মুহাম্মদ উল্লাহ মাহদী
পৃথিবীর সর্ব শ্রেষ্ঠতমের মধ্যে অন্যতম একটি শহর মক্কাতুল মোকাররমার পর দ্বিতীয় যে স্থকন মদিনা আল-মুনাওয়ারা। যে ভূমি হয়েছে ধন্য ও আলোকিত। পৃথিবীর শ্রেষ্টতম মহামানব বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের মাধ্যমে ও সাহাবায়ে কেরামের ত্যাগের মহিমায় ও পদচারণায় মূখরিত এ ভূমি। মুহাজির ও আনসারদের মিলন কেন্দ্র। এটি মহাগ্রন্থ আল কোরআন নাযিলের ও অন্যতম ভূমি এবং মহাসম্মানিত শ্রেষ্ঠতম ফেরেশতা জিবরাঈল (আঃ) আগমনের শহর। ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর দর্শণীয় স্থানগুলো জীবন্ত সাক্ষী হিসাবে অবিস্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে হাজ্বীদের মনের মনিকোটায় স্থান করে নিয়েছে। জিয়ারতকারীদের অজান্তে দু’চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে, আত্নসংবরণ করতে পারেনা।
মুমিনেরা একবার এ শহরে আসলে দ্বিতীয়বার আসার জন্য ব্যাকুল হয়ে যায়। সোনার মদিনায় ফিরে আসার অদম্য বাসনা জাগে। এর শ্রেষ্ঠত্ব মর্যাদা অপরিসীম। এর পূর্ব নাম ছিল ইয়াসরিব। আমাদের প্রিয় নবী (সাঃ) এর নামকরণ করেছেন মদিনা মুনাওয়ারা। মদিনা অর্থ শহর। মুনাওয়ার অর্থ আলোকিত, উজ্জ্বল। এর আর অন্যতম নাম হলো অর্থ উত্তম, ভাল।
নবী (সাঃ) বলেন, আল্লাতায়ালা মদিনাকে তাবা (উৎকৃষ্ঠ বলে নামকরণ করেছেন।(মুসলিম শরীফ) প্রতিনিয়ত এ শহরটি দূর দূরান্ত থেকে আগত হাজ্বীদের পদচারণায় তার স্বকীয়তায় সজীব ও প্রাণের পরশ পেয়েছে। পথ হারা পথিকদের আলো বিকিরণ করে থাকে।কঠিন হৃদয়ের মানুষ ও মোমের মত গলে যায় এ শহরে অবস্থান করার সুবাদে। আইর এবং ছাওর পাহাড়ের মধ্যের স্থানটিকে নবী (সাঃ) হারাম ঘোষণা করেছেন। এখানে বিনা কারণে রক্তপাত, গাছ কাটা, পাখি শিকার নিষিদ্ধ তথা হারাম করা হয়েছে।
নবী (সাঃ) বলেন, মদীনায় দাজ্জাল প্রবেশ করতে পারবেনা। তার প্রত্যেক দরজায় ফেরেশতারা পাহারায় থাকবে (বোখারী)। খারাপ কুচক্রী মানুষ এ পবিত্র ভূমিতে বসবাস করতে পারেনা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। নবী (সাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মদীনাবাসীর সঙ্গে ষড়যন্ত্র করবে সে লবণ দ্রবীভূত হওয়ার মত গলে যাবে (বোখারী)।
মদিনা মানুষের অনিষ্ঠ দূর করে যেমন নাকি কামারের হাফর লোহার মরিচা দূরীভূত করে ফেলে (বোখারী)।
নবী (সাঃ) এ শহরের জন্য বরকতের জন্য দোয়া করেছেন।
এটি ইসলামী রাষ্ট্রের প্রথম ভিত্তি এবং রাজধানী ছিল। খেলাফতের সূচনা হয় এ পবিত্র ভূমি থেকে। নবী সাঃ পত্র দিয়ে দূত মারফত বিভিন্ন রাষ্ট্রে ইসলামের সুমহান দাওয়াত পৌছান এবং জিহাদে অংশ গ্রহণ ও সেনা প্রেরণ করেন।
নবী সাঃ নিজ অর্থ ব্যয়ে সোহেল ও সুহাইল নামক দুই এতিম বালক থেকে জমি ক্রয় করে মসজিদে নবব্বী নির্মাণ করেন, নির্মাণ কাজে নবী সাঃ নিজে ও অংশ গ্রহণ করেন।বুখারী ও মুসলিম শরীফে এসেছে যেখানে এক সালাত আদায় করার মাধ্যমে এক হাজার হাজার সালাত আদায়ের ছওয়াব রয়েছে। নবী সাঃ যখন মদীনায় হিজরত করেন সর্ব প্রথম মসজিদে কুবার স্হানে তার উটনী কচুয়া আবু আয়ুব আনসারী রাঃ বাড়ীর সামনে বসে পড়ে ছিল। যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়েছিল, সেখানে তিনি দূরাকাত সালাত আদায় করেছিলেন, যা উম্মার জন্য শ্রেষ্ঠতম উপহার হিসাবে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন দূ রাকাত সালাত আদায়ের মাধ্যমে একটি ওমরা ছওয়াব পাওয়া যাবে। (মুসনাদে আহমদ)। উল্লেখ যোগ্য স্হান গুলির মধ্য রয়েছে ওহুদের ময়দান, যেখানে ৭০ জন সাহাবী নির্মম ভাবে শহীদ হয় এবং নবী সাঃ দান্দান মোবারক শহীদ হয়। সেখানে দর্শনার্থীদের / যিয়ারতকারীদের অতীত ইতিহাসের সেই করুন কাহিনীর দিকে নিয়ে যায়,এবং হৃদয় বিদারক আবেগের সৃষ্টি হয় চোখের অশ্রু সংবরণ করতে পারেনা।সেখানে কবর বাসীদের সালাম জানায়, এবং মাগফিরাত কামনা করা হয়।
এর পর মাসজিদে কেবলাতাঈন, যেখানে নবী সাঃ চার রাকাত বিশিষ্ট জোহর/ মতান্তরে আসরের সালাত আদায় করা অবস্হায় কেবলা পরিবর্তনের নির্দেশ আসে ইতিপূর্বে দীর্ঘ সতের মাস পর্যন্ত মাসজিদুল আকসার দিকে সালাত আদায় করেন। আল্লাহ বলেনঃ নিশ্চয় আমি আকাশের দিকে তোমার মুখমন্ডল উত্তোলন অবলোকন করছি। তাই আমি তোমাকে ঐ কিবলাহ মুখীই করবো যা তুমি কামনা করছো, অতএব তুমি মাসজিদে হারামের দিকে (কাবার দিকে) তোমার মুখমন্ডল ফিরিয়ে নাও—
(সূরা আল বাকারা ১৪৪)
আরো রয়েছে সাবা মাসজিদ, যেখানে খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, এখানে চমকপ্রদ ঘটনা রয়েছে। বীরে উসমান, ওসমান রাঃ কুপ ক্রয় করে ওয়াকফা করে দিয়েছিল। এ শহরে আরো ঐতিহাসিক স্হান রয়েছে, পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ ধারাবাহিক ভাবে তুলে ধরবো।
এ শহরের মহত্ব ও মর্যাদার কারণে ওমর রাঃ সবসময় দোয়া করতেন হে আল্লাহ আমাকে নবীর শহরে এবং শহীদি মৃত্যু দান করিও, আল্লাহ উভয়টি দোয়া কবুল করেছিলেন, সুবাহানাল্লাহ।
আল্লাহ আমাদেরকে এখান থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবমে পথ চলার তাওফিক দিন,আমিন।

লেখকঃ মুহাম্মদ উল্লাহ মাহদী
সভাপতিঃ কক্সবাজার মাদানী
ফোরাম।
মদীনা আল মনোয়ারা
সৌদি আরব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •