cbn  

শাহেদ মিজান, সিবিএন:

উপজেলা নির্বাচনে আবারো প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিলেন মহেশখালী উপজেরা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ¦ হোসাইন ইব্রাহিম। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) পারিবারিক এই বৈঠকের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। হোসাইন ইব্রাহিম নিজেই এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হোসাইন ইব্রাহিমের পারিবারিক এক সূত্র জানায়, এতদিন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান হোসাইন ইব্রাহিম আর নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তে স্থির ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে পারিবারিক ও দলীয় লোকজনের অনুরোধ এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় তিনি প্রার্থী হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েই তিনি নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ওই সূত্র জানায়, নির্বাচন প্রসঙ্গ নিয়ে বুধবার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কালারমারছড়ার বাড়িতে এক বৈঠক করেন হোসাইন ইব্র্রাহিম। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ওই বৈঠকে নানা কথার পর সবার পরামর্শে আবারো প্রার্থী হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হোসাইন ইব্রাহিম বলেন, ‘নানা কারণে আর নির্বাচন না করার স্থির করেছিলাম। কিন্তু শেষ মুর্হূর্তে এসে পরিবার ও দলীয় শুভাকাঙ্খী এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা আমাকে নির্বাচন করতে বলছেন। তাদের কথা রাখতে গিয়ে আমি আবারো প্রার্থী হওয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করতে চাই। আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবো এবং শহীদ পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দাবি রাখি। নৌকার মনোনয়ন পেলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আর্শিবাদে আমি আবারো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবো।’

তাকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করার ব্যাপারে দলের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা তাকে সবুজ সংকেত দিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ১ মার্চ মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার পাশা। দলের মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে কক্সবাজার জেলার প্রথম শহীদ মোহাম্মদ শরীফ চেয়ারম্যানের পুত্র হোসাইন ইব্রাহিম। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। নির্বাচিত হওয়ার নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পাঁচটি বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। মহেশখালী উপজেলাকে উন্নয়ন আর শান্তি-শৃঙ্খলায় উন্নত করার চেষ্টা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের জন্য কিছুই করিনি। আমার পাওয়া সীমিত বরাদ্দ এবং ক্ষমতাকে মহেশখালীর সর্বস্তরের মানুষসহ মহেশখালীর সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবহার করেছি। এটাকে অর্জন নয়; আমার দায়িত্ব হিসেবে মনে করছি। আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হলে সময়টা ঠিক সেভাবে ব্যবহার করবো।’

এদিকে উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন হোসাইন ইব্রাহিমের ভাতিজা কালারমারছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তারেক শরীফ। আগে থেকেই তিনি প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু হোসাইন ইব্রাহিম প্রার্থী হলে তিনি প্রার্থী হবেন না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •