cbn  

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ বিপিএম (বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল) এ ভূষিত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ শাখা-২ এর ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেলে উপসচিব ফারজানা জেসমিনের স্বাক্ষরে জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.মাসুদ হোসেন সহ সারাদেশে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ৩৪৯ জন বিপিএম ও পিপিএম পুরস্কারের জন্য চূড়ান্ত মনোনিত হয়েছেন। প্রজ্ঞাপনে পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেনের নাম ১৫ নম্বর ক্রমিকে রয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও র‍্যাব-৭ এর আরো ৫ জন পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন-কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার, টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, একই থানার এসআই (নিরস্ত্র) শরিফুল ইসলাম, র‍্যাব-৭ এর মেজর মেহেদী এবং কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট শাহেদ মাহতাব।

বিপিএম পুরস্কার প্রাপ্তির পর কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন এ প্রতিবেদকের কাছে মুঠোফোনে তাঁর প্রতিক্রিয়ায় মহান আল্লাহরাব্বুল আলামীনের দরবারে শোকরিয়া জ্ঞাপন করে বলেন-এ পুরস্কার পুরো জেলা পুলিশের অবদান। তিনি এজন্য জেলা পুলিশের সকল সদস্য ও জেলার সকল নাগরিকদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বিরল সম্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বিপিএম(বার), স্বরাষ্ট্রসচিব, চট্টগ্রাম রেন্ঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক (বিপিএম-পিপিএম) সহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন বলেন-জেলার একটি বাহিনী প্রধান হিসাবে আমাকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু এ অবদান জেলা পুলিশে সকল সদস্য, সিভিল প্রশাসন, অন্যান্য শৃঙ্খল বাহিনী, জেলার আপম জনগনের জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান-অপরাধ দমনে পুলিশিং অপারেশনে ব্যাপক সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ সাহসিকতা ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে এই জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। তিনি জানান, জাতীয় পুলিশ সেবা সপ্তাহ-২০১৯ উপলক্ষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকাস্থ রাজারবাগ পুলিশ হেডকোর্য়াটারে জাতীয় পুলিশ প্যারেড ও কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহন করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুষ্ঠানেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন সহ পুলিশের রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ৩৪৯ জনকে এই গৌরবময় সম্মাননা প্রদান করতে পারেন বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন জানিয়েছেন। তিনি জানান-এ বিশাল অর্জন শুধুমাত্র জেলা পুলিশ বিভাগের জন্য নয়, পুরো কক্সবাজার জেলাবাসীর জন্য এটা বিরাট সম্মান ও মর্যাদার বিষয়। তিনি বলেন- ভাল কাজের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আমরা খুবই খুশী। এ বিরল সম্মান একদিকে, কক্সবাজার জেলা পুলিশের নিয়মতান্ত্রিক কর্মে উৎসাহ ও গতিশীলতা বাড়াবে এবং অন্যদিকে, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নিঃসন্দেহে অনেক বৃদ্ধি পাবে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন কক্সবাজারে যোগদানের পর কক্সবাজারের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি হয়। ইয়াবা, মাদক, মানবপাচারকারী, সন্ত্রাসী সহ পেশাদার অপরাধীদের মূর্তিমান আতংক হিসাবে সর্বত্র তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠে। সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের কারণে পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন গণমানুষের একজন প্রকৃত বন্ধু হিসাবে খ্যাতি অর্জন করে। তাঁর গঠনমূলক কর্মকান্ডে পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে ইতিবাচক ধারণা জম্মাতে থাকে। “দুষ্টের দমন-শিষ্টের পালন”-ই যেন পুলিশ বিভাগের কাজ-এই প্রবাদ বাক্যকে অক্ষরে অক্ষরে পালনের নিরন্তর চেষ্টা ছিল তাঁর অবিরাম। কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকার সশস্ত্র জলদস্যুদের মহেশখালীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দুঃসাহসিক সাফল্য ছিল পুরো পুলিশ বাহিনীর জন্য এক বিশাল অর্জন। পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেনের কক্সবাজারে গত ৫ মাসের স্বল্পসময় দায়িত্বপালনকালীন সময়ে দৃঢ়চেতা ও সাহসী ভূমিকায় চোরাকারবারের গেটওয়ে হিসাবে পরিচিত এ অন্ঞ্চলের সব ধরণের চোরাকারবারী ও দূষ্কৃতিকারীরা অনেকটা অসহায় ও কোনঠাসা হয়ে পড়ে। তাঁর আপোষহীন ভূমিকায় অপরাধীরা বাধ্য হয়ে অপরাধকর্ম থেকে দূরে সরতে থাকে।
উল্লেখ্য, বিগত সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ.বি.এম মাসুদ হোসেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার হিসাবে যোগদান করেন। তৎকালীন বিদায়ী পুলিশ সুপার ডঃ এ.কে.এম ইকবাল হোসাইন থেকে তিনি দায়িত্ব গ্রহন করেন। তার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ অধিশাখার বিগত সালের ৯ সেপ্টেম্বর জারীকৃত এক প্রজ্ঞাপনে ডিএমপি’তে উপ পুলিশ কমিশনার হিসাবে কর্মরত এবিএম মাসুদ হোসাইন (বিপি-৭৫০১০৮১৮৮৮)কে কক্সবাজারের নতুন পুলিশ সুপার হিসাবে নিয়োগ দিয়ে কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার ডঃ এ.কে.এম ইকবাল হোসাইনকে টুরিষ্ট পুলিশের পুলিশ সুপার হিসাবে বদলী করা হয়।

বরিশালে জন্মগ্রহণকারী পুলিশ সুপার এ.বি.এম মাসুদ হোসেন ২৪ তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন মেধাবী ও চৌকস পুলিশ অফিসার। পুলিশ সদর দপ্তরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) পদে দায়িত্বপালনকালীন সময়ে ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি পান। বিগত সালের ১১মার্চ তিনি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ

কমিশনার (ওয়েলফেয়ার এন্ড ফোর্স) হিসাবে বদলী হয়ে সেখানেও তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে গত ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং তাঁর সহধর্মিনীর নাম জেনিফার মাসুদ। মাসুদ – জেনিফার দম্পতির ইসা ও মুসা নামক দু’জন ফুটফুটে চোখজুড়ানো জমজ পু্ত্রসন্তান রয়েছে।

স্বামী’র জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় সহধর্মিনী জেনিফার মাসুদ বলেন-ওনি সবসময় দায়িত্ব পালনের প্রতি সিরিয়াস থাকতো। ফলে পরিবারের প্রতি বেশী খোঁজ খবর রাখতে পারতেননা। তাই আমার সবসময় মন খারাপ থাকলেও ওনাকে সেটা বলতামনা। আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর কাজের স্বীকৃতি পাওয়ায় আমি আনন্দিত ও শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। সংসারে প্রতি তাঁর সামন্য উদাসীনতা থাকলেও সেটা এখন আর কিছুই মনে নেই। জেনিফার মাসুদ তাঁর পরিবার, জেলা পুলিশ ও জেলাবাসীর সাফল্যের জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •