cbn  
মুহাম্মদ  শাহ জাহান, ইউএই :
নাজমুন নাহার, বাংলাদেশের তরুণদের কাছে অতি পরিচিত একজন পর্যটকের নাম। ইতিমধ্যেই যার ঝুলিতে জমা হয়েছে ১২৫টি দেশ ভ্রমণ ও বিশ্বের দরবারে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানোর কৃতিত্ব। যেখানে যান, সেখানেই থাকে লাল সবুজের পতাকা। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দিনক্ষণ ঠিক করে ফিরছিলেন দেশে। সে উদ্দেশ্যে স্টকহোম অরলান্ডা এয়ারপোর্ট থেকে নরওয়েজিয়ান এয়ারলাইন্সের ডি ওয়াই ৫৬০১ নম্বর ফ্লাইটে রওনা দেন তিনি। ফিরতি পথে গত সোমবার দুবাইতে ছিল তার যাত্রা বিরতি। তার আত্মীয় ইউ এ ই প্রবাসী মকবুল হোসেন সরকার দম্পতি ও প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দরা তাকে দুবাই বিমান বন্দরে স্বাগত জানান।
অল্প সময়ের দুবাই যাত্রায় বিশ্ব ভ্রমণের গল্প শোনাতে ভুল করেনি নাজমুন নাহার।
সকাল থেকে রাত বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএই’র তত্বাবধানে তিনি ঘুরেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে বাণিজ্যিক শহর দুবাই। যাতায়াতে প্রায় তিন’শ কিলোমিটার হলেও একজন পর্যটকের জন্যে অত্যন্ত সহজ হয়ে ধরা দেয় দিনটি। আধুধাবির শেখ খলিফা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুলে ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষকদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি যেমন তাকে আনন্দিত করে তেমনি বাংলাদেশের গর্ব হিসেবে স্মৃতি পাতায় ধরে রাখতে তার সঙ্গে তোলা ছবি আর অটোগ্রাফ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের দৃশ্যটি ছিল মনে রাখার মত। বিশেষ করে বাংলাদেশ স্কুলের প্রিন্সিপাল মীর আনিসুল হাসান সহ শিক্ষক শিক্ষিকাদের ভালোবাসা পেয়ে তিনি তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অধ্যক্ষ মীর আনিসুল হাসান আরো বলেন নাজমুন নাহারে বিশ্বজয়ী এই কথা আমাদের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের মাধ্যমে নাজমুন নাহারকে আমরা স্কুলে পেয়ে সত্যি অসম্ভব ভালো লাগছে, প্রেসক্লাবের প্রতি কৃতজ্ঞতা  প্রকাশ করেন। বিকেলের পড়ন্ত রোদে নাজমুন নাহার যোগ দেন দুবাইয়ের বিখ্যাত মামজার সৈকতে। সেখানে বসে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ইউএই’র আয়োজনে স্মৃতিচারণ আর আড্ডার অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন রাস আল খাইমা বাংলাদেশ ইসলামিয়া স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি পেয়ার মোহাম্মদ। আমিরাতে কর্মরত সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে নাজমুন সেসব তার বিশ্ব ভ্রমণের গল্প তুলে ধরেন।
নাজমুন নাহার বলেন, ‘মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবির দেশে কবিতার দেশে, জ্যাক কেরুয়াকের ‘অন দ্য রোড’, এরিক উইনারের ‘দ্য জিওগ্রাফি অব ব্লিস’ সুজানা রবার্টসের ‘ অলমোস্ট সাম হয়ার’, চেরিল স্টেরয়েডের ‘ওয়াইল্ড: ফ্রম লস্ট টু ফাউন্ড’ অন দ্য প্যাসিফিক ক্রেস্ট ট্রেইল’, এবং মাসুদ রানা সমগ্র বইগুলো ও বিভিন্ন ট্রাভেল ব্লগার্সদের ব্লগ গুলো আমাকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করেছে!’
তিনি বলেন, ” আমি একাই সব কাজ করতে পছন্দ করি, একা পথ চলতে যেয়ে পড়ে গেলে আবার একাই উঠে দাঁড়াই, তাতে আমার সাহস এবং আত্ববিশ্বাস বেড়ে যায়! তাই আমি একাই নির্ভয়ে বিশ্বের পথে পথে হাঁটছি”!
বাংলাদেশের পতাকা হাতে তিনি  বিশ্ব শান্তির এক অনন্য দূত হিসাবেও কাজ করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বে! ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল এডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে তার প্রথম বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়! সে সময় তিনি ভারতের ভুপালের পাঁচমারিতে যান। এটিই তাঁর জীবনের প্রথম বিদেশ ভ্রমন! বিশ্বের আশিটি দেশের ছেলেমেয়ের সামনে তখন তিনি প্রথম বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন! সেই থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তার বিশ্ব যাত্রার  শুরু! এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ৯৩তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন নিউজিল্যান্ড! এই দুর্দান্ত সাহসী নারী একে একে বাংলাদেশের পতাকাকে পৌঁছান সর্বোচ উচ্চতায়!  বাংলাদেশের এই নারী ২০১৬ ও ২০১৭ সালে টানা ঘুরেছেন ৩৫টি দেশ! ২০১৮ সালে তিনি পৃথিবীর মানচিত্রের ৩২ টি দেশ সফর করেছেন!
স্মৃতিচারণ ও আড্ডার ফাঁকে নাজমুন নাহারের হাতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউএই’র পক্ষ থেকে তুলে দেয়া হয় সম্মাননা স্মারক, প্রেসক্লাব স্মৃতিগ্রন্থ। এসব প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রেসক্লাবের তত্বাবধানে নাজমুন নাহার বাংলাদেশ দূতাবাস ও দুবাই বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •