অপসারণ তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিষয়টি সঠিক সুরাহার জন্য আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস এর সেক্রেটারী জেনারেল আল্লামা মুফতি আব্দুল হালিম বোখারী দা:বা: স্বয়ং আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: কে চিঠি লিখলেও অদ্যাবধি তিনি কোন জবাব দেননি। স্বার্থান্বেসী মহল কর্তৃক একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় মুরব্বীর নাম ব্যবহার করে এহেন জঘন্য কার্যকলাপে জেলার সকল আলেম সমাজ, কওমী মাদ্রাসা, সকল শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণকে ভাবিয়ে তুলেছে। যার কারণে ইতিমধ্যে সুপরিচালিত ও সুশৃংঙ্খল গতিশীল মাদ্রাসার যাবতীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মাদ্রাসার মজলিশে শুরার অনুমোদন সাপেক্ষে উক্ত অব্যাহতিপত্রকে স্থগিত করার জন্য কক্সবাজার জর্জকোর্টে একটি সিভিল শোর্ট দায়ের করা হয় যেখানে অব্যাহতি পত্রে স্বাক্ষরদাতা হিসেবে আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: ও সহযোগী অপর ২জনকে বিবাদী দেখানো হয়। মহামান্য আদালত অব্যাহতিপত্রের উপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এবং ১৫দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ ইস্যুর আদেশ জারি করেন। প্রকৃতপক্ষে, আদালতের স্বরণাপন্ন হওয়া কোন অবস্থাতেই বিবাদীর জন্য মানহানিকর নয় এবং বিবাদীদেরকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ারও বাধ্যবাধকতা নেই। এটি প্রদত্ত অব্যাহতিপত্রটি স্থগিত করার একটি পক্রিয়ামাত্র। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে কোন ধরণের ভূল বুঝাবুঝির অবকাশ নেই।
বিবৃতিতে জেলা নেতৃবৃন্দ বলেন, মাওলানা মোহাম্মদ আলী লাইট হাউস মাদ্রাসার মুহতামিম এবং তাকে অপসারণের অপচেষ্টা সম্পূর্ণরূপে বেআইনী, অগ্রহণযোগ্য ও কওমী মাদ্রাসার সংবিধান বিরোধী। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বিগত শুরা অধিবেশনে আল্লামা আহমদ শফি দা:বা: কে ছদরে মুহতামিম হিসেবে বরণ করে নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অতএব, এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিয়ে একটি দ্বীনি মাদ্রাসার গতিশীল পরিচালনায় বাধা প্রদান ও লেখা-পড়া ব্যহত না করার জন্য অনুরোধ করছি। সেই সাথে ব্যক্তি স্বার্থের জন্য দেশব্যাপী কওমী মাদ্রাসার সুনামক্ষুন্ন করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ রইল।
বিবৃতি দাতা ইত্তেহাদুল মাদারিসের দায়িত্বশীলবৃন্দ হলেন: আল্লামা মোখতার আহমদ দা:বা:, সভাপতি, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস, কক্সবাজার জেলা। আল্লামা মুফতি কেফায়তুল্লাহ শফিক সাহেব, সেক্রেটারী আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস, কক্সবাজার জেলা ও পরিচালক-জামিয়া ইসলামিয়া টেকনাফ। আল্লামা মুহাম্মদ মুসলিম, পরিচালক-ধাওনখালী মাদ্রাসা। আল্লামা সিরাজুল ইসলাম, পরিচালক-দারুল উলুম চাকমারকুল মাদ্রাসা। আল্লামা মোঃ আজিজ, পরিচালক-জামিয়া এমদাদিয়া পোকখালী। আল্লামা শাহেদ নূর, পরিচালক-ধলির ছড়া আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা। আল্লামা মোহাম্মদ মোহছেন শরীফ, পরিচালক-রাজারকুল আজিজুল উলুম মাদ্রাসা। আল্লামা নূরুল হাকিম, নির্বাহী পরিচালক-বোয়ালখালী মাদ্রাসা। আল্লামা হাফেজ ছালামত উল্লাহ, পরিচালক-মশরফিয়া মাদ্রাসা লিংকরোড। আল্লামা মোঃ আনোয়ার পরিচালক-চিরিঙ্গা মাদ্রাসা। আল্লামা এমদাদুল্লাহ হাছান, পরিচালক-খুরুশকুল অদুদিয়া তালিমুদ্দীন মাদ্রাসা। আল্লামা মোঃ ইদ্রিস, পরিচালক-ইনানী মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা। আল্লামা আতাউল করিম, পরিচালক- জামিয়াতুল আবরার কক্সবাজার। আল্লামা আবদুস সাত্তার পরিচালক-দারুত তাহযীব মাদরাসা, থাইংখালী। আল্লামা শামসুল আলম পরিচালক-দারুল ইরফান উনচিপ্রাং। আল্লামা জাহেদুর রহমান, পরিচালক-কক্সবাজার দারুচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসা। আল্লামা জসিম উদ্দিন পরিচালক-এমদাদিয়া মাদরাসা, লম্বাবিল। আল্লামা আবদুচ্ছালাম, পরিচালক-আলহাছান মাদ্রাসা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •