মোঃ  জয়নাল আবেদীন টুক্কু, নাইক্ষ্যংছড়ি: 
রামু থানার অধীনাস্থ দুর্গম গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সারা দেশের ন্যায় এখানেও নিয়োজিত আছে রাষ্ট্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাহিনী পুলিশ। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় বিগত ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় কক্সবাজার জেলা প্রথম পুলিশ ফাঁড়ীটি। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের যুগান্তকারী প্রদক্ষেপে সম্প্রতি জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে পূর্ণতা পাচ্ছে দীর্ঘ ৮০ বছরের অবহেলিত এই পুরাতন পুলিশ ক্যাম্পটি।

এই ফাঁড়ী প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দায়ীত্ব পালন করে ছিলেন রামু থেকে এসে এক পুলিশ সদস্য। সেই সময় এলাকায় তিনি রব পুলিশ নামে পরিচিত ছিল। এর পরে যাত্রা শুরু করে কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিয়ে এই ফাঁড়ীর ইনচার্জ এর পদমর্যাদায় দায়ীত্ব পালন করতেন হাবিলদার। জাতীয় পার্টির ক্ষমতায় আসার পর এই ফাঁড়ীতে আইসির পদমর্যাদায় থাকতেন এ এস আই। এবং থাকতেন এক জন হাবিলদারও।

১৯ ৯১ সালে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ক্ষমতায় আসার পর একটি টিন সেট ভবন নির্মাণসহ আইসি হিসাবে থাকতো পুলিশের উপ-পরিদর্শক এস আই। ওই সময় তৎকালীন আইসি সাবইন্সপেক্টর আবদুল হক ফাঁড়িতে কাঠ দিয়ে প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। এর পরে এই পুলিশ ফাঁড়ীতে আইসির দায়ীত্ব পালন কারী কর্মকর্তা আবুল কাশেম ও কবির আহাম্মদ ভূঁইয়া বর্তমান ফাঁড়ীর পাকা দেওয়ালের টিন সেট করে মসজিদটি নির্মাণ করেন।

বিগত ২০১৭ সালে সরকার এই এলাকার জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে আইন শৃঙ্খলার যেন অবনতি না হয় সেই জন্য বৃদ্ধি করে জনবল। সৃষ্টি করে একজন পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) এর পদ। এছাড়াও সাবইন্সপেক্টর (এস আই) এক জন, দুই জন এ এস আই ও এক জন এটিএস বা হাবিলদারের পদ। এ পুলিশ ফাঁড়ীতে বিগত ১৭ সালের ১১ জানুয়ারী প্রথম এক জন ইন্সপেক্টর আইসি হিসাবে  কাজী আরিফ উদ্দিন যোগদেন। তিনি সুনামের সহিত এই ফাঁড়ীর আইসির দায়ীত্ব পালন করে গেছেন। তার দায়ীত্ব পালন কালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় কাজী আরিফ উদ্দিন এবং এ এস আই কাউছারের প্রচেষ্টায় ফাঁড়ীর সামনে নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দন একটির বসার স্থান যার রয়েছে চতুর দিকে ফুল গাছ।

এরপর গত ১৮ মে ২০১৮ ইং সনে এই ফাঁড়ীর ইনচার্জ হিসাবে আসেন ববর্তমান পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোঃ আলমগীর। সেও এলাকার বিভিন্ন জনের সহযোগিতা নিয়ে অল্প দিনে বর্তমান কর্মরত পুলিশ সদস্যদের প্রচেষ্টায় ফাঁড়ীতে একটি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে আলিশান অফিস কক্ষ নির্মাণ করেন। সম্প্রতি কক্সবাজারে নবাগত পু্লিশ সুপার এবি এম মাসুদ হোসেন এ অফিসটি উদ্বোধন করেন। ঐদিন এ ফাঁড়ির বিভিন্ন সমস্যার কাথা শুনেন ও নিজ চোখে দেখে যান। তাই জেলা পুলিশের অভিজ্ঞ এ কর্মকর্তা গর্জনিয়া-কচ্ছপিয়ার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং এই ফাঁড়ী পুলিশের সুবিধার্থে নতুন করে একটি পিকআপ গাড়ী আপাতত ব্যবস্থা করে দেন।

গর্জনিয়া ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ আলমগীর জানান, এই ফাঁড়ীর জন্য একটি গাড়ী খুবই প্রয়োজন  ছিল। দীর্ঘদিন পরে হলেও গাড়ীর সমস্যা শেষ হয়েছে।

রামু থানার সৎ ও সাহসী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আবুল মনসুর এ প্রতিবেদককে জানান,দীর্ঘ দিন রামু উপজেলার দুর্গম গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কোন যানবাহন না থাকায় পুলিশ সদস্যরা অনেক কষ্টে দায়ীত্ব পালন করে গেছেন। তাদের মনোবল বৃদ্ধি করতে আমি রামু থানায় আসার পর প্রথমে একটি মটর সাইকেল দেওয়া হয়। পরে ফাঁড়ীর বিভিন্ন সমস্যার কথা বলার পর কক্সবাজারেরর পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের অভিভাবক প্রিয় স্যার এবি এম মাসুদ হোসেন গর্জনিয়া পুলিশের জন্য একটি পিকাআপ গাড়ী ব্যবস্থা করে দেন এবং পরবর্তীতে আরো একটি নতুন গাড়ী এই ফাঁড়ীতে যুক্ত হওয়ার কথা জানান।
তাই ফাঁড়ীটি ক্রমান্বয়ে পাচ্ছে পূর্ণতা ও জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার পেল গাড়ীও।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •