মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন:

প্রতারণা চক্রের মূল হুতা ভূয়াঁ নৌবাহিনীর কর্তা পরিচয়দানকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোরশেদ আলম মোর্শেদ (৩৫ ) কে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে কক্সবাজার সদরের এক হোটেল থেকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে কুতুবদিয়া ,বাশঁখালী, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর থানাসহ একাধিক থানায় প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা রয়েছে। সেনা, নৌ, বিমান বাহিনীতে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধশত যুবক থেকে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অধিকাংশ যুবকের মুল সাটিফিকেট জমা নিয়ে আর ফেরত দেয়নি। অনেক যুবক বর্তমানে মুল সাটিফিকেটে হারিয়ে কোথাও চাকুরীর জন্য আবেদন করতে পারছে না।

জানা গেছে, এ প্রতারকের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক জি.আর ৮৬১/১৫ মামলায় ঘটনা সাক্ষি প্রমানে প্রমানিত হওয়ায় আদালত তাকে দেড় বছরের বিনাশ্রম সাজা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সে পলাতক ছিল বলে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত ) আমিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে মাদক, প্রতারণা, বিভিন্ন বাহিনীতে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এই প্রতারক কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার মনোহরখালী বানু বাপের পাড়ার আবুল ফজলের ছেলে মোরশেদ আলম মোর্শেদ । সে এক সময় নৌবাহিনীতে কর্মরত ছিল। প্রতারণার কারণে সামরিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এক বছর জেল হাজতে ছিল বলে সে স্বীকার করেছেন।

এরপর বিভিন্ন যুবক থেকে নৌ, সেনা, বিমান বাহিনীতে চাকুরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকে।

প্রতারণার শিকার কুতুবদিয়া দ্বীপের পূর্ব আলী আকবর ডেইল গ্রামের যুবক আবু নাঈমের থেকে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা, বড়ঘোপ মিয়ার পাড়ার যুবক আবু বক্করের থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, আলী আকবর ডেইল কিরণ পাড়ার সোলতানুল মুবিন থেকে ৯০ হাজার টাকা, আলী আকবর ডেইল কিরণ পাড়ার মোঃফারুকের থেকে দুই লাখ টাকা, মধ্যম কৈয়ারবিল ওসমানগনীর থেকে দুই লাখ টাকা, বড়ঘোপ ঘোনারমোর আরিফুল্লাহর থেকে দুই লাখ টাকা, মধ্যম কৈয়ারবিল রোর্ড পাড়ার আজিজের এক লাখ ৩০ হাজার টাকা, মধ্যম কৈয়ারবিল এলাকার হুমায়ুন কবিরের থেকে দুই লাখ টাকা, বড়ঘোপের হকার মোয়াজ্জেজেমের থেকে ১২ হাজার টাকা, বাশঁখালী উপজেলার শেখেরখিল এলাকার মোঃ জামাল উদ্দিনের থেকে ৬০ হাজার টাকাসহ আরো অসংখ্য যুবক প্রতারনা ফাঁদে পড়ে টাকা দিয়েছে তাকে।

এ ছাড়াও সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোর্শেদ পুলিশের নিকট আটক হওয়ার পর শিকার করে যে, তাদের সিন্ডিকেটের প্রতারকচক্র একই এলাকার হাবিব, আবু ওমর, শাকের ,শফি, মফিজসহ দুই ডজন প্রতারকের নাম প্রকাশ করে।

এ পর্যন্ত আটক মোর্শেদ তিনটি বিয়ের কথা (কক্সবাজার কলাতলী, চট্টগ্রাম বায়েজিদ, নোয়াখালী) পুলিশের নিকট নিজেই স্বীকার করেছে। ইয়াবা সেবন নেশায় জড়িয়ে পড়লে ইয়াবা কেনার টাকা জোগাড় করার জন্য সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র সুকৌশলে প্রতারণা করে যুবকদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে শিকার করেন।
আবার এ সংঘবদ্ধচক্র বিভিন্ন জন বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনীতে চাকুরী করে এমন প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল যুবতী নারীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণামুলক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •