ইশতিয়াক আহমেদ জয়ঃ
গতকাল (২৬ জানুয়ারী) টেকনাফের ইয়াবা কারবারীদের আত্মসমর্পণের প্রসঙ্গ শিরোনামে আমার ফেইসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট শেয়ার করার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আত্মসমর্পণের বিষয়ে আমার কাছের কিংবা দূরের পরিচিত অপরিচিত নানান জনের নানান রকমের করা মন্তব্যে এবং পুরা প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের শংকা,হতাশা ও ক্ষোভের বহি:প্রকাশ আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

অনেকেই আমাকে সেলফোনে সরাসরি ফোন করে তাদের মতামত কিংবা শংকার কথা তাদের মতোন করে বলার বা বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।

পুরো ব্যাপারটা নিয়ে গতকাল দুপুর থেকে এখন পর্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করার পর বুঝলাম আত্মসমর্পন প্রক্রিয়ার আয়োজনটি চলছে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে।সাধারন জনগনের কাছে এই আয়োজনের সব কিছু অস্পষ্ট হওয়াতে সবখানেই কেমন যেন এক মিশ্র প্রতিক্রিয়া ফুটে উঠেছে।

মোটকথা আত্মসমর্পণ পুরা প্রক্রিয়া নিয়ে অন্ধকারে রয়েছেন কক্সবাজারের অধিকাংশ মানুষ।অনেকেই বলছেন এটা ইয়াবার বড় কারবারিদের জীবন রক্ষার কৌশল মাত্র।তারা বন্দুকযুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে এবং নিজেদের কলঙ্ক মুক্ত করে সব অবৈধ অর্জন হালাল করতে নিজেরাই এই পথ তৈরি করেছেন।

যাইহোক..
আমি কেন ব্যক্তিগত ভাবে ইয়াবা কারবারীদের আত্নসমর্পনের পক্ষে নই তার বেশ কয়েকটা কারন গতকাল আমার পোস্টে তুলে ধরেছিলাম।

ধরুন আজ আমি আত্নসমর্পনের পক্ষে আত্মসমর্পন করে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা মূলস্রোতে ফিরে আসুক এটা আমি ও চাই। তবে তা হোক যথাযত নিয়ম ও কিছু শর্ত মেনে।

শর্তগুলো অনুসরন করে কারবারীদের আত্নসমর্পন করানো হয় তাহলে পুরো বিষয়টিকে আমি সহ দেশের লক্ষকোটি মানুষ সাধুবাদ জানাবে।

আমার শর্তগুলো হচ্ছে —

১▪️প্রশাসনকে আত্নসমর্পনের পুরো প্রক্রিয়াটি কিভাবে সম্পন্ন হবে তা গনমাধ্যমের মাধ্যমে পরিষ্কার করা।

২▪️জলদস্যুদের কাছ থেকে যেমন আত্মসমর্পণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র জমা নেয়া হয় ঠিক তেমনি ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অস্ত্র হচ্ছে অবৈধ পথে উপার্জিত অঢেল অর্থ-সম্পদ। তাদের নামে বেনামে থাকা সমস্ত অর্থ সম্পদ আত্মসমর্পণের সময় যেন রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয় তা নিশ্চিত করা।

৩▪️আত্নসমর্পনের পরবর্তী পর্যায়ে তাদের সর্বোচ্চ ১০ বছর থেকে সর্ব নিম্ন ৩ বছর কারাদন্ড নিশ্চিত করা।

৪▪️অভিযোগ আছে বদিকে এড়িয়ে কোন কারবারী আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় যেতে পারছেন না।কেউ নিজ উদ্যোগে আত্মসমর্পণ তালিকায় নিজের নাম অন্তভুক্তি করতে চাইলেও বদির মাধ্যম ছাড়া তা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছে না।

অনেকেই বলছেন বদি তার আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীদের রক্ষা করার জন্যই এই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়াটার বিষয়টি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিশেষ এই মিশন বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন।

তাই অনতিবিলম্বে আত্নসমর্পনের সকল প্রক্রিয়া থেকে বদির সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধকরণের দাবি জানাচ্ছি।

৫▪️স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ সকল সংস্থার তৈরি সর্বশেষ ৭৩ জনের মূল যেই ইয়াবা কারবারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সেই তালিকায় বদিসহ তার আপন ৫ ভাই ও এক বোন এবং তার ২৬ জন নিকটআত্মীয়ের নাম রয়েছে।

ইতিমধ্যে বদির আপন তিন ভাই কক্সবাজার পুলিশ লাইনে বিশেষ ভাবে স্থাপিত “সেইফ হোমে” নিজেদের সমর্পন ও করে দিয়েছেন।

সুতরাং বদি কেন এর বাইরে থাকবেন!!
দাবি জানাচ্ছি বদিকেও এই প্রক্রিয়ার আওতায় এনে সকল কলঙ্ক থেকে দায়মুক্তি দেয়া হোক।

-ইশতিয়াক আহমেদ জয়
সভাপতি
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কক্সবাজার জেলা শাখা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •