সংবাদদাতা:
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান আগামী ৩০ জানুয়ারীর মধ্যে শহরের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের নির্দেশে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীরা। গত ১৫ জানুয়ারী পাহাড়তলীর স্থানীয় নতুন বাজার চত্বরে এক সভায় এ ঘোষণা দেন তিনি।
পৌরপিতার এই হুশিয়ারীর পর থেকে আত্নগোপনে চলে গেছে দাগি আপরাধীরা। যারা এলাকায় আছে তারাও খুব সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে, পৌরপিতার ঘোষণা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে তা দেখার অপেক্ষায় স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, কক্সবাজার শহরের ক্রাইমজোনের তালিকায় পাহাড়তলী অন্যতম। বাদশামুন্সিঘোনা, ইছুলুরঘোনা, দক্ষিণ পাহাড়তলী, ইসলামপুর, হালিমাপাড়া, জিয়ানগর, সত্তারঘোনাকেন্দ্রিক গড়ে ওঠেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী ও মাদক কারবারী সিন্ডিকেট। এসব এলাকায় রয়েছে ৬ থেকে ৭টির মতো সন্ত্রাসী গ্রুপ। তাদের মধ্যে অন্তঃকোন্দলে মারা যায় বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। কারাবন্দি আছে কয়েকজন ‘টপমোস্ট’ অপরাধী। তবে ইদানিং মাদক কারবার ভয়ানক আকার ধারণ করেছে বৃহত্তর পাহাড়তলীতে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অধরা রয়ে গেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও এসব তথ্য সংরক্ষণে আছে।
আবুল কালাম প্রকাশ বাবুল। পিতা ইসমাইল। পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা। কক্সবাজার সদর মডেল থানার জিআর মামলা নং-৪৮৭/১৪, জিআর মামলা নং-৪৮৮/১৪, জিআর মামলা নং- ৫৫৩/১৩, জিআর মামলা নং-৫৫২/১৩, জিআর মামলা নং- ৭২৮/১২সহ ডজন কাছাকাছি মামলার আসামী। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানায়ও মামলা রয়েছে।
বাদশাঘোনার বাসিন্দা মৃত কাসেম আলীর ছেলে আবুল বশর প্রকাশ ডাকাত বশর। বৃহত্তর পাহাড়তলীর শীর্ষস্থানী ত্রাস। ডাকাত বশর নাম শুনলে মায়ের কোল থেকে সন্তান পড়ে যাওয়ার অবস্থা। এই রকম সন্ত্রাসীরা এখনো বাহাদুরি করে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের।
ডাকাত বশরের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জিআর মামলা নং- ৪৭০/১১, জিআর মামলা নং-৪৬৯/১১, জিআর মামলা নং- ২৩৫/১৬, জিআর মামলা নং-৮৭৫/১৫, জিআর মামলা নং-৩০৫/১৫, এফআইআর নং-৪৯/৪৪০সহ অসংখ্য মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। দখলবাজি, কিলিং মিশনসহ নানা অপরাধে অভিযুক্ত ডাকাত বশর মূর্তিমান আতঙ্ক। তার সহযোগিতায় গড়ে ওঠেছে আরো কয়েকটি গ্রুপ।
পাহাড়তলী এলাকার জাফর আলমের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় জিআর মামলা নং- ৫৫২/১৩, ৫৫৩/১৩, ৪৭৪/১১, ৯৪৩/১২, ৩০৫/১৫ মামলা রয়েছে বলে থানা সুত্রে জানা গেছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জাফর প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলে স্থানীয়রা জানায়।
তথ্য অনুসন্ধান ও এলাকাবাসীর মতে, ইছুলুরঘোনায় চিহ্নিত মাদক কারবারীদের মধ্যে রয়েছে- আবদুল আজিজ, মোঃ শফি, আরিফ, মামুন, আরমান, বোরহান, আবদুর রহিম, জাহেদা, মিনুয়ারা। ছিনতাই, অপহরণ, ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত রয়েছে সন্ত্রাসী ওয়াসিমের ভাই ইয়াছিন ডাকাত, হত্যা মামলার আসামী নেজাম উদ্দিন, আবদুল জব্বার।
দক্ষিণ পাহাড়তলি ইসলামপুর এলাকায় ডাকাতি ও হত্যাসহ অন্তত ৬ মামলার আসামী নূর আহম্মদ অপরাধ জগতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক। তার হাতে পুরো এলাকা জিম্মি। সন্ত্রাসী জিয়াউর রহমান, আবু ছালেহ, জহির আহমসহ তাদের সিন্ডিকেটের সবার নামে অন্তত ৩টি মামলা রয়েছে। তারাও বীরদর্পে এলাকায় বিচরণ করছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বাদশামুন্সি ঘোনায় ইয়াবা ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কাজে জড়িত মোবারক হোসেন, সহযোগী বারেক, জিয়া উদ্দিন, মনির আহমদ, কামাল প্রকাশ কামাইল্যা, ভুলু, রুজিনা।
হালিমা পাড়া এবং সত্তার ঘোনার সন্ত্রাসী এবং ইয়াবা বিক্রেতার মধ্যে রয়েছেন- আবু বক্কর, আবুল হোছন, মোঃ ইলিয়াছ। জিয়া নগরে মাদক ব্যবসায় জড়িত আবদুল হান্নান। এদের আড়ালে আরো বেশ কয়েকজন ইয়াবা গডফাদার জড়িত আছে বলে নির্ভরযোগ্য সুত্র মারফত জানা গেছে। এই এলাকার বর্মাইয়া আয়ুব ইয়াবা গডফাদার আয়ুব নামে পরিচিত। জিয়ানগর হালিমা পাড়ার মীমানায় তার বসবাস। এসব সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের আইনের আওতায় আনার দাবী এলাকাবাসীর।
নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে ইছুলরঘোনা, ইসলামপুর, জিয়ানগর, বাদশামুন্সিরঘোনা, হালিমা পাড়া এবং সত্তার ঘোনার বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানায়, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারীদের কারণে সাধারণ মানুষ উৎকণ্ঠায় থাকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও তাদের চাঁদা দিতে হয়। ভয়ে মুখ খুলতে পারেনা কেউ।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরমেয়র মুজিবুর রহমানের ঘোষণার বাস্তবায়ন চায় ভুক্তভোগি জনগণ। সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের নির্মূল করা না গেলে শহরের এসব জনবসতিপূর্ণ এলাকায় শান্তি ফিরবেনা বলে মনে করে সচেতনমহল।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা জিরোটলারেন্স। অনেক অপরাধীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।  ওসি জানান, সব ধরণের অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •