সংবাদদাতা:

লবণ চাষী আলী হোসেন উজানটিয়া ইউনিয়নের ষাড়দুনিয়া পাড়ার বাসন্ধা। দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে অভাব অনটনের সংসার। মাঝে মধ্যে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করলেও লবণ চাষের প্রতি তার আকর্ষন খুব বেশি। তত বেশি মুনাফা না পেলেও বাপ দাদার পুরনো পেশা যেন তারে কোনমতেই ছাড়েনা। প্রতি বছর কয়েক একর লবনের মাঠ বর্গা নেন তিনি। গত বছরও বর্গা নিয়েছিলেন প্রায় এক একর লবনের মাঠ। তবে জমিদারের সাথে ভাগ বাটোয়ারা করে শেষমেষ যেন পরিশ্রই বৃথা তার। এবছর ও তিনি দুই একর লবনের মাঠ বর্গা নিয়েছেন স্থানীয় এক জমিদারের কাছ থেকে। সমান ভাগে ভাগ দিতে হবে জমির মালিককে। তবে লবণ জমিদার ছাড়া কাউকে বিক্রিও করতে পারবেন না তিনি। বর্তমান লবণের দাম জিঙ্গেস করতেই তার মুখে যেন হতাশার ছাপ।

দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন- দাম কত জানিনা তবে জমিদার হয়তো মণ প্রতি একশ আশি টাকা করে দিবেন। সরকার ঘোষিত ন্যায্য মুল্য তিনি জানেন কিনা জানতে চাইলে, বলেন শুনেছি প্রতিমণে ৩শ টাকা বা তার বেশি। কিন্ত তিনি কম দামে দেন কেন বলতেই তার মুখটা যেন ভার হয়ে গেলো। কি আর বলবো ভাই আমরা গরীব মানুষ পরিশ্রই করি এতো কিছু কি আর প্রতিবাদ করতে পারি? করলে আগামীতে আর মাঠ পাবো না।

তার মতোই কথা হচ্ছিল মধ্যম উজানটিয়ার বাসিন্ধা লবণচাষী আব্দুল মন্নানের সাথে তিনিও জানালেন একই কথা । তবে তিনি এবার জমি বর্গা নেননি। তিনিও জানেন না শহরে লবণের দাম কত? সেও একই কথা জানালেন লবণের নায্য মুল্য পান না তারা। তিনি এটাও জানালেন যে স্থানীয় সিন্ডিকেট তাদের নির্ধারিত মুল্যে লবণ দিতে বাধ্য করেন। এ ছাড়া একই এলাকার লবণচাষী নুরুল আবছার, নতুন ঘোনার লবণ চাষী মহসিনও জানালেন তাদের হতাশার কথা। তারা অবশ্য এর জন্য স্থাণীয় দালাল সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছে।

স্থানীয় সমাজকর্মী মো. মুজিবুর রহমান বলেন, আমরা শুনেছি সরকার প্রতিমণে ৪টাকা মুল্য নির্ধারন করে দিয়েছেন। কিন্ত সেটা প্রান্তিক পর্যায়ে আসতে আসতে অদৃশ্য কারনে তার অর্ধেকেরও বেশি কমে যাচ্ছে। এরকম হলে তিনি ভবিষ্যতে মানুষ এ শিল্পেরে প্রতি আকর্ষন হারাবে বলেও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বিসিক কক্সবাজারের জুনিয়র অফিসার মুহাম্মদ ইদ্রিছ বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি এবং ইতিমধ্যেই মন্ত্রনালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আশা করছি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন। এদিকে চলতি মৌসমে উপজেলার প্রায় (৮৬৮০) একর জমিতে জমিতে লবণ চাষ করা হচ্ছে যেখানে প্রায় (৩৮৭০) জন চাষী কাজ করছেন। যেখানে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে দালাল সিন্ডিকেট মুক্ত করে প্রান্তিক পর্যায়ে নায্যমুল্য প্রতিষ্টার দাবী জানেিয়ছেন চাষীরা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •